• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
শান্তিগঞ্জে সুপেয় পানি পাবে ১৬০০ পরিবার নিউইয়র্কের পুলিশ অফিসার বড়লেখার তৌফিকের কৃতিত্ব শেষ ষোলোয় টিকে থাকতে রাতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা জঙ্গি ছিনতাই: আরও এক পুলিশ সদস্য বরখাস্ত সুনামগঞ্জ সীমান্ত থেকে দেড় কোটি টাকার তক্ষক জব্দ ঠান্ডায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ হবিগঞ্জে ভুলে ভরা প্রশ্নপত্রে বার্ষিক পরীক্ষা!
১৫

দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় কোরআন যে সমাধান দিয়েছে

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২  

জীবনধারণের জন্য খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। খাদ্য ছাড়া সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা ভাবাও যায় না। আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী রয়েছে সবার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর, তিনিই জানেন তারা কোথায় থাকে আর কোথায় তাদের মরণ হবে। সব কিছুই একটি সুবিন্যস্ত কিতাবে সংরক্ষিত আছে।’ (সূরা হুদ, আয়াত ৬)।

সবার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘অনেক প্রাণী এমন আছে, যারা তাদের রিজিক জমা করে রাখে না। আল্লাহই তাদের রিজিক দেন এবং তোমাদের রিজিকও তিনিই দেন। তিনি সব শোনেন সব জানেন (সূরা আনকাবুত, আয়াত ৬০)।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘আর তোমার পবিরার-পরিজনকে নামাজের নির্দেশ দাও আর তাতে অবিচল থাক। তোমার কাছে আমি রিজিক চাই না, আমিই তো তোমাকে রিজিক দিয়ে থাকি, উত্তম পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য নির্দিষ্ট। -(সুরা তহা: ১৩৩)

প্রতি মুহুর্তে খাবারসহ আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামত গ্রহণ করছে মানুষ। বর্ণিত হয়েছে, তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গুনতে চাও তাহলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না। -(সূরা ইবরাহীম, আয়াত ১৪)

তবে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা বান্দার সংখ্যা খুবই কম। কোরআনের ভাষায়, ‘আর অবশ্যই আমি তো তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য তাতে রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা আরাফ, আয়াত, ৭)

আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে তিনি তা কমিয়ে দেন এবং এর জন্য বিভিন্ন বিপদ ও শাস্তি দিয়ে থাকেন। বর্ণিত হয়েছে, তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তাহলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন। -(সূরা ইবরাহীম, ৭)

আল্লাহর পরীক্ষা
সূচনাকাল থেকে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীবাসীকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন। কখনও ঝড়-বৃষ্টি জলোচ্ছ্বাস দিয়েছেন। আবার কখনও দুর্ভিক্ষের মতো কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী যুগের এমন অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাগুলোতে তিনি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিশেষ শিক্ষার উপকরণ রেখেছেন। 

কোরআনে দুর্ভিক্ষের বর্ণনা
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নবী ইউসুফ আলাইহিস সালামের সময়কার দুর্ভিক্ষকালের একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। বর্ণিত হয়েছে, 

‘বাদশাহ বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি সাতটি মোটা গাভীকে সাতটি জীর্ণ-শীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলেছে এবং দেখেছি সাতটি শীষ সবুজ সাতটি শীষ শুকনো। ওহে সভাসদবৃন্দ! তোমরা যদি স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানো তাহলে আমাকে বল। তারা বলল, এটি একটি অর্থহীন স্বপ্ন, আমরা এমন স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানি না। তারপর দু’জন কারাবন্দির মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল দীর্ঘ সময় পর তার ইউসুফ (আ.)-এর কথা মনে পড়ল। সে বলল, আমি আপনাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দেব। আমাকে কারাগারে যাওয়ার সুযোগ দিন। কারাগারে এসে সে বলল, হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি মোটা গাভীকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী খেয়ে ফেলেছে এবং দেখেছি সাতটি শীষ সবুজ সাতটি শীষ শুকনো। আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও যাতে করে আমি মানুষকে জানাতে পারি। ইউসুফ (আ.) বললেন, তোমরা সাত বছর লাগাতার চাষাবাদ করবে, তারপর তোমরা যে শষ্য সংগ্রহ করবে তার মধ্য থেকে যা তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শষ্য তোমরা শীষসহ সংগ্রহ করবে। তারপর আসবে সাতটি কঠিন দুর্ভিক্ষের বছর। এই সাত বছরে লোকেরা যা সঞ্চয় করে রেখেছে কেবল তাই খাবে। এ ছাড়া আর কোনো ফসল উৎপন্ন হবে না। -(সুরা ইউসুফ, আয়াত, ৪৩-৪৯)

দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় কোরআনের শিক্ষা
হজরত ইউসুফ (আ.)-এর এ ঘটনার মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় আল্লাহ তায়ালা জরুরি কয়েকটি বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন মানুষক। বিষয়গুলো হলো-

- ১. কৃষি ও খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীলকে অবশ্যই খাদ্য ও ফসল উৎপাদন বিদ্যায় পারদর্শী এবং সুষম বণ্টনে অভিজ্ঞ হতে হবে। ২. তাকে অবশ্যই শতভাগ আমানতদার হতে হবে। ৩. খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকা চাই।

 ৪. জনগণের বাস্তব অবস্থার সঠিক তথ্য এবং পরিসংখ্যান জানতে হবে। ৫. প্রয়োজনমতো খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৬. স্বজনপ্রীতি ও প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে থেকে সমবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। ৭. জনগণের সামর্থ্যানুযায়ী বিনিময় মূল্য গ্রহণ করে এবং সামর্থ্যহীনদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। 

৮. দুর্ভিক্ষকবলিত জনগণের প্রতি অনুগ্রহ নয় বরং অধিকার হিসেবে আপদকালে তাদের খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। ৯. ব্যবস্থা এমন হতে হবে যেন মানুষ সরকারি ত্রাণ সম্মানের সঙ্গে নিতে পারে। ১০. এ বিভাগের কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় ভাতা ও সুরক্ষার নিশ্চিত করতে হবে। ১১. সব কাজ তাকওয়ার ভিত্তিতে এবং সততার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে ১২. সবসময় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখতে হবে।

আল্লাহর ওপর আস্থা ও ধৈর্য
এছাড়া দুর্ভিক্ষের মতো বিপদগুলো যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা এবং এতে মানুষের অনেক কষ্ট হয় তাই এসময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আল্লাহর ওপর আস্থা না হারিয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) তোমাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি ধৈর্যশীলদের শুভ সংবাদ দাও, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৫-১৫৬)

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার