• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
নেই বৈধ কাগজ, বন্ধ ৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারের খাদ্য সহায়তা পেল সিলেটের ১৩ হাজার পরিবার শাহজালাল মাজারে ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব ১২ ঘণ্টায় ৭ নবজাতকের জন্ম! জাফলং গিলছে বালুখেকোরা, অভিযান-জরিমানা সেমিফাইনালে মাধবপুর বালিকা দল
৩৩

সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের ২২০ জনের তালিকা করেছে পুলিশ 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২২  

সিলেটে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে ওঠেছে ‘কিশোর গ্যাং’। বিভিন্ন নামে ‘গ্যাং’ তৈরি করে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন রকম অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা ঘটাচ্ছে মারামারি, অপহরণ, হত্যা ও ধর্ষণকাণ্ড। রাস্তায় মেয়েদের করছে ইভিটিজিং- যৌন হয়রানি।

এলাকাভিত্তিক গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের কারণে আতঙ্কিত সিলেটের মানুষ। প্রকাশ্যে সংঘঠিত অপরাধের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে বেপরোয়া কিশোরদের হাতে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন সিলেটের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

সূত্র মতে, কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে। কেউ চালাচ্ছে টমটম অটোরিকশা, আবার কারো বাবার আছে অঢেল অর্থ সম্পদ। টাকা হাতে থাকায় তারা দ্রুত গ্রুপ তৈরি করে দাপট দেখান। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করে ছাত্রীদের উত্যক্ত করা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক সেবন, ছিনতাই, তির জুয়া, মারামারি এসব কাজ এখন ‘কিশোর গ্যাং’র মূল নেশা। বিভিন্ন সময় ‘কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা আইনের আওয়াতায় আসলেও আড়ালেই থেকে যান তাদের নেতৃত্ব দানকারীরা।

 
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর ৬ থানা এলাকায় ২২০ জন তরুণের নাম ‘কিশোর গ্যাং’র সাথে জড়িত হিসেবে তালিকা করা হয়েছে। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে কথিত বড় ভাইয়েরা এদের শেল্টার দিয়ে থাকেন। ‘কিশোর গ্যাং’ এখন বড় ধরনের একটি সামাজিক সমস্যা। উদ্ভট নাম নিয়ে গড়ে ওঠা এসব দলের অনেক সদস্যই স্কুল-কলেজের গণ্ডি পার হয়নি।

 
সম্প্রতি সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব এখন প্রকট হয়ে ওঠেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ১৫-২০ টি ‘কিশোর গ্যাং’ নগরীতেই রয়েছে। যাদের সদস্য অন্তত আড়াই শ’র উপরে। যাদের মধ্যে ২২০ জনের তালিকা এখন মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে খেলার কথা, সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা- সেই বয়সের কিশোররা এখন ছুরি-চাকু, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মাস্তানি করে, মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। রাস্তাঘাটে ছিনতাই করে। মেয়েদের উত্যক্ত করে। বাধা দিলে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটায়, খুুনাখুনি পর্যন্ত করে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটে পুলিশ যেহেতু ‘কিশোর গ্যাং’র তালিকা করেছে। পুলিশের উচিৎ ওই তালিকা থানায় থানায় টানিয়ে দেয়া। পাশাপাশি এসব কিশোরের অভিভাবকদের উচিত খবর নেয়া- তাদের সন্তান পুলিশের তালিকায় রয়েছে কি-না।’

 
ফারুক মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘এখনই সময় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার। তাদের সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে- এসব খবর না রাখলে সন্তানেরা বেপথে চলে যাবে।’

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে দুর্নীতি, অপরাধ ও অপরাধের নানা উপাদান রয়েছে। কিশোররা তার বাইরে নয়। পারিবারিক বন্ধন ভেঙে পড়ছে। এলাকায় খেলার মাঠ নেই। সুস্থ সংস্কৃতিচর্চাও নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তারকাখ্যাতি, হিরোইজম, ক্ষমতা, বয়সের অপরিপক্ষতা ও অর্থলোভ। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পারিবারিক শিক্ষার অভাবও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। আবার মাদক বিক্রেতা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত অনেকেই নিজের সামান্য লাভের জন্য কিশোরদের অপরাধ জগতে টেনে নেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের ব্যবহার করেন। কিশোরদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের গ্যাং কালচার গড়ে ওঠছে।’

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ  বলেন, যারা কিশোরদের শেল্টার দেন তাদেরও চিন্তা করা প্রয়োজন- এই কিশোর বেপথে চলে যাচ্ছে। ওই কিশোর যদি তার আপন ভাই হতো, তাহলে সে এমটি করতে পারতো না। কথিত বড়ভাইদের কারণেই দিন দিন ‘কিশোর গ্যাং’ ভয়ংকর হয়ে ওঠছে।

 
তিনি বলেন, আমরা ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছি। ইতোমধ্যে ২২০ জনের তালিকা করেছি। তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে সন্তানকে শাসন এবং সুন্দর পরামর্শের মাধ্যমে লেখাপড়ায় মনোযোগী করতে মুচলেকা রেখেছি। যাদের সাথে অস্ত্র যেমন, ছুরি-চাকু পেয়েছি তাদের সরাসরি আইনের আওতায় এনেছি।

নিশারুল আরিফ আরও বলেন, সবাই সচেতনভাবে কাজ করে ‘কিশোর গ্যাং’ বিলুপ্ত করতে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন কিশোরদের অভিভাবকরা।’

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার