• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা শমসের বক্স মারা গেছেন সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বড়লেখায় সম্প্রীতি সভা চার মাসেও হাকালুকিতে বৃক্ষ নিধন তদন্তের অগ্রগতি নেই দক্ষিণ সুরমার কলেজছাত্র রাহাত হত্যার ঘটনায় মামলা ‘আঁধার কেটে আলো আসবেই’ স্লােগানে সিলেটে মোমবা‌তি প্রজ্জ্বলন সিলেটের ‘শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের আর বিদেশ যেতে হবে না: সিলেটে মোমেন

সুনামগঞ্জের আদালতে ব্যতিক্রমী রায়, মা-বাবার জিম্মায় ৭০ শিশু 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

১৮ অক্টোবর শিশু দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখে এক ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছে সুনামগঞ্জ আদালত। বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫০ টি মামলায় ৭০ জন শিশুকে ৬ টি শর্তে বাবা-মা জিম্মায় দেন আদালত। 

সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনা ও শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, লঘু অপরাধে ৫০ টি মামলায় ৭০ জন শিশুকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বাবা-মা জিম্মায় দেয়া হয়। এসব শিশুদেরকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মামলায় জড়ানো হয়েছিলো, ক্ষুদ্র একটি অভিযোগে এসব শিশুরা আদালতে হাজিরা দিচ্ছিল। ফলে শিশুদের ভবিষ্যত এক অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে। তাদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছিল। শিশুদের এসব থেকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেন বিচারক।

আদালত মনে করছে কারাগারের পরিবর্তে পরিবারের সদস্যদের সাথে কোমলমতি শিশুরা বেড়ে উঠতে ও সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে। এ সময় বিচারক প্রত্যেক শিশুকে একটি করে ফুল ও একটি ডাইরি দেন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শফিউর রহমান বলেন, ৬টি শর্তে ৫০টি মামলায় ৭০ জন শিশুকে আদালতে পিতা মাতার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো হল- প্রতিদিন দুইটি ভালো কাজ করা, সেগুলো ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করা, বাবা-মা ও গুরুজনের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা, বাবা-মায়ের সেবা যত্ম করা ও তাদের কাজে কর্মে সাহায্য করা, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা এবং ধর্মকর্ম পালন করা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং ভবিষ্যতে কোন অপরাধে নিজেকে না জড়ানো। 

এছাড়া তাদের ডাইরী বছর শেষে আদালতে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেন আদালত। আগামী এক বছর তারা সবাই জেলা প্রবেশনের পর্যবেক্ষণে থাকবে।  

মামলা মুক্তি পাওয়া শিশুরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। তারা নিজেদের শুধরে নতুন জীবনে ফেরার পণ করেছে। সেই সঙ্গে আদালতের দেয়া শর্তগুলি মেনে চলার ব্যাপারেও প্রতিজ্ঞা করেছে তারা।

এদিকে আদালতের এমন রায়ে খুশি অভিভাবকরা। ছাতক উপজেলার দিঘলী চাকলপাড়া গ্রামের মাসুক আলী বলেন, এ রায়ে আমরা খুশি, ঘরের ছোটখাটো মামলায় আমার ছেলের নাম দেওয়া হয়েছিল আদালত আজকে তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যে রায় দিয়েছেন এতে আমরা খুশি।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা ও  দায়রা জজ আদালতের শিশু ও মানবপাচার ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি হাসান মোহাম্মদ সাদি বলেন, বিচারক মো. জাকির হোসেন যে রায় দিয়েছেন তার সত্যিই প্রশংসনীয়। এ রায়ের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে শিশুদের সহজ শর্তে মুক্তি দিয়েছেন, এটি হওয়ায় শিশুদের ভবিষ্যতে জীবনমান উন্নয়ন করতে পারবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার