• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
মঙ্গলবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ওসমানীনগরে ২শ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট "প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি" বন্যায় সিলেটে ১২ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হবিগঞ্জে নদীর পানি কমেছে, উন্নতি নেই হাওরাঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যা পর্যবেক্ষণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৯০

স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় গৃহবধূ

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২২  

সিলেটের বালাগঞ্জে বোয়ালজুড় ইউনিয়নের খারমাপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার মেয়ে এলেমা বেগম সুনারা স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে সুনারার স্বজনরা জানিয়েছেন- তার বাম চোখ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাকের হাড়ও ভেঙে গেছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সুনারার স্বামীর বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ভেড়ীগাঁও গ্রামে। তার স্বামীর নাম মিজানুর রহমান বকুল এবং শ্বশুরের নাম আজাদ মিয়া। 

সুনারার স্বামী বকুল কুয়েত প্রবাসী, প্রায় দুই মাস আগে তিনি দেশে আসেন। যৌতুকের জন্য বকুল ও তার মা-বোন মিলে ২৭ মে বিকালে সুনারাকে বেদম মারধর করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সুনারা ঘরের মেঝেতেই পড়ে ছিলেন। কিন্তু কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি। প্রতিবেশী একজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান সুনারার ভাই ময়নুল ইসলাম। ঘটনাস্থল থেকে আহত সুনারাকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 

এরপর এ ঘটনায় সুনারার ভাই ময়নুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৮ মে রাজনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সুনারার স্বামী বকুল, শাশুড়ি মিজারুন বিবি ও ননদ শেনা বেগমসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করেন। 

এদিকে মামলা দায়েরের পর বকুল আত্মগোপনে রয়েছেন। যেকোনো সময় তিনি দেশত্যাগ করতে পারেন। তাই দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বজনরা। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- ৮ বছর আগে বকুলের সঙ্গে সুনারার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বকুল প্রবাসে চলে যান এবং মাঝে-মধ্যে ছুটিতে দেশে আসতেন। তাদের ৭ বছর ও ৫ বছর বয়সী দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বকুল প্রবাসে অবস্থানকালে তার মা-বোন যৌতুকের জন্য সুনারাকে প্রায় সময় মারধর করতেন। 

সুনারার ভাই ময়নুল ইসলাম বলেন, বকুল দেশে আসার পর আমাদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে দেওয়ার জন্য সে আমার বোনকে চাপ দেয়। আমাদের পক্ষে এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা আমার বোনকে এভাবে মেরেছে। এখন তার জীবন সংকটাপন্ন, একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। ওই চোখ দিয়ে সে আর পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে কিনা জানি না। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার এসআই মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৯ মে রাতে বকুলের মা-বোনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বকুলকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।  

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার