• বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৮

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে করোনায় শনাক্তের হার ০.৮৩ সিলেট থেকে স্পেনে গিয়েই স্বামীকে অচেতন করে স্ত্রীর চম্পট! মধ্যরাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে হঠাৎ তল্লাশি জুড়ীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সিলেটে সৌহার্দ্য বৈঠক

সিলেটে উদ্বোধনের আগেই চার কোটি টাকার সড়কে গর্ত ধস

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২১  

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়ক। সোয়া চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে খরচ হয়েছে সোয়া চার কোটি টাকা। ৮ জুন এ সড়কের সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ।

প্রায় ৫ মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাজ বুঝে নিয়ে ঠিকাদারের সব পাওনা পরিশোধ করেছে। কিন্তু উদ্বোধনের আগে থেকে সড়কটির ১০-১২টি স্থানে গর্ত, ফাটল এবং ভেঙে পাশের খালে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন অংশে খোয়া উঠে যত্রতত্র ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সাব কন্ট্রাক্টর দিয়ে সংস্কার কাজ করিয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে খামখেয়ালিপনা ও অবহেলার সুযোগে রাস্তার সংস্কার কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিুমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে। এলাকাবাসী উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে বিষয়টি একাধিকবার জানালেও উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত, ফাটল ও ভেঙে পাশের খালে বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সোয়া ৪ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের প্রথম চার কিলোমিটারের বেশি অংশ সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ মেসার্স রাশিদুজ্জামান পিটার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। ওই বছরের অক্টোবরে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়। সড়কের এক কিলোমিটার অংশের মেকাডম শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় মাস। গত বছরের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সংস্কার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বেশ কিছু জায়গায় এক-দেড় ফুট অংশ ভেঙে খালে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। অসমান পলেস্তারার কারণে কাজের নিুমানের বিষয়টি খুব সহজেই ধরা পড়ে। তবে দফায় দফায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, ভাঙন ও ফাটল সৃষ্টি হলে জোড়াতালি দিয়ে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। এরমধ্যে সড়কের মাথিউরা মিনারাই অংশে সড়কের এক পাশের পাড়ের মাটি ধসে নিচের খালে পড়েছে। এতে সড়কের মূল পিচ ঢালাই অংশের নিচের মাটিও সরে গিয়ে সড়কটি যান চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কের বেশকিছু অংশজুড়ে বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সড়কে ধস ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটিতে দুই দফায় বাঁশের বেড়া স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। সড়কটির মাথিউরা মিনারাই গ্রামের নতুন মসজিদ সংলগ্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া একটি গহীন গর্ত এক মাসেও মেরামত করা হয়নি। তাছাড়া মাসদুয়েক আগে কদুগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়ক ও মাথিউরা বাজার অংশের সড়কে ধস নামে। আবার ক্ষতিগ্রস্ত সেই স্থান সংস্কার করা হলেও স্থানীয়রা কাজের মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিলপাড়া ইউনিয়নের দেবারাই গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন আজাদ জিসান বলেন, সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার এত অল্প দিনে যদি একটি সড়ক ভেঙে যায় তাহলে সহজে অনুমান করা যায় এখানে কী পরিমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহী আবিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ভোগান্তির পর এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৌশল অফিসের উদাসীনতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে দুর্ভোগ থেকেই হচ্ছে।

সড়কটিতে বারবার কেন ধস ও ফাটল দেখা দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও রাস্তার পার্শ্ববর্তী খালে প্রবল স্রোত থাকায় সড়কের পাড় ভেঙে গেছে। সংস্কার কাজে কোনো ত্রুটি ছিল না। মিনারাই ও কদুগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কে ধস নামা স্রেফ দুর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা সেসব স্থান সংস্কার করে দিয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার