• সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৩ ১৪২৮

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
টাঙ্গুয়ার হাওরের ময়লা পরিষ্কার করলেন ডিসি মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ১৪ ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ সিলেটসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু লিডিং ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসেই মিলছে টিকা সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন মৌলভীবাজারে পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন

মহাকাশে পর্যটকরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  

কিছুদিন আগেই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্সের মহাকাশযানে করে মহাশূন্যে গিয়েছিলেন চার পর্যটক। ব্যবসায়ী জ্যারেড ইসাকম্যানের সাথে মহাকাশে গিয়েছিলেন তিনজন সদস্য। যারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেছেন ১৩ ফুট ক্যাপসুলের ভেতরে। এ ক্যাপসুলের বিশাল জানালা দিয়ে মহাশূন্য থেকে দেখেছেন পৃথিবী। কিন্তু ৩ দিনের এই ভ্রমণে কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন তারা?

স্পেস এক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন চার ক্রু সদস্য। ইসাকম্যান জানান, মহাকাশে আরও বেশি সময় ধরে থেকে গবেষণা করা যেতো। যেকোনো জরুরি অবস্থায় মহাকাশে কী করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া যেত। কারণ মহাশূন্যে কোনো কাজ করাই সহজ না। কিন্তু সবচেয়ে কঠিন কাজটাই ছিল টয়লেট করা।

ইসাকম্যান বলেন, পৃথিবীতে একজন মানুষের কাছে টয়লেটে যাওয়া আর বাথরুম করা মনে হয় সবচেয়ে সহজ কাজের একটি। কিন্তু মহাকাশে জিরো গ্র্যাভিটির মধ্যে এ কাজটি করতে বেশ বেগ পেতে হয়। এটার কোনো নিশ্চয়তা নেই টয়লেট ভাসতে ভাসতে বাথরুমের বাইরে চলে যাবে না। বর্জ্য মহাকাশের যেকোন স্থানে যেকোন সময় ভাসতে ভাসতে চলে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: এবার মঙ্গলে ভূমিকম্পনের রসদ পেলেন বিজ্ঞানীরা

এ সমস্যা সমাধানে মহাকাশের টয়লেটের ভেতর ফ্যান রাখা হয়। এ ফ্যানগুলো মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে বা নির্ধারিত স্থানে রাখে। কিন্তু ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের টয়লেটের ফ্যানগুলোর টেকনিকেল সমস্যা ছিল। এ কারণে টয়লেট বারবার অ্যালার্ম দিচ্ছিল। ইন্সপিরেশন ফোর মিশনের পরিচালক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার  বিষয়ে কথা বলেছেন, দায় স্বীকারও করেছেন, কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানাননি।
 
ইসাকম্যান জানান, এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হতে চান তিনি। ইসাকম্যানসহ বাকি সদস্যরা স্পেস এক্সের মিশন নিয়ে আরো আলোচনায় বসবেন। এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি স্পেস এক্স। নাসার বিজ্ঞানীরাও বলেন, মহাকাশে টয়লেট ব্যবহার করাটা সত্যি খুব কঠিন। এরপরও এখনো কেউ অপ্রত্যাশিত কোন ঘটনার সম্মুখীন হয়নি।

১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১০ মিশনে গিয়েছিলেন থমাস স্টাফোর্ড, জন ই্য়ং আর ইউগেনে কারনান। ছয় দিনের মিশনের ষষ্ঠতম দিনে বর্জ্যের একটা অংশ কেবিনে ভাসছিল, সরকারের গোপনীয় নথিতে উঠে এসেছে তথ্য।

সে সময় স্টাফোর্ড বলেছিলেন, আমাকে ন্যাপকিন দাও। এর কিছুক্ষণ পর বর্জ্যের আরও একটি অংশ দেখতে পান কারনান। এ জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ রাখার কথা ছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।

কিন্তু নাসার রিপোর্ট বলছে, এ ব্যাগগুলো দুর্গন্ধ সামাল দেওয়ার উপযুক্ত না। এরপরই নাসার বিজ্ঞানীদের পরামর্শে স্পেস টয়লেট তৈরি করা হয়।

মানুষের শরীর পৃথিবীতে জীবন ধারনের মতো করেই তৈরি। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, অক্সিজেনসমৃদ্ধ বাতাস বাস্তুসংস্থানের মধ্যেই পৃথিবী। মহাকাশে গেলে তাই মানুষরে মানিয়ে নিতে এতো কষ্ট হয়। শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন নভোচারিরা, যেটাকে স্পেস অ্যাডাপ্টেশন সিনড্রোম বলে। ৮০ শতাংশ নভোচারিই এই ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার