ব্রেকিং:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
  • রোববার ১৯ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৫

সর্বশেষ:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
২০৮০

স্বাধীনতার ঘোষণা , বঙ্গবন্ধুর রচনা

সম্রাট দেব চৌধুরী

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৪  

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে নিজস্বতম একটি স্বাধীন ভূখন্ড নিশ্চিত করার সংগ্রামটির এক বিশ্বজনীন সূচনা  হয়েছিলো আজকের দিনে। যদিও এর আগেই মার্চ মাসের একদম শুরু থেকেই স্বাধীকারের আন্দোলন যে গতিপথ লাভ করে তা সরাসরি এক মুক্তির সংগ্রামেরই একমুখী যাত্রা ছিলো। কিন্তু সেটির বিশ্বজনীন হয়ে উঠার পরিসর ঘোষিত হয় আজকের দিনে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠতম বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান আজকের দিনেই সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন বাঙালির স্বাধীনতার ঘোষণা। 

আজ সে দিনটিকে ফিরে দেখার সময়। ফিরে দেখাটা জরুরীও, কারণ মাঝখানের অন্ধকার সময়ের সুযোগ নিয়ে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করার একটি ঘটনা ঘটেছে বেশ আয়োজন করে , বেশ দীর্ঘ সময় ধরে। ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধেরই পরাজিত শক্তির রচিত বয়ানে, তাদেরই দোসরদের দ্বারা। হিটলারের জেনারেল গোয়েবলস বলেছিলেন একটা মিথ্যা বারবার বললে তা  এক সময় সত্যে পরিণত হয় । আর ঠিক সেই চেষ্টাটাই করা হয়েছে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে। বারবার এক মিথ্যা শুনতে থাকলে একটা সময় তা  সম্পর্কে এক ধরণের  ন্যুনতম দ্বিধা সৃষ্টি  হয়। আর সেই দ্বিধাটাই কাঙ্খিত থাকে যেকোনো  পরাজিত শক্তির , বিজয়ীর ঐক্য নষ্ট করে ফেলার জন্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরাজিত শক্তি সেই চেষ্টার কোনো কার্পন্যই করেনি। আর তাই তাদের মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যগুলোকে বারবার তুলে ধরার , বারবার আলোচনায় আনার, নিষ্পত্তিকৃত বিষয়গুলোকেও বারবার ভাঙাগড়ার প্রয়োজন আছে বিজয়ী শক্তিরও। আজ তাই আলোচনায় সেই বহু নিস্পত্তিকৃত প্রসঙ্গ- স্বাধীনতার ঘোষক কে?


বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিষ্ঠাতাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার করে খুব জোরেশোরে। তাদের এই প্রচারণার ভিত্তি এই যে সেই ব্যক্তি ১৯৭১ সালে যখন একজন মেজর হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তখন ২৭শে মার্চ তারিখে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা জানিয়ে একটি বার্তা পাঠ করেছিলেন। ওই বার্তাকে ভিত্তি ধরেই সংগঠনটি  তাদের প্রতিষ্ঠাতাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার করে আসছে বিগত কয়েক দশক ধরে। সংগঠনটি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন এমনকি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেও তারা  তাদের প্রতিষ্ঠাতাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে । কয়েকটি প্রজন্মকে তারা বিশ্বাস করিয়ে ফেলতে চেয়েছে যে সেই ব্যক্তিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কেন না ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তারিখে তিনি একটি বেতারকেন্দ্র থেকে একটি বার্তা পাঠ করেছিলেন ! 

প্রশ্ন হল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম কি এক দিনে শুরু হয়েছিলো? ২৭শে মার্চই কি আকাশ থেকে পড়লো বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম ? তা নাহলে একটি দশক জুড়ে চলমান আন্দোলনের তুঙ্গস্পর্শী মুহুর্তে এসে সেনাবাহিনীর অসংখ্য মেজরের মাঝে একজনের করা একটি পাঠ কীভাবে তাকে সেই দীর্ঘ সংগ্রামে অর্জিত স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে দেয়? একটি বিশাল সংগ্রাম , যেখানে সারা বিশ্ব জড়িয়ে পড়েছিলো, যে যুদ্ধ পরিণত হয়েছিলো বিশ্বশক্তিদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে, সেই যুদ্ধের এগারোটি সেক্টরের একটি মাত্র সেক্টরে সাময়িক সময় সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করা, অসংখ্য মেজরের একজনকে কীভাবে সে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবী করা যায়? বিশ্বে সারা বছর জুড়েই নানান দেশে অনেক বিদ্রোহই তো হয়ে থাকে। উচ্চাকাঙ্খী কতো সামরিক অফিসার কতো দেশে বিদ্রোহ করে বসেন ফি বছর। তারাও তো কতো নতুন নতুন রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়ে বসেন। উগ্রবাদী কতো সংগঠনও তো কতো রাষ্ট্রেরই ঘোষণা দেয়। তা কী কখনোই বিশ্বের কাছে ন্যুনতম গুরুত্ব পায়? পত্রিকার শেষ পাতাটির কোনো এক কোণায় জায়গা হয় সেসব খবরের। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিলো সে সব দিক থেকে সম্পূর্ন ব্যতিক্রম। উচ্চতায় অনন্য , তা ৎপর্যে অনুপম , তীব্রতায় অনুপেক্ষণীয়। কেননা , এই যুদ্ধ ছিলো আপামর বাঙালির। সাত কোটি বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের ঘোষণা কোনো একজন ব্যক্তি মানুষের একটি বিচ্ছিন্ন বার্তা পাঠের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। এর পূর্বাপর থাকে, এর যোগসূত্র থাকে সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের সাথে। এর বৈধতা থাকে। স্বাধীনতা কখনো নিছক মুখে মুখে ঘোষণা করা যায় না , কেবল অস্ত্র উঁচিয়ে ঘোষণা করা যায় না। তেমন সম্ভব হলে আজ পর্যন্ত এই বাংলাদেশেরই অনেক অঞ্চল অনেক বার স্বাধীন হয়ে যেতো। কারণ বিভিন্ন সময়ে এই বাংলাদেশেও উগ্রবাদী নানা গোষ্ঠীর স্বাধীনতার ঘোষণার বেশ কয়েকটি  নজির আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম , উত্তরবঙ্গ সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে। তাতে সেই ঘোষণার মূল্য বা গুরুত্ব সৃষ্টি হয় না। কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা নিজের মনমতো দিতে পারে না । একটি অঞ্চলের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে গেলে সেই অঞ্চলের জনগনের সমর্থন লাগে , লাগে সেই অঞ্চলের জনগণ থেকে প্রাপ্ত দায়িত্ব , লাগে অধিকার , লাগে ম্যান্ডেট। আর সেই ম্যান্ডেট ছাড়া কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও তা ভিত্তিহীন হয়ে যায়। 

ঠিক এই কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাটিরও একটি সুস্পষ্ট রুপরেখার মাধ্যমে আসা ভীষণ প্রয়োজন ছিলো, যা এসেছিলো বাংলার জনতার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা , বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। 
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চে মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে এ ঘোষণা দেন তিনি। যা তৎকালীন ইপিআর- এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে, ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার , ঘোষিত হয় বাংলার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

আর স্বাধীনতার ঘোষক কে এই আলোচনা ঠিক এই জায়গায় এসে হয়ে যায়  নিষ্পত্তিকৃত আলোচনা । কারণ বাংলাদেশ নামক কোনো দেশের অস্তিত্বকে স্বীকার করতে গেলেই এর স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে হবে , আর তা করতে গেলে স্বীকার করতে হবে এর স্বাধীনতার দলিলকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর স্বাধীনতার দলিল হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। যে  ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বাকি বিশ্বের সব দেশ স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছে। যে ঘোষণাপত্র প্রাতিষ্ঠানিক দলিল হিসেবে কাজ করেছে বাকি বিশ্বের স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে। বিশ্বের যেক’টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছে তারা মূলত স্বীকৃতি দিয়েছে ওই দলিলকেই। 
আর আমাদের স্বাধীনতার দলিল, মহান স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত ছিলো যে
  " ... সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে
বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি
...আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।"

 অর্থাৎ স্বাধীনতার দলিল ঘোষণা করছে দ্বার্থ্যহীন ভাবে , এ স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এ স্বাধীনতার ঘোষণার অনুমোদনকারী গণপরিষদ , যা গঠিত হয়েছে জনগণের ম্যান্ডেট প্রাপ্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা। আমাদের মাথায় রাখতে হবে অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এই ঘোষণাপত্রকেই বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান বলেও গণ্য করা হয়। 

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র ৩য় খণ্ডে শেখ মুজিবের এই ঘোষণার উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ২৫শে মার্চে মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে এ ঘোষণা দেন তিনি। যা তৎকালীন ইপিআর- এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭শে মার্চ বেশ কয়েকজন শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।


অর্থাৎ এরপর আসলে আর স্বাধীনতার ঘোষক কে সেই প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ  থাকে না। তারপরও একটু দেখে নেওয়া যাক না বাকি বিশ্ব কাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে গণ্য করেছে, বিশ্বের কাছে কে ছিলেন বাংলাদেশের জনতার মুক্তির সংগ্রামের প্রতিনিধি? 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)-এর স্পট রিপোর্টে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়। ডিআইএ স্পট রিপোর্ট ৪৩ এর ১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়- পাকিস্তানের পূর্ব অংশকে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। 

১৯৭১ এ  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এডওয়ার্ড হিথ। তিনি পরবর্তীতে মন্তব্য করেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। ইউরোপের জেনারেলরা মনে করেন, শেখ মুজিব জীবিত থাকুন বা না থাকুন, তারা (পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা) আর বাঙালি জাতিকে সম্পূর্ণ পরাজিত করতে সমর্থ হবে না।’   


সে সময়ের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের স্থান পায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম। চলুন দেখে নিই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কী দৃষ্টিভঙ্গী ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে।

 বিবিসির এক খবরে তখন বলা হয়েছে, ".....কলকাতা থেকে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের খবরে প্রকাশ যে পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এক গুপ্ত বেতার থেকে জনসাধারণের কাছে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।..."

ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছিলো: "....ঢাকায় পাকিস্তান বাহিনী আক্রমণ শুরু করেছে। মুজিবর রহমান একটি বার্তা পাঠিয়েছেন এবং সারা বিশ্বের নিকট সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন..."।

দিল্লির দি স্টেটসম্যানের খবর ছিলো: "বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে রহমানের পদক্ষেপ। একটি গোপন বেতার থেকে প্রচারিত ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পূর্বাংশকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে নতুন নামকরণ করেছেন।"

দি ডেইলি টেলিগ্রাফ, লন্ডন: ২৭শে মার্চ দি ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'সিভিল ওয়ার ফ্লেয়ারস ইন ইস্ট পাকিস্তান: শেখ এ ট্রেইটর, সেইস প্রেসিডেন্ট'শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন ঘোষণা ও ইয়াহিয়া খান তার বেতার ভাষণে শেখ মুজিবকে বিশ্বাসঘাতক বলার কথা উল্লেখ করা হয়।

দি গার্ডিয়ান: গার্ডিয়ানের ২৭শে মার্চ সংখ্যায় এক খবরে বলা হয়, "...২৬শে মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতির উদ্দেশ্যে রেডিওতে ভাষণ দেয়ার পরপরই দি ভয়েস অব বাংলাদেশ নামে একটি গোপন বেতারকেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর এই ঘোষণা অপর এক ব্যক্তি পাঠ করেন।"

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারস হেরাল্ডের ২৭শে মার্চের সংখ্যার একটি খবরের শিরোনাম ছিলো, "বেঙ্গলি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডিক্লেয়ার্ড বাই মুজিব।"

নিউইয়র্ক টাইমসেও শেখ মুজিব ও ইয়াহিয়ার ছবি ছাপানো হয়েছিলো। পাশেই বলা হয়েছে 'স্বাধীনতা ঘোষণার পর শেখ মুজিব আটক'।

বার্তা সংস্থা এপির একটি খবরে বলা হয়, "ইয়াহিয়া খান পুনরায় মার্শাল ল দেয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।"

আয়ারল্যান্ডের দি আইরিশ টাইমসের শিরোনাম ছিলো - পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা আর সাথে ছিলো শেখ মুজিবের ছবি।

ব্যাংকক পোস্টের খবরে বলা হয়, "শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ নাম দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।"

অর্থাৎ সারা বিশ্বের গণমাধ্যম জানতো ও প্রচার করেছিলো যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে। এছাড়াও তিনি আটক হয়ে যাওয়ার পর তার হয়ে আরো একাধিক ব্যক্তি যে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন সেটি উল্লেখ করার সময়েও তারা এ বার্তাই দিয়েছে যে এসব ব্যক্তি মূলত পাঠকের ভূমিকায় ছিলেন , যারা বঙ্গবন্ধুর হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন কেবল। 

অর্থাৎ বাঙালি ও সারা বিশ্বের কাছে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি স্বাধীনতা ঘোষণার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো তাকেই ,বাঙালি লড়তে নেমেছিলো তারই নির্দেশনা অনুযায়ী, বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে এজন্যেই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়েছিলো। এই লড়াই এক দিনের ছিলো না, এই লড়াই কোনো অপ্রত্যাশিত আক্রমণের তা ৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও ছিল না । সাতচল্লিশ থেকে শুরু হওয়া বাংলা ভাষা আন্দোলনের স্রোত ধরে বায়ান্ন, চুয়ান্নো , ছাপ্পান্নো, আটান্নো , বাষট্টি, ছেষট্টি উনসত্তরেরই ধারাবাহিকতা ছিলো। যে বহমান যাত্রার একমাত্র পথপ্রদর্শক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে পথযাত্রার চূড়ান্ত রুপরেখা তিনি ০৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে রেসকোর্সের ময়দানেই দিয়ে ফেলেছিলেন। বিশ্বরাজনীতির শ্রেষ্ঠতম কবিতাটি পাঠ করার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন এক নতুন রাষ্ট্রের আগমনী ধ্বণি।  ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তিনি যদি বেতার বার্তার মাধ্যমে কোন ঘোষণা নাও দিতে পারতেন তাও বাঙালি লড়তো শেখ মুজিবের নামেই। কারণ ২৫শে মার্চ ছিলো এক ধারাবাহিক পথচলার অবধারিত পর্যায় , যেটির দিকে সম্মিলিত বাঙালি এগোচ্ছিলো গোটা মার্চ জুড়েই। মার্চের দ্বিতীয় তারিখেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, গোটা মার্চ জুড়ে প্রতিটি ভাষণে এবং নিজস্ব প্রচারণায় পূর্ব পাকিস্তান শব্দ পরিহার করে পূর্ব বাংলাকে বাংলাদেশ নামে উল্লেখ করা হয়। ২৩শে মার্চ খোদ বঙ্গবন্ধুর নিজ বাসভবন সহ সারা  বাংলাদেশে পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবসে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ জিনিসগুলোই প্রমাণ করে যে ১৯৭১ এর স্বাধীনতার সংগ্রামের একমাত্র একক নেতা ও ভাগ্যপ্রণেতা ছিলেন কেবল এবং কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  যার নেতৃত্বে বাঙালি এনেছিলো বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের নিজস্বতম ভূখন্ডটুকুর স্বাধীনতা।

তাই আজকের দিনে মহান স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম করা সেই পূর্বজদের পবিত্র রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাই সেই মহান পুরুষের প্রতি যার বজ্রকণ্ঠের প্রবল নির্ঘোষে একটি গোটা জাতি পেয়েছিলো স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্খায় উন্মাতাল হওয়ার তীব্রতম অনুভুতির সঞ্চারনা। শ্রদ্ধা জানাই সেই পবিত্র শব্দাবলীকে যার মাঝে নিহিত ছিল বিশ্ববাঙালির মুক্তির মন্ত্র। 
আজকের দিনে তাই নিঃশঙ্ক নিনাদে উচ্চারণ করি – স্বাধীনতার ঘোষণা ,বঙ্গবন্ধুর রচনা!

লেখকঃ কলামিস্ট ও এক্টিভিস্ট

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার