ব্রেকিং:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
  • রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
রমজানে সিলেটসহ সারাদেশে নতুন সময়সূচিতে চলছে অফিস সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আত্মহত্যা যুবকের! পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা, ইবাদত ও ফজিলত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় জৈন্তাপুরে বাজার মনিটরিং চুনারুঘাটে দুর্ঘটনায় চাশ্রমিক-সন্তান নিহত অস্ত্রোপচারে দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের: স্বাস্থমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগ গত ১৫ বছরে দেশের চেহারা বদলে গেছে : এম এ মান্নান এমপি বিএসএমএমইউ’র নতুন উপাচার্য ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক রমজানের প্রথম তারাবিতে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল রমজানে আবহাওয়া যেমন থাকবে সিলেটে?
৫৮

জাদু দেখিয়ে বিশ্বজয়, জাদুর কারণেই মর্মান্তিক মৃত্যু!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৩  

জাদু যেকোন বয়সের মানুষের আনন্দ দেয়। চোখের সামনে অবিশ্বাস্য সব ঘটনা যিনি ঘটান তিনি জাদুকর। সাধারণত ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে তাক লাগানো জাদু থেকে মাদারি কা খেল- জাদু যুগে যুগে সমাজের সব স্তরের মানুষেরই চূড়ান্ত মনোরঞ্জন করে এসেছে। আর তাই কিংবদন্তি হয়ে ওঠা জাদুকরদের ঘিরে সব সময়ই থাকে বিস্ময়ের কুয়াশা। 

আলোচনায় আসে পি সি সরকার জুনিয়র বা সিনিয়ররদের নাম। আলোচনা আজও অব্যাহত প্রায় একশতক আগে প্রয়াত এক জাদুকরকে নিয়েও। তিনি হ্যারি হুডিনি। জাদু দেখিয়ে, বিশেষ করে ‘এস্কেপ আর্টিস্ট’ হিসেবে তিনি বিশ্বজয় করেছিলেন। অথচ জাদুই শেষপর্যন্ত তার মৃত্যুর পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। কীভাবে? সেই করুণ ইতিহাস বলার আগে জানিয়ে দেওয়া দরকার হুডিনি তার জাদু দেখিয়ে ঠিক কোন অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

মার্কিন-হাঙ্গারিয়ান বংশোদ্ভূত হুডিনির মূল খ্যাতি এস্কেপ আর্টিস্ট হিসেবেই। অর্থাৎ তাকে যতই কঠোর বাঁধনে বাঁধা হোক, তিনি নিজেকে ঠিক মুক্ত করে নিতে পারতেন। তার স্টান্টও ছিল তাক লাগানো। কালে কালে তার গায়ে জুড়ে যেতে থাকে অলৌকিকের তকমা।

তার এই ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ক্যারিশ্মার জন্ম বিংশ শতকের শুরুতে। এর আগে ১৮৯১ সাল থেকে কিশোর বয়সেই জাদুকর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি তিনি। কিন্তু ছাব্বিশ-সাতাশ বছর বয়সে লন্ডনের এক জেলারের সঙ্গে দেখা করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। কেমন চ্যালেঞ্জ? হুডিনিকে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতকড়া পরিয়ে সবচেয়ে সুরক্ষিত লক আপে ঢুকিয়ে দেওয়া হোক। তিনি বেরিয়ে আসবেন! যেমন কথা তেমন কাজ। সত্য়িই নিজেকে অতি দ্রুত বন্ধনমুক্ত করে জেলের দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন হুডিনি। দেখে তাক লেগে গেল সকলের। কিন্তু পাশাপাশি সন্দেহও দানা বাঁধল। 

মানুষ ভাবতে শুরু করল, নির্ঘাত কোনো রকম ছলচাতুরি করেই এই কাজ করছে ছেলেটা! এরপর আনা হল এমন হাতকড়া, যাকে চাবি দিয়ে খোলাও বেশ কসরতের। খুলে ফেলা হল তার সমস্ত পোশাক, যাতে কোনোভাবেই তার আড়ালে চাবি লুকিয়ে না রাখতে পারেন আগে থেকে। রাখা হলো এমন জেলে, যেখানে একটা নয়, তিনটে লক। লোকেরা ভাবল, পড়েছে এইবার হুডিনি প্যাঁচে! কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা গেল হুডিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুক্ত হয়ে!

সেই শুরু। রাতারাতি খ্যাতির মধ্যগগনে পৌঁছে গেলেন হুডিনি। জীবনে আর কখনো তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এমনকি, মৃত্যুর প্রায় একশো বছর পরেও তাকে নিয়ে গল্পগাছার শেষ নেই। একের পর এক জেলে নিজেকে স্বেচ্ছাবন্দি করে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে হুডিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি অপ্রতিরোধ্য। হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। তার শো দেখতে উপচে পড়ত ভিড়। মঞ্চে নানা রকম অদ্ভুত খেলা দেখাতেন তিনি। 

এর মধ্যে একবার তো আস্ত হাতিই ভ্যানিশ করে বসলেন! খ্যাতির পারদ সব সময়ই তুঙ্গে। এখানে বলে রাখা ভালো, হুডিনি কিন্তু কেবল জাদু দেখাননি। চলচ্চিত্রও বানিয়েছেন। তবে সেসব তেমন চলেনি। অস্ট্রেলিয়ায় সেই সময় সদ্য আবিষ্কৃত এরোপ্লেন চালিয়েও নজির গড়েছিলেন। সেই সঙ্গে আবিষ্কারকও ছিলেন তিনি। তার আবিষ্কার করা যন্ত্রপাতি সেযুগে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

কিন্তু ইতিহাসের পাতায় হুডিনির ঝলমলে উপস্থিতি আসলে জাদুকর হিসেবেই। যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে তিনি যেভাবে নিজেকে মুক্ত করে নিতেন তা নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করে উঠতে পারতেন না প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

কানাডার মন্ট্রেলে প্রিন্সেস থিয়েটারে সেদিন শো ছিল হুডিনির। শো শুরুর আগে ড্রেসিংরুমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছেন হুডিনি। সেই সময় তার সঙ্গে দেখা করেন জোসেলিন গর্ডন হোয়াইটহেড। জানতে চান, হুডিনির পেটে যত জোরেই ঘুষি মারা হোক তার কিছু হবে না- এটা কি মিথ নাকি সত্য়ি? ঘটনা হচ্ছে, হুডিনির শোয়ের এটা একটা জনপ্রিয় খেলা। 

কথায় আছে শো মাস্ট গো অন। পেটের যন্ত্রণা নিয়েই সেদিন শো করেন হুডিনি। রাতে ঘুম এল না। পরের দুইদিনও একই অবস্থা। ডাক্তার দেখালেন। গায়ে তখন ধুম জ্বর। দেখা গেল অ্যাপেন্ডিসাইটিস বাঁধিয়ে বসেছেন তিনি। ডাক্তার দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু হাতে তখন পরপর শো। হুডিনি এড়িয়ে গেলেন অস্ত্রোপচার। পরে অবশ্য রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২৪ অক্টোবর শেষ শো করেছিলেন হুডিনি। মঞ্চেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এক সপ্তাহ পরে তার মৃত্যু হয়।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, পরপর ঘুষির ফলে তৈরি হওয়া ট্রমা ও অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মধ্যে সম্পর্ক খুবই অনিশ্চিত। ফলে নিশ্চিতভাবেই কি বলা যায় ঐ ঘুষিই তার মৃত্যুর কারণ? কিন্তু হুডিনির উপরে হোয়াইটহেডের ঘুষি-আক্রমণের দুই সাক্ষী প্রাইস ও স্মিলোভিৎজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিমা কোম্পানি মেনে নেয় হুডিনির মৃত্যুর পেছনে আসল কালপ্রিট ড্রেসিংরুমের ঘটনাটাই। মাত্র ৫২ বছরেই শেষ হয়ে যায় এক কিংবদন্তির জীবন। বেঁচে থাকলে আরো নতুন নতুন কীর্তি গড়তেন নিঃসন্দেহে। যে ম্যাজিক তাকে সব কিছু দিয়েছিল, সেটাই হয়ে উঠেছিল মৃত্যুর পটভূমি- একে মর্মান্তিক ছাড়া আর কী বলা যায়!

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার