• শুক্রবার   ২৪ মার্চ ২০২৩ ||

  • চৈত্র ১০ ১৪২৯

  • || ০১ রমজান ১৪৪৪

সর্বশেষ:
আগামীকাল সিলেটের আকাশে ‘ফায়ার ফ্লো’  দেশের খাদ্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে : পরিকল্পনামন্ত্রী
৪৯

মাদক ও অপরাধ প্রবণতার জিরো টলারেন্সে জকিগঞ্জ

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২৩  

দেশের সীমান্তবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থানা হচ্ছে সিলেটের জকিগঞ্জ। থানার বিস্থীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে ভারতের একাধিক রাজ্যেরর পাহাড়ি সীমান্ত। এক সময় মাদকের ছড়াছড়িও ছিল মহামারীর মতো। দুই দেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় সময়ের সাথে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে জকিগঞ্জ।

অপরাধীদের বিচরণ বাড়ার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানের অভরান্য হিসাবে পরিচিতিও ছিল বেশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে জকিগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে যোগদান করেন মোশাররফ হোসেন।

অপরাধ প্রবন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক ও চুরি ডাকাতিসহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে নড়েচরে বসেন ওসি মোশারফ।

সিলেটের পুলিশ সুপার এর নির্দেশে মাদককে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসতে অভিযান শুরু করেন নিয়মিত। থানার অনান্য অফিসারদের নিয়ে টিম ওর্য়াকের মাধ্যমে  শুরু করেন মাদক বিরোধী অভিযান। উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চালু করায় ইতিমধ্যে শীর্ষ,ছোট বড় মাদক ব্যবসায়ীরা ওসি মোশারফের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছে অন্যত্র। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও গ্রাম্য বিরোধগুলো বিকল্প পদ্ধতির আওতায় এনে নিস্পত্তির প্রক্রিয়ায় থানায় সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহনে প্রশংসা খুড়িয়েছেন সর্বত্র। যার ধারাবাহিকতায় কাজের স্বীকৃতি সরুপ সিলেট জেলায় ৫ বার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসাবে পুরস্কৃত এবং পুলিশ সপ্তাহ/২০২৩ এর আইজি ব্যাচ-২০২২ প্রাপ্ত হয়েছেন ওসি মোশারফ হোসেন।

জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে দীর্ঘ প্রায় ৫৪ কিলোমিটার। জকিগঞ্জ সীমান্তের উল্টো দিকে ভারতের করিমগঞ্জ ও শিলচর জেলা এলাকা। দুই দেশের সীমান্ত হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধীমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়ার আশংঙ্কা প্রতিনিহত বিদ্যমান। এমন প্ররিস্থিতির মধ্যে মাদক, চুরি, ডাকাতির বিরুদ্ধে অভিযান জোড়দারা করায় ওসি মোশারফ হোসেন জকিগঞ্জে যোগদানের এক বছরের মধ্যে মাদক ও অপরাধীদের স্বর্গ রাজ্য হিসেবে পরিচিত জকিগঞ্জে কমে গেছে অপরাধ প্রবনতা। মাদক ও অপরাধমূলক কার্যক্রমকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসতে ওসি মোশারফের নেতৃত্বে থানা পুলিশের সদস্যরা টিম গঠনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের ফলসরুপ বিগত এক বছরে ওসি মোশরফের নেতেৃত্বে ৩০,৪৯৭ পিছ ইয়াবা,১ ৩৬৯ বোতল অফিসার চয়েজ মদ, ১৮ বোতল ফেনসিডিল ও ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করছে থানা পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে থানায় দায়েরকৃত ৩৩ টি মামলায় ৪১ জন আসামীকে করছেন গ্রেফতার। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির দায়ে অভিযুক্ত প্রধান আসামী ওয়াহিদকে মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ।হত্যা, গণধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় যাবজ্জীবন ও সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা ভুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে সফল অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন ওসি মোশারফ। আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইসমাইল উদ্দিন সেলিম, জাকির হোসনে, বিল্লাল হোসেন বেলাল ও গুলি কামালসহ ডাকাত দলের একাধিক সদস্যদের গ্রেফতার করায় গত এক বছরে জকিগঞ্জ থানায় এলাকায় ঘটেনি কোন ডাকাতির ঘটনা। ওসি মোশাররফ হোসেনের কঠোর নজরদারীতে কমেছে সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন ওসি মোশারফ যোগদানের পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পাশাপাশি ছিনতাই ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে থানা পুলিশের সদস্যরা মাদক, জুয়া নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তৎপর ভাবে কাজ করায় জনে মনে বাংলাদেশ পুলিশের আস্থা ও সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ওসি মোশারফের বিকল্প পদ্ধতিতে পারিবারিক বিরোধ নিস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহনের প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের বেশ আর্কষিত করেছে। দেশের প্রতিটি থানায় এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করলে গ্রাম্য ও পারিবারিক বিররোধ জিরো টলারেন্সে চলে আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তারা।

জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন জানান, থানা এলাকা সীমান্তভর্তী হওয়ায় অপরাধীদের বিচরণ ও জন সাধারণের চলাফেরায় সাংঘাতিক ঝুঁকিপূর্ণ। আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ মাদক ব্যবসা বন্ধ ও মাদকমুক্ত জকিগঞ্জ উপহার দেয়া। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। নিজে অভিযানে যাচ্ছি। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সময়ক্ষেপন না করে সেখানেই অপারেশন চালাচ্ছি। তবে বিগত কয়েকমাসের অভিযানে মাদক ও অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। যতো দিন এখানে থাকবো মাদক ও অপরাধীদের ব্যাপারে কোনো আপসে যাবো না। গ্রাম্য ও পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু করে সবরকমের অবরাধ দমনে থানা পুলিশ বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা ও টিমের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। তাতে সফলতাও আসছে।
 
মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলকে আন্তরিক ভাবে সহযোগিতার আহবান জানান।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার