• মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৮

  • || ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
শাবির প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত জৈন্তাপুরে ছেলের হাতে মা খুন! বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে পুলিশ : প্রধানমন্ত্রী শাবিতে ভিসি’র বাসবভনের সামনে খাটে শুয়ে অনশনের প্রস্তুতি শাবিতে আন্দোলন : ১৬ জন হাসপাতালে জেলা ভোগ্যপণ্য পরিবেশক গ্রুপের সাধারণ সভা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সিলেটে হচ্ছে ‘ওয়াসা’
২৭

নফল ইবাদত কেন করব

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২১  

নফল ইবাদত যতই ছোট হোক, তা যদি নিয়মিত করা হয় এবং অভ্যাসে পরিণত করা হয়, তখন তার সওয়াব বড় হয়ে যায়। নফল অর্থ অতিরিক্ত। অর্থাৎ তা ফরজ এবং ওয়াজিবের অতিরিক্ত। একে ফরজ ও ওয়াজিবের পরিপূরক হিসাবেও গণ্য করা হয়।

নফল ইবাদত বর্জন না করা উচিত। কেননা এটি আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের মাধ্যম। নফল ইবাদতের সওয়াব বেশি দরকার হবে কেয়ামতের দিন। যেদিন ফরজ ইবাদতের ত্রুটির কারণে বান্দা আল্লাহর কাঠগড়ায় আটকা পড়বে সেদিন তার নফল ইবাদতগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

চাইলে প্রতিদিন অনেক সহজে এটি করা যায়। যেমন সাধ্যমতো নফল নামাজ পড়া, জিকির করা, তাসবিহ পড়া, দরুদ শরিফ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা, কবর জিয়ারত করা, মাসনুন দোয়াগুলো প্রয়োজনের সময় পড়া, ভালো কাজের আগে বিসমিল্লাহ পড়া, দান সাদকা করা, আল্লাহর সাহায্য চাওয়া, যে কোনো কাজে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা, সর্বদা ওজু অবস্থায় থাকা, এমনকি একজন মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলাতেও নফল ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়।

নফল ইবাদত দ্বারা মূলত আল্লাহর প্রতি বান্দার মহব্বতের পরিমাপ করা হয়। ফরজ এবং ওয়াজিবের দায়িত্বগুলো পালন করার পর অতিরিক্ত নফল ইবাদতে লিপ্ত থাকা মূলত আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ। বান্দার পক্ষে কখনো সম্ভব নয় যথাযথভাবে ফরজ ও ওয়াজিবগুলো পালন করা। বরং তা পালন করতে গিয়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি হওয়াই স্বাভাবিক।

তার ঘাটতি পূরণে নফল ইবাদত বেশি প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আবু দাউদ শরিফে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন প্রথম নামাজের হিসাব হবে। আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের বলবেন, তোমরা আমার বান্দার নামাজের দিকে তাকাও, যদি ফরজ নামাজে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে, তাহলে আল্লাহতায়ালা বলবেন, দেখ, আমার বন্দার কোনো নফল ইবাদত আছে কিনা? নফল ইবাদত থাকলে আল্লাহ নির্দেশ দেবেন, তোমরা ফরজের দুর্বলতাগুলো নফল দ্বারা পূর্ণ করে দাও।

আবু দাউদের অন্য বর্ণনায় এসেছে, নামাজের পর জাকাতের বিষয় ওঠানো হবে এবং নফল দান-সাদকা দ্বারা ফরজ জাকাতের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো পূরণ করা হবে। তাই ইবাদতের সুফল ভোগ করতে আমাদের কর্তব্য হলো, নফল ইবাদত বেশি বেশি করা। মুসলিম শরিফে এসেছে, নফল ইবাদত দ্বারা আল্লাহর দরবারে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। নফল ইবাদত দ্বারা সগিরা গোনাহ মাফ হয়ে যায়।

নফল ইবাদতে ব্যস্ত থাকলে মানুষ গোনাহ থেকে বাঁচতে পারে। নফল ইবাদত দ্বারা মানুষ আল্লাহর প্রিয় হয়। মুসনাদে আহমদের একটি হাদিসে এসেছে, বেশি বেশি নফল ইবাদত করা রাসূল (সা.)-এর অভ্যাস ছিল। তিনি এত বেশি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন যে, তার পা মোবারক ফুলে যেত। (সুবহানাল্লাহ)। বেশি বেশি নফল ইবাদত করলে, রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে জান্নাতে থাকার সুযোগ হবে।

সহিহ মুসলিমের হাদিস-একবার রাবিয়া ইবনে কাব আসলামি (রা.), রাসূল (সা.)কে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি জান্নাতে আপনার প্রতিবেশী হয়ে থাকতে চাই। রাসূল (সা.) তাকে বললেন, বেশি বেশি নফল ইবাদত কর। অনেকের ধারণা, নফল মানে অতিরিক্ত ইবাদত। তা না করলে তো গোনাহ নেই। তাই নফল ইবাদত করে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ফরজ এবং ওয়াজিব পালনে যে ত্রুটি ও দুর্বলতা হয়ে যায়, তা পূরণ করা হবে নফল ইবাদত দিয়ে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার