ব্রেকিং:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
  • রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
১৬৭

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন প্রসঙ্গ: শতবর্ষী এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৪  

১৮৯২ সনে প্রতিষ্ঠিত সরকারী মুরারিচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সিলেট অঞ্চলের বিদ্যা অনুশীলনের সুতিকাগার বিদ্যাপীঠ। সিলেট তথা উত্তর-পূর্ব বঙ্গের এ বিদ্যাপীঠ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগে জন্ম নেয় এবং দেশের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি। তাই এই প্রতিষ্ঠানটি এই অঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতির ধারক বাহক। সিলেটের সরকারী মুরারিচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ  অঞ্চলের শিক্ষার ঐতিহ্য। এই কলেজ ঘিরেই বিস্তৃতি ঘটে এই অঞ্চলের শিক্ষায় আধুনিকতার ছোয়া।

অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ রচিত গ্রন্থ "মুরারিচাঁদ কলেজের ইতিকথা" থেকে জানা যায় , ‘১৯১৭ সালে আসামের চীফ কমিশনার স্যার এন ডি বিটসন বেল কলেজের ব্যাপারে নতুন উদ্যোগ নেন এবং কলেজের জন্য বর্তমান জায়গা নির্ধারণ করেন। ১৯২১-১৯১৫ সালের মধ্যে অনেক গুলো নান্দনিক নকশায় কয়েকটি ভবন তৈরি হয় যা ওই সময়কার স্থাপত্য কলার নিদর্শন বহন করে আসছে। স্থাপত্যকলার নিজস্ব একটি ধারা আছে। স্থাপত্য কলার সংস্কৃতিটি তার ঐতিহ্য গত বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের আধুনিক স্থাপত্যে পরিণত হয়েছে। আজকের দিনের বহু তল ভবনের নকশা এবং সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজের ঐতিহ্যবাহী ভবনের নকশার মাঝে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। সাথে আছে নান্দনিক ভূ-প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন স্থাপত্য রীতির প্রদর্শন।
 
সিলেটের সরকারী মুরারিচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ঐতিহ্যবাহী আসাম প্যাটার্নের ভবনটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি এবং বিদ্যাচর্চা অনুশীলনের ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন তবে এই ভবনটিও স্থাপত্য বিভাগের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের একটি পাঠ উপকরণ হিসেবে গণ্য করা যায়, কারণ এর মূল নকশা নির্মাণশৈলী বর্তমান স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভবনের নকশা তৈরির বিবর্তনের ধারাটির একটি ধারণা দেবে।

বর্তমানে মুরারিচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের চৌহদ্দির মোট জমির পরিমাণ ১১২ একর। প্রায় ২ একর জমির উপর ভবন দুটি অবস্থিত। মূল ভবন দুটি মোট আয়তনের যত সামান্য অংশ দখল করে আছে। ভবন দুটির বয়স প্রায় ১০০ বছর। আর এই ভবনটি ঘিরে আছে বিখ্যাত ব্যাক্তিদের স্মৃতি জড়িত। কলেজ ম্যাগাজিন ও অন্যান্য সূত্র থেকে তার নির্মাণ কাল সমন্ধে যা জানা যায় তাহলো ১৯২১-১৯২৫ সালের এর মধ্যে। কেন না, অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজের বই বলছে ১৯২৬ সাথে ভবন দুটিতে বিজ্ঞান ক্লাস শুরু হয়।

বর্তমানে ভবন দুটি প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে রূপ নিয়েছে। কারণ প্রত্নতত্ত্বের বিশেষত্ব হলো, প্রত্নতত্ব একটি বস্তুগত নির্দশন অর্থাত্ প্রামাণ্য তথ্য নিয়ে কাজ করে এবং প্রত্নতত্ত্ব মানুষের জীবন ধারার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে সেই সঙ্গে মানুষের জীবন ধারার সম্পর্ক নির্ণয় করে। এমসি কলেজের ভবন দুটি প্রত্নতত্ত্ব এর একটি নির্দশ হিসেবে বিবেচনা করা যায় উপরোক্ত সজ্ঞার আলোকে। তাছাড়া প্রত্নতত্ত্বের মূল বিষয় হলো, ভৌত ধ্বংসাবশেষ, পরিবেশগত তথ্য, জৈব অবশেষ বা জীবাশ্ম, প্রাকৃতিক-সাংস্কৃতিক দৃশ্যাবলী ইত্যাদি। প্রত্নতত্ত্বের কাজ হলো এইসব বিষয়বলি বিশ্লেষণ করে মানুষ প্রাচীনকালের মানুষ এবং পরিবেশ ও প্রকৃতির তৎকালীন চিত্র বুঝতে পারে। এই বুঝা যাওয়ার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতি এবং পরিবেশের পরিবর্তনের ধারার ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যত্ মানুষের জন্য জীবন চলার রূপরেখা নির্মাণ করতে পারে।

এসব দিক বিচেনায় নিলে, বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব অপরূপ নিদর্শন হিসেবে সিলেটের গোটা মুরারিচাঁদ কলেজকে বিবেচনা করা যায়।

বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব আইনে বলা আছে, ২নং ধারায় খ অনুচ্ছেদ বর্ণিত রয়েছে যে, ১. স্থাবর প্রত্নসম্পদের সময় সীমা ১০০ বছরের পুর্ববর্তী যে কোনো সময় বা তৎকালের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২. অস্থাবর প্রত্নসম্পদের বিশেষত শিল্পকলা সম্পর্কিত প্রত্নসম্পদের সময়সীমার ক্ষেত্রে ৭৫ বছর বা পূর্ববর্তী সময়ের যে কোনো সময় বা তৎকালের সহিত সম্পর্কিত।

 ৩. উপরোক্ত সময় সীমার আওতাভুক্ত না হলেও বিশেষ স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন (সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ) সাংস্কৃতিক স্থাপনাসমূহ প্রাচীন বলিয়া বিবেচিত হইবে।

এই আইনের গ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রত্নসম্পদ’ অর্থ মানুষ দ্বারা সম্পাদিক/সৃজিত/প্রভাবিত স্থাবর ও অস্থাবর শিল্পকর্ম, স্থাপত্য, কারুকর্ম, সামাজিক প্রথা, সাহিত্য নৈতিকতা, রাজনীতি, ধর্ম, যুদ্ধবিগ্রহ বিজ্ঞান বিষয়ক সভ্যতা, পরিবেশগত বা সংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী যে কোনো প্রাচীন নির্দশন।
পৃথিবীর দেশে দেশে আধুনিকায়ন হচ্ছে, পরির্বতন বা বিবর্তনও ঘটছে, তারপরও ঐতিহাসিক কৃষ্টি সংস্কৃতি লালন করেই মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজের ঐতিহ্য বাহী ভবন দুটি এ অঞ্চল তথা সমগ্র বাংলার একটি প্রাচীন সংস্কৃতির নিদর্শন একে অক্ষুণ্ন রাখা উচিত। আগামী প্রজন্মের কাছে সভ্যতার ক্রম বিকাশের ধারার অনুশীলনের একটি পাঠ হিসাবে এই ভবন দুটি একদিন অন্তর্ভুক্ত হবে।

একটা সেমিনারে শিল্পী হাশেম খান বলেন, ‘একটি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রাচীন পুরাকীর্তি ও প্রত্ন সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মসজিদ-মন্দির-প্রাসাদসহ বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনা সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন থেকেছে। এটা খুবই পীড়াদায়ক। এই নির্লিপ্ততা চলতে থাকলে অযত্ন-অবহেলা আর দখল-দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়ে অদূর ভবিষ্যতেই হারিয়ে যাবে কালের সাক্ষী আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মারক স্থাপনাগুলো।

কলেজের ভবন দুটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অক্ষত রেখে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা উচিত বলে মনে করে সিলেটের মানুষ। সকল মুরারিয়ানরা।

সিলেটের নির্মাণশৈলীতে ঐতিহ্য "আসাম টাইপ ইউনিক হেরিটেজ" এর নিদর্শন এমসি কলেজের প্রাচীন ভবনগুলো সংরক্ষণ করুন। নান্দনিক ক্যাম্পাস মুরারিয়াদের গর্ব, সিলেটের অলংকার।

তত্ত্ব সহায়তা: বেঙ্গল হেরল্ড

গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন: প্রাক্তন ছাত্র, মুরারিচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিলেট। অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট। ট্রাস্টি, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার