ব্রেকিং:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
  • শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪৩০

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

সর্বশেষ:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
৩১০২

ভাষার নিমিত্তে নির্মাণশৈলী স্থাপনা শাবির ১০১ সিঁড়ির শহীদ মিনার

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে মাতৃভাষা বাংলার জন্য আত্মোৎসর্গ করে অনেকে। এসকল ভাষা শহীদদের স্মরণে ১০১ সিঁড়ি বিশিষ্ট টিলার উপর নির্মাণ করা হয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে শহীদি মিনার। তবে টিলার উপর ১০১ সিঁড়ির উপর নির্মাণ করা এ শহীদ মিনার নির্মাণশৈলী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মনে।

এমনকি উদ্ভাবন, গবেষণা আর সাফল্যের দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের মধ্যে অনন্য জায়গা নিয়ে থাকার পাশাপাশি এ শহীদ মিনারটির কারণেও সম্যক পরিচিতি লাভ করেছে। ক্যাম্পাস যেমন অনন্য তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও অপরূপ। শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিকতা থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এ ক্যাম্পাস শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলীতে বহন করছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের চিহ্ন। ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর দর্শনার্থীদের প্রধান আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু থাকে এই শহীদ মিনার। সারাবছরই শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের আড্ডা, গান আর কবিতায় নিয়মিত প্রাণবন্ত হয়ে থাকে এ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন ও ইউনিভার্সিটি সেন্টারের পাশ ঘিরে ৫৮ ফুট উঁচু টিলার ওপর ৬ হাজার ৮৮৬ বর্গফুট জায়গা নিয়ে নির্মিত সিলেটের অন্যতম এই স্থাপত্য কীর্তি। সমতল ভূমি থেকে শহীদ মিনারের উপরে উঠতে অতিক্রম করতে হয় ১০১টি সুদীর্ঘ সিঁড়ি। যা মোট তিনটি ফ্লাইটে বিভক্ত। সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়বে সৌন্দর্য বর্ধিত বৃত্তাকার দেয়াল। এর পরেই মূল বেদিতে ওঠার জন্য আরও সাত ধাপের ছোট সিঁড়ি পার হতে হয়।

জানা যায়, ২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বর্তমান শহীদ মিনারটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেই বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই শহীদ মিনার নির্মাণ হয়। শহীদ মিনারটির নকশা ও নির্মাণ করেন স্থপতি মহিউদ্দিন খান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান মামুন বলেন, আমাদের শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয়, উল্লেখযোগ্য, সুপরিচিত, দৃষ্টিনন্দন স্থান ‘শহীদ মিনার, শাবিপ্রবি’। শহীদ মিনারটির স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক সৌন্দর্য সবাইকে মোহিত করে। এই শহীদ মিনারের অন্যতম আকর্ষণ হলো ১০১টি ধাপের সুদীর্ঘ সিড়ি, সিড়ি পেরিয়ে সুন্দর সবুজে ঘেরা পথ, পথ পেরিয়ে সামনে গেলেই বেদি। সবুজের মাঝে মনোরম পরিবেশে তৈরী এই অসম্ভব সুন্দর শহীদ মিনারটি আমাদের শাবিপ্রবির গর্ব!

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহসিনা খানম বলেন, টিলার উপর নির্মাণ করা এ শহীদ মিনার ও তার চারপাশের প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে যায় ক্লান্তির স্মৃতি। এখান থেকে অবলোকন করা যায় পুরো ক্যাম্পাসকে। মানসিক প্রফুল্লতার সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা, জাগ্রত করে দেশপ্রেম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও একই বিভাগের শিক্ষক এবং শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান বলেন, শহীদ মিনারটি নির্মানের সময় আমার লেখাপড়া শেষ হয়ে যায়। আমি তখনো শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি কিনা পনে পড়ছে না। তবে এ শহীদ মিনার নানা যল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এটি আমাদের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয় প্রত্যেকটি সিঁড়ির ধাপগুলো, যখন আমরা ভাষা শহীদদেরকে শ্রদ্ধা জানা উঠি টিলার উপরের এ শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারটি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের আমাদের শাবিপ্রবির গৌরব। 

তবে সিলেট অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ হওয়াই টিলার উপর নির্মাণ হওয়াই এ শহীদ মিনারের মুল বেদীসহ বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। তবে প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ সংস্কার করা হলেও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এ শহীদ মিনারটি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শহীদ মিনারের মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে আমাদের উপাচার্য মহোদয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেক সচেতন তাই আমাদের পরিকল্পনা আছে সামনের দিকে এটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য। এ শহীদ মিনারটিকে সংস্কারের পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য আমাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বর্তমান সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, প্রথমে তিনটা ড্রামের মাধ্যমে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিলো।।এখনো নিচে রয়েছে সেগুলো। পরে টিলার উপরে নির্মাণ করা হলো। আমরা পাহাড়ের উপর বেয়ে বেয়ে উঠতাম। আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করতো। এক কথায় এ শহীদ মিনার আমাদের একটা অনুভূতির নাম। এটি যেমন আমাদের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনি শহীদ মিনারটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বহন করছে।

তবে সম্প্রতি কিছু গেস্ট নিয়ে নিয়ে গিয়ে দেখলাম, এ শহীদ মিনার ফাটল ধরেছে, অপরিস্কার থাকে, যেহেতু একটা পবিত্র যায়গা এটি। সুতরাং এটিতে সংস্কার করে আরও সুন্দর ও পরিপাটি রাখা দরকার। এটি একটি আইকনিক নির্মাণ, এটিকে সংস্কারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি এটি সংরক্ষণে দর্শনার্থী সকলকে সচেতন হবার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, টিলার উপর শতাধিক সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়, উপরে সবুজের সমারোহ। তার মাঝে নির্মাণ করা হয় এ শহীদ মিনার। যদিও ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এ শহীদ মিনারটি স্থাপিত হয়েছে। তবে এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নান্দনিক স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। সিলেট ভুমিকম্প প্রবণ হওয়ায় ও টিলার উপর নির্মাণের কারণে শহীদ মিনারের কিছু জায়গায় ফাটল ধরেছে। তবে এটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ রয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার