• বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৮

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে করোনায় শনাক্তের হার ০.৮৩ সিলেট থেকে স্পেনে গিয়েই স্বামীকে অচেতন করে স্ত্রীর চম্পট! মধ্যরাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে হঠাৎ তল্লাশি জুড়ীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সিলেটে সৌহার্দ্য বৈঠক

মঙ্গলে ৯০ মিনিটের ভূমিকম্প!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

থরথর করে কেঁপে উঠল মঙ্গল গ্রহ। মঙ্গলে প্রাণের স্পন্দন শুনল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার। এক মাসের মধ্যে অন্তত দু'দিন মোট তিনবার থরথর করে কেঁপে উঠল লাল গ্রহ। তার মধ্যে এক দিন মঙ্গলের বুকে কম্পন চলে টানা দেড় ঘণ্টা ধরে।

মঙ্গল গ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির মনুষ্যবিহীন মহাকাশ যান ইনসাইট মঙ্গল গ্রহ থেকে তিনটি বড় ভূমিকম্পের তথ্য পাঠিয়েছে। এসব ভূমিকম্প পর্যালোচনা করে মঙ্গল সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে বিজ্ঞানীরা।

নাসা জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মঙ্গলে হয়েছে তিনটি বড় মাপের কম্পন। এটিকে বলা হয়, মার্সকোয়েক বা মঙ্গলের ভূমিকম্প। ২৫ দিনের মধ্যে মঙ্গলের বুকে প্রথম কম্পনটি নাসার ইনসাইট রোভার শুনেছিল গত ২৫ আগস্ট, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ২। তার কিছু পরে সেদিনই আরও একটি কম্পন ধরা পড়ে ইনসাইটের সিসমোমিটারে, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গল থরথর করে কেঁপে ওঠে আরও একটি বড় কম্পনে, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ২। ইনসাইট ল্যান্ডার এর মধ্যেই মঙ্গলে ১০০০ দিন পার করেছে।

এর আগে নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার ২০১৯ সালে মঙ্গলের বুকে কম্পনের প্রমাণ পেয়েছিল। তবে তার মাত্রা ছিল অনেক কম। নাসা জানিয়েছে, ২০১৯-এর কম্পনের যে শক্তি ছিল, গত ২৫ আগস্টের কম্পনের শক্তি ছিল তার পাঁচ গুণ। ওই দিন যে দুটি কম্পন হয়েছিল তার একটির উৎপত্তিস্থল (এপিসেন্টার) ছিল নাসার ল্যান্ডার ইনসাইটের ৫৭৫ মাইল দূরে।

মঙ্গলের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতে পারবেন জন্মের সময় মঙ্গলগ্রহ কেমন ছিল। এসব বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পেলে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তা জানার পথে কয়েক ধাপ এগোতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।

এর আগে লালগ্রহের হিমশীতল রাতে মার্সকোয়েক অনুভূত হয়েছিল। তবে এবার তা হয়নি। সাম্প্রতিক কম্পনগুলো ইনসাইট ল্যান্ডারের সিসমোগ্রাফে দিনের বেলা ধরা পড়েছে। প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছে মঙ্গল গ্রহ। এটিই প্রথম আউটার স্পেস রোবোটিক এক্সপ্লোরার। এর সাহায্যে মঙ্গল গ্রহের ইনার স্পেসের গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ২০১৮ সালে লালগ্রহে অবতরণ করেছিল ইনসাইট ল্যান্ডার। এর কাজ মঙ্গল গ্রহের অভ্যন্তরে থাকা ক্রাস্ট, ম্যান্টেল এবং কোর এরিয়া খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা।

মঙ্গল হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ এবং বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয়-ক্ষুদ্রতম গ্রহ। ইংরেজি ভাষায় মঙ্গল গ্রহ রোমান পুরাণের যুদ্ধদেবতা মার্সের নাম বহন করে এবং প্রায়ই এই গ্রহটিকে “লাল গ্রহ” নামে উল্লেখ করা হয়। এর জন্য দায়ী এই গ্রহের ভূপৃষ্ঠে অতিরিক্ত ফেরিক অক্সাইড, যার কারণে গ্রহটিকে লালচে রঙের দেখায় এবং খালি চোখে দৃশ্যমান মহাজাগতিক বস্তুগুলির মধ্যে এই গ্রহটিকে স্বতন্ত্রভাবে দর্শনীয় করে তোলে। মঙ্গল একটি শিলায় পরিপূর্ণ গ্রহ এবং এর বায়ুমণ্ডলে ঘনত্ব নেই। এই গ্রহের ভূপৃষ্ঠে বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে যেমন চাঁদের মতো অভিঘাত খাদ দেখা যায়, তেমনি পৃথিবীর মতো উপত্যকা, মরুভূমিও চোখে পড়ে।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার