• বুধবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৯

  • || ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
লন্ডন প্রবাসী সিলেট বিভাগের সাত জনকে ঢাকায় গ্রেফতার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার পরিষদের বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্যটন দিবস উদযাপন শাবিপ্রবির একাডেমিক ভবনে ক্যাপসুল লিফট উদ্বোধন টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ছাত্রদলকে সাধারণ জনতা গণধোলাই দিয়েছে: ঢাবি ছাত্রলীগ রুশ নাগরিকত্ব পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের নথি ফাঁসকারী
৫৮

সুইস ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশিদের যোগসূত্র কীভাবে হলো?

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২২  

সারাবিশ্বের কালো টাকার স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংক। ব্যাংকটির গোপনীয়তার নীতিই এখানে টাকা জমা রাখতে উৎসাহিত করে সারাবিশ্বের কালো টাকার মালিকদের। অসংখ্য মানুষের হিসাব বহির্ভূত অর্থ জমা রাখার জন্য এই ব্যাংক বিশ্বের সব দেশেই বিতর্কিত। এই বিতর্ক থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশের নামও।

এতে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকার। সুইস ব্যাংকে দেশের কে বা কারা টাকা রাখছে তার তালিকা খুঁজছে সরকার। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন- সুইস ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশিদের যোগসূত্র কিভাবে হলো? কে বা কারা দিলেন এই ব্যাংকের সন্ধান?

ব্যাংক কতৃপক্ষের দেয় তথ্য থেকে জানা গেছে, রাজনীতিবিদদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি সুইস ব্যাংকে অবৈধ টাকা রেখেছেন তিনি হলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় পুত্র তারেক রহমান। ২০০১ সালের দিকে বাংলাদেশে অঘোষিতভাবে রাজত্ব করা দুর্নীতির এই বরপুত্রের কুকর্মগুলো হার মানিয়েছে কল্পকথাকেও। শাস্তি এড়াতে দেশ থেকে পালিয়ে কোটি কোটি টাকা ডোনেশান দিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ব্রিটেনে। 

সেখানে পালিয়েও থেমে থাকেনি দুষ্কৃতিকারী তারেক জিয়া। লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিদেশে টাকা পাচারসহ ব্যাপক অভিযোগের পাহাড় রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মেতে উঠেছে সীমাহীন বিলাসীতায়। বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি ব্রিটিশ সরকারের চোখও। লন্ডনে বসে কোনরকম বৈধ আয়ের উৎস ছাড়াই তারেক জিয়া কীভাবে এই বিলাসী জীবনযাপন করছেন- সেই রহস্য উদঘাটনে ২০১৯ সালে শুরু হয় তদন্ত। 

তদন্তের একপর্যায়ে তারেক জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার টাকার একটি বড় অংশ আসে ক্যাসিনো থেকে; যেখানে নিয়মিত জুয়া খেলে তিনি অর্থ উপার্জন করেন। এছাড়া বিভিন্ন মহল তাকে যে অনুদান দেয় সেই টাকা তিনি যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসেন। 

তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের পক্ষ থেকে ১৪৭৫ কোটি টাকা সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে জমা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিদেশি সূত্রটি। 

এছাড়া সুইজারল্যান্ডে ২০০১ সালে তারেক প্রথম একটি যৌথ একাউন্ট করে। এতে তার সাথে একাউন্ট হোল্ডার হিসেবে ছিলেন তার বন্ধু গিয়াস উদ্দীন আল মামুন। মামুন ২০০২ সালে সুইস ব্যাংক থেকে একটি ডেবিট কার্ড গ্রহণ করেন এবং একই সময় তারেকের নামে একটি সাপ্লিমেন্টারি কার্ড গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সুইস ব্যাংকে তারেকের স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা।

এরপর ২০০৮ সালে তারেক সুইস ব্যাংকের একাউন্ট থেকে লন্ডনের ব্যাংকে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫ কোটি টাকা জমা করেন। একই সময়ে লন্ডনের আরেকটি ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখা এবং সেই টাকা লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করছে। এখন সুইস ব্যাংকে তারেকের টাকার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, তারেকের এমন কর্মকান্ডের পরও যখন বিএনপি সুইস ব্যাংকে টাকা নিয়ে জল ঘোলা করেন তখন বিএনপির নির্লজ্জতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কিছু জৈষ্ঠ্য নেতা বলেন, তারেক জিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সাথে সুইস ব্যাংকের যোগসূত্র ঘটে। এরপর থেকে তারেকের দেখানো পথেই হাঁটতে শুরু করে দেশের অন্যান্য কালো টাকার মালিকরা।

তারেক জিয়া সেই ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রের টাকা ভোগ করে রাষ্ট্রকেই ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। পৃথিবীতে যদি দুর্নীতির জন্য পদক দেয়ার প্রচলন থাকতো, তাহলে তারেক জিয়া শুধু পদকই পেত না, রোল মডেল হিসেবে গণ্য হতো।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার