• বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৮

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে করোনায় শনাক্তের হার ০.৮৩ সিলেট থেকে স্পেনে গিয়েই স্বামীকে অচেতন করে স্ত্রীর চম্পট! মধ্যরাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে হঠাৎ তল্লাশি জুড়ীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সিলেটে সৌহার্দ্য বৈঠক

কীর্তনখোলা নদীতে দূষণ চলছেই, দেখার কেউ নেই

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২০  

দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ লঞ্চগুলো থেকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে সরাসরি ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন বর্জ্য। ফলে নদীর তল দেশে ভরাট হয়ে জমেছে বিশাল আবর্জনার স্তুপ। নাব্য সংকট কাটাতে পলি অপসরণ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ড্রেজিং কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বালুর পরিবর্তে ড্রেজার মেশিনের সঙ্গে উঠে আসছে পলিথিন, বস্তা,গাড়ির টায়ারসহ নানা আবর্জনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন সামগ্রী লঞ্চে কিংবা পল্টুনে বসেই সরাসরি নদীতে ফেলছে। এমনকি লঞ্চগুলোকে পরিষ্কারের নামে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সরাসরি নদীতে ময়লা-আবর্জনা ঝাড়ু দিয়ে ফেলছে। ফলে সেসব ময়লা আবর্জনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং নদীবন্দর সংলগ্ন এলাকায় আলাদা একটি স্তর তৈরি করছে। ময়লা-আবর্জনায় রয়েছে প্লাস্টিক-পলিথিন জাতীয় অপচনশীল দ্রব্য যা ৫০০ বছরেও নষ্ট হবে না। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে অপর দিকে নদীর নাব্য হ্রাসেও ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে মাছ ও জলজ জীব বৈচিত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্জ্য নদীতে ফেলার কথা অস্বীকার করে এম ভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চের কর্মচারী সুমন বলেন, লঞ্চের ডেকের সব প্রকার ময়লা ও আবর্জনা ড্রামে ভর্তি করা আছে। আর পাশের ময়লা ঝাড়ু দিয়ে এখন ড্রামে ভরে পরবর্তীতে সেগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলা হবে। 

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা খনন কার্যক্রম চালাতে সক্ষম। বরিশাল নদীবন্দর এলাকাতে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট এক নাগারে ড্রেজিং করেছি। কিন্তু সস্প্রতি নদীবন্দরে অহেতুক লঞ্চগুলোকে নোঙর করে রাখা এবং ড্রেজিং মেশিনের কাটারের সঙ্গে বারবার পলিথিনসহ প্লাস্টিক সামগ্রী আটকে যাওয়ায় ৫-৬ ঘণ্টার বেশি খনন কাজ চালানো সম্ভব হয় না।

স্থানীয় একাধিক ট্রলার মাঝিরা বলেন, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় লঞ্চগুলো পরিষ্কারের নামে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা নদীর বুকে ফেলা হচ্ছে। যা কেউ নিষেধও করছে না। শীতের সময় নদীবন্দর ও আশপাশের এলাকায় পানি কমে গেলে দেখা যায় কীভাবে মাটিতে পলিথিন আটকে রয়েছে। আর তাতে পানি ও ময়লা আটকে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

 বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘কীর্তনখোলা নদীর পানি দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি নদীর পানি দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কীর্তনখোলা নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনতে বরিশালবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, নদীতে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য লঞ্চ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই তা মানছেন না। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করেছি।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ফলে দেশের নদী ভাঙন রোধ, নদীর সীমানা নির্ধারণ, নদীর তীর সংরক্ষণ আর নদীর নাব্য সংকট নিরসনে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নদীগুলোকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কীর্তনখোলা নদী দখল বন্ধ ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। এছাড়া নদী ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার