• শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৩ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
দোয়ারাবাজারে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিদর্শনে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার অবশেষে শুরু হচ্ছে সিলেটের সেই দুই সড়কের সংস্কারকাজ করোনা: ফের মৃত্যুর মিছিলে সিলেটে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি ফয়জুল আর নেই

লোকসান আর দেনার দায় নিয়ে বন্ধ হচ্ছে বিকাশ! 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

দেশের এমএফএস'র মার্কেট জায়ান্ট বিকাশ। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকার লোকসান গুনেছে। তার আগের বছর তাদের লোকসানের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। দেশের প্রথম অবস্থানে থাকা একটি এমএফএস'র এমন হিসাব ভয়ংকর এক পূর্বাভাস দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, বিকাশের লোকসানের মাত্রা এতটাই খারাপ অবস্থাতে পৌঁছেছে যে, প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার ব্র্যাক ব্যাংকও তাদের শেয়ার উঠিয়ে নিতে পারে। এর ফলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমএফএস'র মার্কেট জায়ান্ট বিকাশ।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার দেখা পাচ্ছে না। মোটা দাগে গোটা খাতটিই এখন চলছে লোকসানে। এর মধ্যেই মার্কেট জায়ান্ট বিকাশের অবস্থা বেশি সূচনীয়। এদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য উত্থাপিত বাজেটে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট করহার বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। লোকসানে থাকা বিকাশকে এতদিন কর দিতে হয়নি। এখন যদি বিকাশের এই লোকসানের মাঝে আবার কর যুক্ত হয় তবে ব্র্যাক ব্যাংক তাদের শেয়ার উঠিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

সূত্র বলছে, এমএফএস খাতে আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতায় পড়ে গেছে বিকাশ। যার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়, গত তিন বছরে বিকাশ তাদের বাণিজ্যিক ব্যয় আড়াই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে খুব দ্রুতই তারা এই ব্যয় উঠিয়ে ফেলতে পারবে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা হলো এই ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বিকাশ বড় অংকের লোকসানে পড়ে প্রায় বন্ধ হবার উপক্রমে পতিত হয়েছে। 

সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের একটি আর্থিক নিরীক্ষায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। ব্র্যাক ব্যাংক বিকাশের সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার। ব্র্যাক ব্যাংক তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনটিতে বিকাশের নিরীক্ষাও অন্তর্ভূক্ত করে এ প্রতিবেদন দিয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের এক নম্বর এমএফএস অপারেটর বিকাশের ক্ষতি ৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে বিকাশের ক্ষতির পরিমাণ ১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশি। ২০১৯ সালে বিকাশের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকাশের লোকসানের কারণে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যে কারণে চলতি বছরের ৬ মাসে এককভাবে ২৮৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা মুনাফা করা ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারিসহ সমন্বিত হিসাবে তা কমে হয়েছে ২৫৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। তাই ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিকাশ থেকে তাদের শেয়ার উঠিয়ে নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এদিকে ব্র্যাক ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের পাশ থেকে সরে দাঁড়ালে কোম্পানিটি যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, বিকাশ যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেলে তাদের গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়বেন।   

উল্লেখ্য, ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশের পাশাপাশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ ও ব্র্যাক সজন এক্সচেঞ্জ রয়েছে। এরমধ্যে বিকাশের ৫১% মালিকানা রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। এছাড়া ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টসের ৯৯.৯৪৫%, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের ৯০% ও ব্র্যাক সজন এক্সচেঞ্জের ৭৫% মালিকানা ব্র্যাক ব্যাংকের দখলে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার