• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
নেই বৈধ কাগজ, বন্ধ ৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারের খাদ্য সহায়তা পেল সিলেটের ১৩ হাজার পরিবার শাহজালাল মাজারে ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব ১২ ঘণ্টায় ৭ নবজাতকের জন্ম! জাফলং গিলছে বালুখেকোরা, অভিযান-জরিমানা সেমিফাইনালে মাধবপুর বালিকা দল
৩০

‘শেইম অন দেম’, বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার দাবি সংসদে

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২২  

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। সরকারি দল বলছে, বিএনপি-জামায়াত যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। অনুসন্ধান চলছে, ব্যয় বাড়তে পারে। টাকার উৎস খোঁজা হচ্ছে। অপরদিকে বিএনপি এ অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে নাকচ করে দিয়েছে। সরকারই ২০১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে রেখেছে বলে পালটা অভিযোগ করে বিএনপি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরতে লবিস্ট নয়, পিআরের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।


এমন অভিযোগ-পালটা অভিযোগের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। 

গতকাল (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুড গভর্নেন্স ও দেশের ইতিবাচক ইমেজগুলো তুলে ধরার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। আর বিএনপি দেশের ক্ষতি করার জন্য বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে আজ (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘অপপ্রচারের’ কারণে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, র‌্যাবের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন লবিস্ট প্রতিষ্ঠান, আমাদের প্রতিপক্ষের (বিএনপি) লবিস্ট প্রতিষ্ঠান...। তারা আমেরিকার সরকারের কাছে কেবল মিথ্যা তথ্য কিংবা অসত্য ঘটনাই প্রকাশ করেনি, সেইসাথে পৃথিবীকে বড় বড় যেসব মানবাধিকার সংস্থা আছে, তাদেরকেও প্রতিনিয়ত ফিডব্যাক করতেছে- যে ‘র‌্যাব খুব খারাপ’ প্রতিষ্ঠান।

মন্ত্রী বলেন, লবিস্ট নিয়োগ করা অন্যায়ের কিছু নয়। অতীতে অনেকে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে লবিস্ট নিয়োগের অর্থ কীভাবে যায়? দল কীভাবে দেয়?

এ সময় সরকারের লবিস্ট নিয়োগ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। পিআর ফার্ম নিয়োগ করেছে। দেশের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চালানো হয়, মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়- সেগুলো সত্য তথ্য তুলে ধরার জন্য সরকার একটি লবিস্ট ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে। দেশের মঙ্গলের জন্য সরকার এই পিআর ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে।

এ সময় র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘র‌্যাব বাই অ্যান্ড লার্জ জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা দুর্নীতিমুক্ত হয়ে মানুষের সেবা করে। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে এরকম একটি ভালো প্রতিষ্ঠান, যেটা দেশের সন্ত্রাস, মাদক বন্ধ করেছে, মানব পাচার মোটামুটিভাবে বন্ধ করেছে… আমেরিকা সরকারের পলিসি হচ্ছে টেরোরিস্ট, হিউম্যান ট্রাফিকিং ও ড্রাগ কমানো। র‌্যাব এই কাজগুলোই করে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তারা (র‌্যাব) এই কাজ করে। সেই একটা বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু লোকজন বিভিন্ন রকমের রং তথ্য দিয়ে এই স্যাংশনটা দিয়েছেন।’

ড. মোমেনের ভাষ্য, ‘র‌্যাব এমন বাজে কাজ করেনি যে, তার জন্য তারা পৃথিবীর টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে বিবেচিত হবে, বরং টেরোরিস্টদের বিরুদ্ধে তাদের কাজ। র‌্যাবের কারণেই হলি আর্টিজানের পর থেকেই… স্বয়ং আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বলেছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা কমেছে। হলি আর্টিজানের পরে আর কোনো লোক সন্ত্রাসবাদে মারা যায়নি। বাংলাদেশ এরকম দেশ যেখানে খুব উত্তপ্ত ছিল, সেখানে সন্ত্রাসী তৎপরতা কমেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পরে বাংলাদেশকে অবহিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্যাংশন দেওয়ার পর আমেরিকার সরকার আমাকে জানায়। জানার পরপরই আমি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করি। আমার আলাপ অত্যন্ত পজিটিভি ছিল। এসব সমস্যা দূরীভূত করার জন্য, যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা নিরসনের জন্য আমাদের নাম্বারস অব ডায়ালগ আছে। তিনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছেন সেগুলো তিনি করবেন।’

মোমেন জানান, আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পার্টনারশিপ ডায়ালগের’ কাজ শুরু হবে।  এপ্রিল মাসে সিকিউরিটি ডায়ালগ হবে। তাছাড়া রয়েছে ইকোনমিক পার্টানারশিপ...। ’

‘আমরা আমেরিকারদের সঙ্গে একাধিক মিটিংয়ের আয়োজন করেছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা যখনই তথ্যগুলো সঠিকভাবে তাদের কাছে পৌঁছতে পারব, আমার বিশ্বাস, র‌্যাবের মত একটি অত্যন্ত ভালো প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিশ্চয়ই স্যাংশন তুলে নেবে। বিশ্বাস করি এই নিষেধাজ্ঞা আমরা প্রত্যাহার করাতে পারব।’

শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে র‌্যাবকে বাদ দিতে জাতিসংঘের কাছে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার চিঠির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ১২টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে একটি চিঠি লিখেছে। বিভিন্ন ধরনের প্রপাগান্ডা ও অনুমান এখানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বলেছে- বাংলাদেশের র‌্যাব বিভিন্ন রকম হিউম্যান রাইটস ভায়োলেট করছে। তাদের ভাষায় বাংলাদেশের র‌্যাব বিভিন্ন রকম অপকর্মে নিযুক্ত আছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এজন্য তারা বাংলাদেশের র‌্যাবকে পিস কিপিংয়ে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। তারা গত নভেম্বরের ৮ তারিখে চিঠি দিয়েছেন। দুই মাস হলো ইউএন এটা পেয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ যখনই কাউকে পিস কিপিংয়ে নেয়, তারা নিজের নিয়মে যাচাই-বাছাই করে কাজটি দেয়।’

সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালাতে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস এইসব অপপ্রচার এবং দুরভিসন্ধিমূলক কাজ, সেটা বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে, র‌্যাব তো একটা ভালো প্রতিষ্ঠান। তাদের ডিমরালাইজ করার জন্য এই অপচেষ্টা যারা করছে, আমি বিশ্বাস করি, তারাই এজন্য দুঃখিত হবেন। এ রকম একটি ভালো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার জন্য যারা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এজন্য তারা লজ্জিত হবেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা’ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রায় ১৮টি কমিটিকে এরকম চিঠি দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘চিঠি দিয়ে তারা দেশের সব রকম সাহায্য বন্ধ করতে বলেছেন। তারা এও বলেছেন, বাংলাদেশের কারণে আমেরিকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তারা রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়েও অপপ্রচার চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধিতে বিশ্বাস করে না। এজন্য তাদের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য আগে ভাগে এত…। আমরা পাই টাইম টু টাইম। কিন্তু তারা যে দুনিয়ার সবগুলো ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার সংস্থাকে… এজন্য দুঃখ করতে হয়। এই দেশটা আপনার আমার সবার। এই দেশের মঙ্গল কামনাও সবার। দলের বিরুদ্ধে আপনি অভিযোগ-অনুযোগ করতে পারেন। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে যারা এ ধরনের অপপ্রচার করেন, তাদের প্রতি ধিক্কার। শেইম অন দেম, শেইম অন দেম।’

পরে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেন। একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার দাবি জানান। 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার