• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও মাধবপুরের মঈনুল পদ্মাসেতু দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির হিংসা হচ্ছে বড়লেখায় হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে বালি উত্তোলন না করার দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন বিশ্বনাথে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী
২০২

মুসলমানদের ঈদ সংস্কৃতির প্রচলন

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২২  

বছর ঘুরে আবারো আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। ঈদ আসে সীমাহীন আনন্দের বার্তা নিয়ে। জীবনের আঙ্গিনায় নব চেতনার উদ্যমজাগা স্বপ্ন নিয়ে। সুখ বিলাসের ছায়াদার বিশাল শামিয়ানা নিয়ে। ঈদ মানবজীবনে বইয়ে দেয় সুখের মাতোয়ারা। আনন্দ বাসনার সমুদ্দুরে ঢেউ খেলে যায় নান্দনিকতায়। মনের মাধুরীতে সুখ-স্বপ্নরা নেচে ওঠে অপার মহিমায়।

ঈদ মানে আনন্দ উৎসবের বিপুল সমাহার। মুসলমানদের প্রতি বছরের মৌলিক সংস্কৃতি। ইসলামের নবীর দেওয়া ধর্মীয় আনন্দ উৎসব। ঈদ সংস্কৃতির আরশিতে দেখা যায় আপনার ভালোবাসার চেহারা। সুখ-বিলাসের মহাতিথি। অন্যকে ভালোবেসে জীবন ত্যাগের পবিত্র বারিতে স্নাত করার মাহেন্দ্রক্ষণ।

ঈদুল ফিতর একাধারে আনন্দোৎসব ও ইবাদত। এ আনন্দ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এ আনন্দ সিয়াম-কিয়ামের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার। এ আনন্দে নেই কোনো অশ্লীলতা ও পাপ-পঙ্কিলতা। এ আনন্দে শুধুই সওয়াব ও পুণ্যময়তা। ধীরে ধীরে এ আনন্দ সংক্রমিত হতে থাকে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। সদ্যঃপ্রসূত শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার দেহ-মনে ঈদের ছোঁয়া লাগে। হতদরিদ্র, এতিম, দুস্থ, নিঃস্ব ও শত শত ছিন্নমূল মানুষের মুখেও হাসি ফোটে কিছু টাকা, কিছু নতুন কাপড় পেয়ে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরাও এ সময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমানতালে। ঈদ উপলক্ষে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা তাঁরাও ভোগ করেন। এভাবেই সর্বজনীন হয়ে ওঠে ঈদ।

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদুল ফিতর অর্থ রোজা খোলার আনন্দ। কিন্তু কেন সেই আনন্দ? আনন্দের জন্য তো কোনো কারণ থাকতে হবে! সুখবর পেলেই তো মানুষ আনন্দিত হয়! এক মাস রোজার সাধনার পর এই দিনে সেই সাধনার পুরস্কার হিসেবে ক্ষমা পাওয়াই সেই আনন্দের কারণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা ঈদের দিন ফেরেশতাদের মধ্যে রোজাদারদের নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘হে ফেরেশতারা, আমার কর্তব্যপরায়ণ প্রেমিক বান্দার বিনিময় কী হতে পারে?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘হে প্রভু, পুণ্যরূপে পুরস্কার দান করাই তো তার প্রতিদান।’ আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব (রোজা) পালন করেছে। অতঃপর দোয়া করতে করতে ঈদগাহে গমন করেছে। সুতরাং আমার মর্যাদা, সম্মান, দয়া ও বড়ত্বের কসম! আমি তাদের দোয়া কবুল করব এবং তাদের মাফ করে দেব।’ (বায়হাকি : ৩/৩৪৩)

ইসলামপূর্ব পৃথিবীর মানুষের জন্য বিভিন্ন আনন্দ উৎসব ছিল। তাদের নিজস্ব মনগড়া বানানো সংস্কৃতির চর্চা হতো। বিভিন্ন দিন-তারিখ কেন্দ্র করে আনন্দের ঢাকঢোল বাজানো হতো। তাদের সংস্কৃতি কিংবা আনন্দ উৎসবে ছিল না সভ্যতার শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত। তাদের উৎসব ছিল না সবার জন্য সমান উন্মুক্ত ও ভেদাভেদমুক্ত। তাদের উৎসব অনুষ্ঠান পার্থক্য তৈরি করে রাখত এলিট ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের মধ্যে। বৈষম্য সৃষ্টি করত বিত্তবান ও বিত্তহীনদের মধ্যে। বিত্তশালীরা বিপুল বৈভবে-ঐশ্বর্যে একধাপ এগিয়ে যেত আর বিত্তহীনরা নিষ্পেষিত হতো বিত্তশালীদের ঘৃণার নিকৃষ্ট মনমানসিকতার জাঁতাকলে। ইসলাম ভিন্ন সংস্কৃতি জাতিসত্তার জন্য অভিশাপ। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা আর নোংরামিতে আপাদমস্তক ভরপুর।

মুসলমানদের ঈদ সংস্কৃতির আগে মদিনায় ‘নাইরোজ’ ও ‘মেহেরজান’ নামে দুটি উৎসব পালিত হতো। দুটি উৎসবই পারস্য সংস্কৃতি-সভ্যতার দর্পণ। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নাইরোজ ও বসন্ত উৎসবকে উপলক্ষ করে মেহেরজান নামে দুটি বিনোদিনী উৎসব পালন করা হতো। অপরিশুদ্ধ মানব মননে আবিষ্কৃৎত দুটি উৎসবই বেহায়া-বেলেল্লাপনা ও অশ্লীলতার কালো নিকৃষ্ট আঁধারে ছিল নিমজ্জিত। শ্রেণিবৈষম্যের অভিশপ্ত দেয়ালে ছিল অবরুদ্ধ। তাদের ভিত্তিহীন সংস্কৃতির মূলোৎপাটন করে শুদ্ধ সংস্কৃতির উদ্‌যাপনের পাঠ দিলেন মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ‘প্রত্যেক জাতির আনন্দ-উৎসব আছে। আর আমাদের আনন্দ-উৎসব হলো দুই ঈদ।’ (বুখারি ৯৫২, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঘোষণার মাধ্যমে দ্বিতীয় হিজরিতে ঈদ উৎসবের গোড়াপত্তন হয়। সেই ঈদ এখন চলমান পৃথিবীর সবচেয়ে শুদ্ধতম আনন্দ উৎসবের সংস্কৃতি। পৃথিবীর ইতিহাসে বেঁচে থাকার জীবনে সব মুসলমান প্রতিবছর দুবার ভাসেন আনন্দের জোয়ারে। বাধাহীন খুশির ফল্গুধারায়। বছরের প্রথম ঈদ ঈদুল ফিতর পালন করা হয় শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে। পবিত্র রমজান মাসের রোজাব্রত পালন শেষে যখন পশ্চিম আকাশে এক ফালি চাঁদ মুচকি হেসে উদয় হয়, তখন সব শ্রেণির মুসলমানের হৃদয় পুলকিত হয় আনন্দের ঢেউয়ে ঢেউয়ে। আকাশ-বাতাসে গুঞ্জরিত হয় মহাসুখের হিরণ্ময় বার্তা। প্রকৃত অর্থে এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনা পালনের পুরস্কার ঘোষণার মহাতিথি হলো এই দিন। আর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা। ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক স্বীয় তনয় ইসমাইল (আ.)-কে স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে কোরবানি করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিধান আসে কোরবানির ও ঈদুল আজহার। তাঁদের ত্যাগের সেই স্মৃতি ধারণ করতে পালন করা হয় ঈদুল আজহা।

ইসলামের দেওয়া দুটি আনন্দ উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ঈদ আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। শিক্ষা দেয় ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া শ্রেণিবৈষম্যের মূলোৎপাটন করা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গরিব-ধনী এক কাতারে চলার।

ইসলাম বিনোদন সমর্থন করে; কিন্তু অশ্লীলতাকে মোটেও প্রশ্রয় দেয় না। ইসলামের উৎসবে ঢোল-তবলা নেই। বিনোদনের নামে অসামাজিকতা ও নগ্নতা নেই। নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ। ঈমানদারের ঈদের আনন্দ উত্তম পোশাক পরিধান, ঈদের দিন মিষ্টিমুখ করা, সদকাতুল ফিতর আদায় ও ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উৎসবের সঙ্গে মানুষের রুচি ও চাহিদার বিষয়টি জড়িত। অন্যদের উৎসব ও আমাদের উৎসবের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। মুসলমানদের উৎসব অপসংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। উৎসবের নামে অনাচার, কদাচার, পাপাচার আর নৈতিকতাবিবর্জিত বল্গাহীন অনুষ্ঠান আড়ম্বরের অবকাশ নেই ইসলামে। আবার বৈধ ও নির্দোষ আনন্দ-ফুর্তি, শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ঈমানি ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ শিল্প-সংগীত—এগুলোও ঈদের দিনের বৈধ আনুষ্ঠানিকতার বাইরে নয়। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ঈদের দিন হাবশিরা খেলা করছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্রীড়ারত হাবশিদের উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, ‘ছেলেরা, খেলে যাও! ইহুদিরা জানুক যে আমাদের দ্বিনের প্রশস্ততা আছে। আমাকে প্রশস্ত দ্বিনে হানিফসহ প্রেরণ করা হয়েছে।’ (বুখারি : ১/১৭৩, মুসলিম : ২/৬০৮)

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব

(১) মেসওয়াক করা সুন্নত। (২) গোসল করা সুন্নত। (৩) সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। (৪) কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। বিজোড় সংখ্যায় যেকোনো মিষ্টিদ্রব্য খাওয়া উত্তম; খেজুর অতি উত্তম। (৫) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া উত্তম। এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে আসা মুস্তাহাব। (৬) ঈদগাহে যাওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকবির (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পড়া সুন্নত। (৭) সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। (৮) নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নত। (দাতা ও গ্রহীতার সুবিধার্থে রমজানেও প্রদান করা যায়)। (৯) ঈদের দিন চেহারায় খুশির ভাব প্রকাশ করা ও কারো সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে কথা বলা মুস্তাহাব। (১০) আনন্দ-অভিবাদন বিনিময় করা মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৬, ৫৫৭, ৫৫৮; হেদায়া : ২/৭১; বোখারি : ১/১৩০, ইবনে মাজাহ : ৯২)

ঈদের নামাজ দুই রাকাত আর তা ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব। ঈদের নামাজ ময়দানে পড়া উত্তম। তবে মক্কাবাসীর জন্য মসজিদে হারামে উত্তম। শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে। (বুখারি : ১/১৩১; ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৫, ১/৫৫৭; আল মুহাজ্জাব : ১/৩৮৮)

সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধ হাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত বাকি থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত; যেন নামাজের আগেই বেশি থেকে বেশি সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদির : ২/৭৩, আল মুগনি : ২/১১৭)

মুখে উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে যে আমি এ ঈদের নামাজ কিবলামুখী হয়ে এই ইমাম সাহেবের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ‘ছানা’র পর তিন তাকবির। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে তিন তাকবির। এ তাকবিরগুলো বলার সময় ইমাম-মুকতাদি সবাইকে হাত উঠাতে হবে। তৃতীয় তাকবির ছাড়া প্রতি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি এ তাকবিরগুলো না পায়, তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে। কারো পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে। কেরাতের আগে আদায় করারও সুযোগ রয়েছে। নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৯, ৫৬০)

কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পরিশেষে যদি নামাজ ছুটেই যায় তাহলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত এশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৬১)

শুদ্ধতার সরোবরে ইসলামী ঐতিহ্যের সমাহার:

বড়ই আফসোস ও বেদনার বিষয় হলো, ঈদ এলেই ঈদের নামে চলে বেহায়াপনার প্রদর্শনী। ঈদ নাটক, ঈদ গান, ঈদের ছবি, ঈদ রেসিপি ও ঈদ ফ্যাশন বলে বেহুদা ও ক্ষতিকর সংস্কৃতির চর্চা করা হয়। সাত দিনব্যাপী চলে ঈদের নামে প্রহসন। চ্যানেলে চ্যানেলে ভাঁড়ামি, নষ্টামি ও তথাকথিত প্রেম-পিরিতি নিয়ে চলে মাতামাতি। ইসলামের আবিষ্কৃৎত ঈদের উৎসবে থাকে না ইসলামের কোনো তাহজিব তমদ্দুনের শিক্ষা। ইসলামের উদারতা ও মানবপ্রীতি নিয়ে আলোচনা হয় না কোনো খবরের কাগজ কিংবা টিভি চ্যানেলে। ঈদ উপলক্ষে করা ঈদ সংখ্যায় স্থান পায় না কোনো ইসলামী ঈদ রচনা, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ। ফিচার বা প্রতিবেদন হয় না কোনো ইসলামী ঐতিহ্য নিয়ে। কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে হয় না আলোচনা। ইসলামের দেওয়া ঈদ উৎসবে চলে ভিন জাতির নোংরা সব কালচারের প্রদর্শন। সপ্তাহব্যাপী চলে বেহায়াপনার তোড়জোড় ও আস্ফাালন। অথচ ইসলামের ঈদ খুবই সাদাসিধে। সেখানে ঈদের নামাজ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফিতরা দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিধান নেই।

ইসলামের নবীর আবিষ্কৃত ঈদ উৎসব পালিত হোক শুদ্ধতার সরোবরে। বেহায়াপনা, নোংরা কুসংস্কার ও সংস্কৃতির তরী ডুবে যাক পবিত্রতার বরফে ধাক্কা লেগে। পৃথিবীর আলো-বাতাসে গন্ধ ছড়াক আমাদের বিশুদ্ধ সংস্কৃতি ও শিকড়ের নাভির সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহ্য। আমাদের সংস্কৃতি সৃজনে ও নির্মাণে হোক পরকালমুখী এবং এক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হোক আমাদের সকল কাজের উৎসমূল।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার