• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু রচিত বই বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন সাকিবকে নোটিশ পাঠাল বিসিবি সিলেটের শ্রেষ্ঠ এএসআই মোহাম্মদ অলিউল হাসান
১৪

রাজা-কাইয়ার জুটিতে লড়াই চলছে জিম্বাবুয়ের

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২২  

৩০৪ রানের লক্ষ্যে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বসেছিল জিম্বাবুয়ে। মনে হচ্ছিল শুরুতেই বুঝি খেই হারাবে স্বাগতিকদের ইনিংস। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের পার্টনারশিপের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তৃতীয় উইকেটের পতন হলেও জিম্বাবুয়েকে টেনে নিচ্ছে সিকান্দার রাজা ও ইনোসেন্ট কাইয়া জুটি।

২৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১৩৪ রান। ক্রিজে আছেন ইনোসেন্ট কাইয়া (৫৯) ও সিকান্দার রাজা (৪৩)।  


মোস্তাফিজুর রহমানের শুরুর ওভার দেখে-শুনে খেলতে থাকলেও রক্ষে হয়নি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রেজিস চাকাভার (২)। ওভারের শেষ বলে অফস্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে সেটি আঘাত করে স্টাম্পে। শরিফুলের পরের ওভারে চার মেরে শুরুতে জবাব দিলেও পঞ্চম বলে সাজঘরের পথ ধরেন তারিসাই মুসাকান্দা। উঠিয়ে মারতে গেলে ৪ রানে তালুবন্দি হন মোসাদ্দেকের। প্রাথমিক ধাক্কার পর ইনিংস সামলানোর গুরু দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন মাধেভেরে ও কাইয়া। ৫৬ রানও যোগ করে ফেলে তারা। দলীয় ৬২ রানে ভুল করে বসেন মাধেভেরে। মেহেদী হাসান মিরাজের ওভারে অযথা রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়েছেন ১৯ রানে। 


অবশ্য তৃতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পরেও সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের। বরং স্কোরবোর্ড সচল রাখতে দুর্দান্ত গতিতে ব্যাট করছেন কাইয়া-সিকান্দার রাজা। তাদের ব্যাটিংয়ে ২১তম ওভারেই শত রান ছাড়িয়েছে জিম্বাবুয়ের। দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন কাইয়া।

শুক্রবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হারলেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০৩ রান করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক বোলারদের পরীক্ষা নিয়ে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ফিফটি পেয়েছেন- লিটন, এনামুল, তামিম ও মুশফিক। মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ২০ রান ধরলে ব্যাট করা পাঁচজনই গিয়েছেন দুই অঙ্কের ঘরে।

দারুণ শুরুতে শক্ত ভিত এনে দেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। দুজনই পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরি। এই হারারেতে খেলা সবশেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম। এক বছর পর সেখানে ফেরার উপলক্ষটা শতক দিয়ে রাঙিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি।

জিম্বাবুয়েকে প্রথম উইকেট এনে দিয়েছেন সিকান্দার রাজা। সফরকারী দুই ওপেনারের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তামিম-লিটন ক্রিজে পড়ে থেকে একটু একটু করে বাড়িয়ে নিয়েছেন রান। এরমধ্যে তামিম পেয়ে যান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম হাফসেঞ্চুরি। সিকান্দার রাজার বলে ইনোসেন্ট কাইয়ার হাতে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে ৮৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে করেন ৬২ রান। সেঞ্চুরি না পেলেও দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে স্পর্শ করেছেন ৮ হাজার রান। 

বাংলাদেশ অধিনায়ক তিন অঙ্কের ঘরে যেতে না পারলেও লিটন কিন্তু এগিয়ে গেছেন। যদিও শুরুটা ছিল মন্থর। সময় গড়ানোর সঙ্গে চওড়া হতে থাকে ব্যাট। দুর্ভাগ্য তার এই পথ চলায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় চোট! পায়ের পেশিতে টান লাগায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এই ওপেনার।

উদ্বোধনী জুটিতে তামিমের সঙ্গে ১১৯ রান যোগ করেন লিটন। অধিনায়কের আউটের পর এনামুলের সঙ্গে ৫০ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন তিনি। আর নিজে বাহারি সব শটে ৮৯ বলে ৮১ রান করেছেন। বিশেষ করে ৭৫ বলে হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর থেকেই আক্রমণ বাড়াতে থাকেন। হাফসেঞ্চুরির পর শেষ ১৪ বলে তোলেন ৩১ রান।

লিটনের আউটের পর স্কোর বাড়িয়ে নেওয়ার মিশনে নামেন এনামুল। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া এই ব্যাটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফিরে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ৭৩ রানে থামতে হয়েছে তাকে। অভিষিক্ত ভিক্টর নিয়াউচির শিকার হওয়ার আগে ৬২ বলের ইনিংসটি সাজান ৬ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়।

অন্যপ্রান্তে তাকে সঙ্গ দেওয়া মুশফিকও কম যাননি। জিম্বাবুয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রামে থাকা এই ব্যাটার ওয়ানডে দিয়ে ফিরেই করেছেন হাফসেঞ্চুরি। ৪৯ বলে ৫ বাউন্ডারিতে তিনি ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে শেষ দিকে নেমে মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ২০ রানে।

জিম্বাবুয়ের দুই বোলার- নিয়াউচি ও রাজা প্রত্যেকে নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার