• মঙ্গলবার   ০৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
সাকিবকে নোটিশ পাঠাল বিসিবি সিলেটের শ্রেষ্ঠ এএসআই মোহাম্মদ অলিউল হাসান এলজিইডি প্রকৌশলীর উপর সন্ত্রাসী হামলা, থানায় মামলা সিলেটের সৈয়দা জেবুন্নেছা হক পেলেন "বঙ্গমাতা" পদক সুনামগঞ্জে কৃষক হত্যায় একজনের আমৃত্যু, ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  ওসমানীতে হামলা: আ.লীগ নেতার ভাতিজার আত্মসমর্পণ অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু
৭০

একসঙ্গে সিলেটের তিন ইউএনও’র ফোন নম্বর ক্লোন

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২১  

সিলেটের তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মুঠোফোনের নম্বর ক্লোন করে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিকেল তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে তিন উপজেলার আটটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে কল দিয়ে টাকা দাবির এ ঘটনা ঘটে। পরে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এ ঘটনার খবর পেয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট, গোলাপগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তিন ইউএনও মঙ্গলবার বিকেল ও সন্ধ্যায় আলাদাভাবে তিনটি জিডি করেন। এর পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এই তিন ইউএনও।

জেলার গোয়াইনঘাট, গোলাপগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও এবং চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে তিনটি উপজেলার সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে কল যায়। এ সময় ইউএনও পরিচয়ে জেলা প্রশাসন থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা করে পাঠাতে বলেন মুঠোফোন ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে। পরে চেয়ারম্যানরা ইউএনওদের সরকারি নম্বরে কল দিলে প্রতারক চক্রের কারসাজি বুঝতে পারেন।

গোয়াইনঘাটের ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বিকেল পাঁচটার দিকে গোয়াইনঘাটের ইউএনওর নম্বর থেকে আমার মুঠোফোনে কল আসে। ইউএনওর সরকারি নম্বরের আগে ০০৬৩ লাগানো ছিল। এ সময় অপর প্রান্ত থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমার ইউনিয়নে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানানো হয় এবং এর জন্য কিছু খরচ পাঠাতে একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বর দেবেন বলে জানানো হয়। আমি অপর প্রান্তের ব্যক্তির কণ্ঠ শুনে বুঝতে পেরেছিলাম, তিনি আমাদের ইউএনও নন। কথা বলা শেষ করে ফোন কেটে দেওয়ার পর আমি উপজেলার ইউএনওর নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি জানাই। পরে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেন।’

গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যবহৃত সরকারি নম্বর ক্লোন করে ফতেপুর, লেঙ্গুড়া ও রুস্তমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে চেয়ারম্যানরা বিষয়টি আমাকে জানান। তবে তাঁরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে কোনো টাকা দেননি।’

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও সুমন আচার্য বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ রনিখাই ও ইসাকলস ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে কল দিয়ে টাকা চাওয়ার বিষয়টি আমি জানতে পারি। আমি চেয়ারম্যানদের বলে রেখেছি, এ ধরনের কল পেলে সঙ্গে সঙ্গে কেটে আমার নম্বরে কল দিতে। মঙ্গলবারের ঘটনায় থানায় জিডি করেছি।’

গোলাপগঞ্জের ইউএনও মো. গোলাম কবির বলেন, ‘উপজেলার বাঘা, বুধবারী বাজার ও পশ্চিম আমুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কল দিয়ে টাকা দাবির বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তবে তাঁরা কেউই টাকা দেননি।’

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. লুৎফর রহমান বলেন, জেলার তিন ইউএনও’র মুঠোফোনের নম্বর ক্লোন করে কল দিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার