• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা শমসের বক্স মারা গেছেন সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বড়লেখায় সম্প্রীতি সভা চার মাসেও হাকালুকিতে বৃক্ষ নিধন তদন্তের অগ্রগতি নেই দক্ষিণ সুরমার কলেজছাত্র রাহাত হত্যার ঘটনায় মামলা ‘আঁধার কেটে আলো আসবেই’ স্লােগানে সিলেটে মোমবা‌তি প্রজ্জ্বলন সিলেটের ‘শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের আর বিদেশ যেতে হবে না: সিলেটে মোমেন

সিলেটে ফাইজারের টিকাদান শুরু, প্রথমেই পাচ্ছেন প্রবাসীরা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

আজ বুধবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সিলেট জেলায় ফাইজারের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ প্রথম দিন এ টিকা দেয়া হয় ৫০০ জনকে। প্রথম ধাপে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ টিকা পাচ্ছেন প্রবাসীরা। 

তবে ফোনে ম্যাসেজ না গেলে এ টিকা কাউকে দেয়া হবে না। নগরের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে। 

সিলেটে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,  বুধবার সকাল থেকে নগরের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে এ টিকা দেয়া হয়।
 
প্রথম দিন টিকা গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ৫০০ জনকে মোবাইল ফোনে বার্তা (ম্যাসেজ) পাঠানো হয়। প্রথম ধাপে প্রবাসীরা এ টিকায় পাবেন। তবে প্রবাসী অ্যাপে নিবন্ধনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। ম্যাসেজ ছাড়া ফাইজারের টিকা কাউকেই দেয়া হবে না বলে জানা গেছে। 

সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, ফাইজারের টিকা যে ফ্রীজে রাখা হয়েছে তার তাপমাত্রা ২ থেকে ৮ ডিগ্রী পর্যন্ত রাখতে হয়। এছাড়া সিসিকের টিকা সংরক্ষণের রুমে ১৭ টনের এসিও লাগানো হয়েছে। 

এদিকে যে স্থানে এই টিকা দেয়া হবে তার তাপমাত্রা রাখতে হবে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রীর মধ্যে। তাই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছাড়া ফাইজারের টিকা দেয়া সম্ভব হবে না। সে লক্ষ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫টি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষও নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে যারা প্রবাসী অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন সেসব প্রবাসীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রথম ধাপে আমরা শুধু প্রবাসীদের দিব। পরে সবাইকে এ টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় কোনো জটিলতার সৃষ্টি হবে কি না জানতে চাইলে ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফাইজারের টিকার জন্য পৃথক ম্যাসেজ দেয়া হবে। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে টিকার ম্যাসেজ পেয়েছেন তারা ফাইজারের বুথে গিয়ে ভিড় করলে কাজ হবে না। প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার পরে গণহারে এ টিকা দেয়া হবে। ফলে চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

জানা গেছে, গত বুধবার রাতে বিশেষ ফ্রীজার ভ্যানে করে সিলেট বিভাগের তিন জেলায় ৫২ হাজার ৭৭০ ডোজ ফাইজারের টিকা এসে পৌঁছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় এসেছে ১৯ হাজার ৮৯০ ডোজ, সুনামগঞ্জে আসে ১৬ হাজার ৫০০ ডোজ এবং হবিগঞ্জে আসে ১৬ হাজার ৩৮০ ডোজ। 

এদিকে মঙ্গলবার থেকে হবিগঞ্জ জেলায় ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু হয়। জেলায় প্রবাসী ছাড়াও মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তরের শিক্ষার্থীরা এ টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। আর গত সোমবার (১১ অক্টোবর) থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন সিলেট মিররকে বলেন, ‘সোমবার থেকে জেলায় ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীসহ যারা করোনা টিকার নিবন্ধন করেছেন সবাইকে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে।’

আর হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে জেলা সদর হাসপাতালে ফাইজারের টিকা প্রদান শুরু হবে। প্রবাসী, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও বৃন্দাবন কলেজের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া সাধারণ কেউ নিতে চাইলে আমরা যাচাই-বাচাই করে এ টিকা দিব।’

কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় ফাইজারের এ টিকা দেশে আসে। প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা দেশে আসে। দ্বিতীয় দফায় আসে ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ টিকা। আর তৃতীয় দফায় আসে প্রায় ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা। 

উল্লেখ্য, এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটে শুরু হয় টিকাদান কার্যক্রম। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে এই টিকা কার্যক্রম চলে। আর ৮ এপ্রিল থেকে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান শুরু হয়। তবে টিকা সঙ্কটের কারণে গত মে মাসে বন্ধ হয়ে যায় টিকাদান কার্যক্রম। পরে গত ১৯ জুন সিনোফার্মার প্রথম ডোজ প্রদান শুরু হয়। 

তবে এ সময় জেলায় একটি কেন্দ্রে মেডিকেল-নার্সিং শিক্ষার্থী এবং পূর্বের নিবন্ধন করে টিকা না পাওয়া ব্যক্তিদের দেয়া হয়েছিল। আর গত ১৩ জুলাই থেকে আবারও সবার জন্য টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। সিলেটে বর্তমানে ৩টি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২টি বুথে দেওয়া হচ্ছে সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা। আরেক কেন্দ্র পুলিশ হাসপাতালের ৩টি বুথে সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হচ্ছে। আর নগর ভবনে দেয়া হচ্ছে মডার্নার টিকা।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার