• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা শমসের বক্স মারা গেছেন সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বড়লেখায় সম্প্রীতি সভা চার মাসেও হাকালুকিতে বৃক্ষ নিধন তদন্তের অগ্রগতি নেই দক্ষিণ সুরমার কলেজছাত্র রাহাত হত্যার ঘটনায় মামলা ‘আঁধার কেটে আলো আসবেই’ স্লােগানে সিলেটে মোমবা‌তি প্রজ্জ্বলন সিলেটের ‘শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের আর বিদেশ যেতে হবে না: সিলেটে মোমেন

বড়লেখায় ছোট ভাইয়ের দেয়া কিডনিতে নতুন জীবন পেল বড় ভাই

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১  

এ যেন এক উপন্যাস বা সিনেমার কাহিনী। যার পরতে পরতে রয়েছে দুই ভাইয়ের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বের নাটকীয় সব গল্প। ভাইকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিচ্ছেন আরেক ভাই কিংবা বোন। সিনেমার মতো এমন দৃশ্যের দেখা মিললো মৌলভীবাজারের বড়লেখায়।

মৃত্যুকে তুচ্ছ করে বড় ভাইকে নিজের একটি কিডনি দিয়েছেন ছয়ফুল হোসেন (২৮) নামে এক যুবক। এতে ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার বিরল এক দৃষ্টান্ত গড়ে প্রসংশায় ভাসছেন তিনি। ছোট ভাইয়ের দেয়া কিডনি পেয়ে নতুন জীবন পেয়েছেন বড়ভাই বদরুল হোসেন (৩৩)।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ছয়ফুল হোসেনের দেয়া কিডনি বদরুল হোসেনের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তারা দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। তারা দুজন বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়নের দক্ষিণ মুছেগুল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। 

এদিকে বদরুলের চিকিৎসার ব্যয়ভার সংগ্রহের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঠালতলী। মাত্র দেড়মাসে তারা বদরুলের চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠন করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ টাকা বদরুলের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে।

জানা গেছে, বদরুল হোসেন প্রায় ৮ বছর ধরে সংযুক্ত আরব-আমিরাতে ছিলেন। ২০১৯ সালে ৩০ ডিসেম্বরে হঠাৎ বদরুলের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। পরে তিনি চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে জানান তার দুটি কিডনি একেবারেই নষ্ট। এরপর ২০২০ সালের ০২ জানুয়ারি বদরুল দেশে ফেরে আসেন। দেশে ফেরে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে তার কিডনি ডায়ালাইসিস শুরু হয়। এতেও বদরুলের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এসময় চিকিৎসকরা তাকে জানান বাঁচতে হলে অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ২৫ লাখ টাকা। এরইমধ্যে বদরুলে চিকিৎসার পেছনে সহায়-সম্বল যা ছিল তা ব্যয় করে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার।

এই অবস্থায় বদরুল ও তার পরিবারে যেন অন্ধকার নেমে আসে। কারণ একদিকে ২৫ লাখ টাকা অন্যদিকে একটি কিডনি, কে দেবে বদরুলকে! এই অবস্থায় নিজের জীবনের কথা না ভেবে বড় ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বদরুলের ছোট ভাই ছয়ফুল হোসেন। তিনি নিজের একটি কিডনি বদরুলকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বদরুলের কিডনি সাথে ছয়ফুলের কিডনি মিলে যায়। এ দিকে বদরুলের চিকিৎসার জন্য অনেকটা আলো হয়ে পাশে দাঁড়ায় শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঠালতলী। তারা তার চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠন করে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। পাশাপাশি চলে ফেসবুকে প্রচারণা। হাত বাড়িয়ে দেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি-সংগঠন। ফলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়।

২০২০ সালের জুলাই মাসে বদরুলের দেহে কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। কারণ এর মধ্যে বদরুলের শরীরে বাসা বাঁধে প্রাণঘাতী হেপাটাইটিস-সি ও যক্ষ্মা রোগ। এদিকে প্রায় ১৪ মাস পর সুস্থ হয়ে ওঠেন বদরুল। এরপর গত শুক্রবার ঢাকার শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ছয়ফুল হোসেনের দেওয়া কিডনি বদরুল হোসেনের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার