• শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৩ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
দোয়ারাবাজারে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিদর্শনে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার অবশেষে শুরু হচ্ছে সিলেটের সেই দুই সড়কের সংস্কারকাজ করোনা: ফের মৃত্যুর মিছিলে সিলেটে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি ফয়জুল আর নেই

মহাকাশ ভ্রমণে যা দেখলেন জেফ বেজোস

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২১  

মাত্র ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ড—স্বল্প সময়ে ইতিহাস গড়ার ভ্রমণ। নিজের রকেট নিউ শেপার্ডে করে মহাকাশে ছোটখাটো ভ্রমণ করে ফিরেছেন বিলিয়নিয়ার জেফ বেজোস। তার এই রকেটে এবারই প্রথম কোনো ক্রু ফ্লাইট পরিচালনা করা হলো।

ঐ‌তিহাসিক এই যাত্রা সঙ্গে ছিলেন জেফ বেজোসের ভাই মার্ক বেজোস, মহাকাশে পাড়ি দেয়ার দৌড়ের একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী ওয়ালি ফাঙ্ক এবং ১৮ বছর বয়সী অলিভার ডিমেন।

বেজোস ও তার সহযাত্রীরা এমন একটি ক্যাপসুলে করে এই ভ্রমণ করেছেন, যার জানালা গুলো বড়। এ কারণে পৃথিবীর চমকপ্রদ দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন তারা। মাত্র ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ডের এ ভ্রমণ শেষে বেজোস মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে বলেছেন- সেরা দিন!

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ টেক্সাসের মরুপ্রায় এলাকার ‘লঞ্চ সাইট ১’ থেকে ছাড়ল বেজোসের মহাকাশযান। আকাশ তখন ঝলমল করছে সকালের আলোয়। মেঘের লেশমাত্র নেই। তার কিছুক্ষণ আগেই নীল রঙের স্পেস স্যুট আর কাউবয় টুপি পরে লঞ্চ সাইটে পৌঁছে গিয়েছিলেন ৫৭ বছরের বেজোস। ভাই মার্ক-সহ তিন সহযাত্রীর সঙ্গে একে একে গিয়ে ঢুকলেন নীল রঙা পালকের ছবি আঁকা সাদা রকেটের মধ্যে। বন্ধ হল দরজা। রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত কাটিয়ে মহাশূন্যের দিকে ছুটে গেল সেই পক্ষীরাজ।

যাত্রা করার দুই মিনিটের মাথায় রকেট থেকে ক্যাপসুলটি আলাদা হয়ে উপরের দিকে ক্যারম্যান লাইনে (পৃথিবী এবং মহাকাশের মধ্যকার সীমানা) যায়। তাছাড়া, বেজোসের এই মহাকাশযানে ছিল না কো‌নো পাইলট। স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার প্রযুক্তিতে বিশ্বের এই শীর্ষ ধনকুবেরকে নিয়ে মহাকাশের পথে রওনা হয় রকেটটি।

লঞ্চপ্যাড থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর পৃথিবী থেকে আড়াই লাখ ফিট ওপরে উঠে রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায় ক্যাপসুলটি। এটি সাড়ে ৩ লাখ ফিট ওপরে উঠে। ৪ মিনিটের জন্য ভরশূন্য অনুভব করেন যাত্রীরা।

ফ্লাইটের পরে ব্রিফিংয়ে চার মিনিটের ওজনহীনতার সময় ক্যাপসুলে থাকা আরোহীরা ডিগবাজি খাচ্ছেন, উল্টে পড়ে যাচ্ছেন- এমন একটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখান থেকে পৃথিবীর অত্যাশ্চর্য দৃশ্যগুলোও দেখা যাচ্ছিল।

সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠার পর ক্যাপসুলটি প্যারাসুট খুলে দেয়। এই প্যারাসুটের মাধ্যমে পৃথিবীতে নেমে আসে ক্যাপসুলটি। নেমেই ওয়ালি ফাঙ্ক বলেন, এটি দুর্দান্ত ছিল, আমি এটি পছন্দ করেছি, আবার যাওয়ার জন্য তর সইছে না আমার।

উড়োজাহাজের ইতিহাসের আইকনিক কিছু বিষয় ফ্লাইটে নিয়ে গিয়েছিলেন অ্যামজনের প্রতিষ্ঠাতা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাইট ব্রাদার্সের প্রথম বিমানে একটি ক্যানভাসের টুকরা, ১৭৮৩ সালে প্রথম উষ্ণ বায়ু বেলুন উড়োজাহাজ চালনা করা গাড়ি থেকে তৈরি একটি মেডেলিয়ান এবং পাইলট আমেলিয়া ইয়ারহার্টের ব্যবহৃত এক জোড়া গগল বা চশমা। 

বেজোসের মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণে  ব্লু অরিজিন গঠিত হয় ২০০০ সালে। বেজোসের কোম্পানি ১৫ বার মহাকাশে গেলেও মঙ্গলবারের আগে কখনও মানুষ নিয়ে যায়নি। ব্লু অরিজিনের জন্য রকেট আকারের ৬০ ফুট লম্বা মহাকাশযান নিউ শেফার্ড তৈরি করছে মার্কিন দুই প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও বোয়িং।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার