• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও মাধবপুরের মঈনুল পদ্মাসেতু দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির হিংসা হচ্ছে বড়লেখায় হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে বালি উত্তোলন না করার দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন বিশ্বনাথে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী
৩৮

জকিগঞ্জের সেই ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিত আরও বেপরোয়া!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২২  

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের ছেলে ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলা ও লুটপাটসহ গুরুতর সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন থেকে তিনি এসব কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কিছুদিন আগে একই গ্রামের এক বৃদ্ধকে তার দোকানে ঢুকে হামলা করে মহিলাসহ ৪ জনকে কুপিয়েছে তাদেরকে মারাত্মক আহত করেছেন ওই ইউপি মেম্বার। এরপরও ক্ষান্ত হননি তিনি। এ ঘটনার পর মাথার উপর মামলার খড়গ নিয়েও আরও দুজনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মুকিতের বিরুদ্ধে। এ দুই ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় জিডি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে পুলিশ বলছে, দোকানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার পর যে মামলা হয়েছে সে মামলায় মুকিত প্রধান আসামি এবং তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে হন্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ।

জানা গেছে, ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে গত ৩১ মার্চ ছবড়িয়া গ্রামস্থ গফুর ভেরাইটিজ স্টোরে সন্ত্রাসী হামলা করা হয়। এসময় বৃদ্ধসহ ৪ জন গুরুতর আহত হন। হামলায় আহতরা হলেন- উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুর, আব্দুল গফুরের ছেলে দিদারুল ইসলাম, আব্দুল গফুরের স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা ও ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে জাবের আহমদ। এ ঘটনায় পরবর্তীতে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল মুকিতসহ বাকি আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আহতদের মধ্যে বৃদ্ধ আব্দুল গফুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর ছেলে দিদারুল ইসলামের অবস্থাও গুরুতর ছিলো। তাকেও ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়- জকিগঞ্জ উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের ছেলে ও বর্তমান ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী হামলা-মামলা ও লুটপাটের শিকার হতে হয়।
 
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একই গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে জাবের আহমদকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে খুন করার চেষ্টা চালায়। জাবের নিজেকে রক্ষা করতে দৌঁড়ে গ্রামের আব্দুল গফুরের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। এসময় আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগীরা দোকানে গিয়ে জাবেরকে মারপিট করে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে আব্দুল গফুর বাঁধা দেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল মুকিত ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল গফুরের মাথায় একাধিক কোপ দেয়। এসময় আব্দুল গফুর মাটিতে লুটে পড়লে সন্ত্রাসীরা কাঠের রোল ও রড দিয়ে বেদম পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে।

চিৎকার শুনে আব্দুল গফুরকে উদ্ধার করতে তার ছেলে দিদারুল ইসলাম ও স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা এগিয়ে আসলে আব্দুল মুকিত এবং তার বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকেও মারধর করে। এসময় দোকানের ক্যাশ থেকে দেড়লাখ টাকা লুট করে নিয়ে চলে যায় আব্দুল মুকিত এবং তার বাহিনীর সদস্যরা।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আব্দুল গফুর ও তার ছেলে দিদারুল ইসলামের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে, এ ঘটনায় আব্দুল গফুরের ছেলে জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে গত ১ এপ্রিল ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতকে প্রধান আসামি করে ও ৫ জনকে এজাহারভুক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন করেন।

এজাহারভুক্তরা হচ্ছেন- সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মুকিত, কেই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলী মখনের ছেলে শামীম আহমদ, মাসুক উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মুতলিব মৃতুল, মৃত মনই মিয়ার পুত্র হারুণ আহমদ ও মারুফ আহমদ।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারী শমীম আহমদ ও হারুণ আহমদকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। তবে তাকে ধরতে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন শুক্রবার (৮ এপ্রিল) বলেন, প্রধান আসামি আব্দুল মুকিতসহ সকল আসামি পলাতক। তবে তাদের ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার