• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ছাতকে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল সিলেটে চোখে কালো কাপড় বেঁধে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ‘অনশন’ প্রশাসনের উদ্যাগে জগন্নাথপুরে সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি : প্রধানমন্ত্রী দেশের আকাশসীমা নজরদারিতে অত্যাধুনিক রাডার বসছে বিমানবন্দরে সিলেটে পুলিশের অভিযানে এক রাতেই পলাতক ২০ আসামী গ্রেফতার শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে লড়বেন সৈয়দ মনসুরুল হক বিশ্বনাথে গ্রামীণ সড়কের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেন এমপি মোকাব্বির

ওসমানীনগরে স্ত্রীর নির্যাতনে অসহায় এক প্রবাসী

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২১  

সিলেটের ওসমানীনগরে স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এক প্রবাসীর জীবন। স্ত্রীর উচ্চবিলাসী আবদার মেটাতে প্রবাসে উপার্জিত কয়েক লক্ষ টাকা হারিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব। পাশাপাশি প্রায়ই তার উপর নেমে আসতো স্ত্রীর নির্যাতনের খড়গ। এমন কি পরবর্তীতে স্ত্রীকে তালাক দিয়েও শান্তিতে থাকতে পারছেন না তিনি।

জানা যায়, উপজেলার তাজপুর ইউপির রঙ্গিয়া গ্রামের ছইফ উল্যার ছেলে নজরুল ইসলাম ২০০৬ সাল থেকে লন্ডনের একটি হোটেলে শেফের কাজ করতেন। ২০১৫ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের শাহ ফরমান আলীর শিক্ষিকা মেয়ে ফেরদৌসির সাথে। প্রবাস থেকেই পরিচয় সূত্রে প্রেম। এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালেনজরুল ইসলাম দেশে এসে ৮ ডিসেম্বর ফেরদৌসি বেগমকে বিয়ে করেন।

যৌথ পরিবারে নজরুলরা ৩ ভাই। এরমধ্যে তিনি সবার ছোট। কিন্তু বিয়ের প্রথমরাতেই ফেরদৌসি পরিবার থেকে পৃথক হওয়ার জন্য নজরুল ইসলামকে চাঁপ দেন। বড় দুইভাইয়ের আয়ের তেমন কোন উৎস না থাকায় নজরুল পৃথক হতে অসম্মতি জানান। ওইরাতেই স্বামীকে মারপিট করেন নববধূ। সহজ সরল নজরুল অনেকটা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। বিয়ের দুদিন পর নজরুল সস্ত্রীকশ্বশুর বাড়িতে দ্বিরাগমনে গেলে আর্থিক ও স্বাস্থ্যের উন্নতি কথার বলে ফেরদৌসি তাকে কবিরাজী করান। এরপর থেকে নজরুল অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েন। শ্বশুর বাড়ি ফিরে ফেরদৌসি বসতঘরের একটা অংশ গ্রিল দিয়ে পৃথক করে স্বামিনীয়ে বসবাস শুরু করেন।

ঘরের দরজায় সার্বক্ষণিক তালা থাকায় নজরুল ইসলাম তার মা-বাবা-বড় দুইভাই সহ কারো সাথেই দেখা করতে পারছিলেন না। শুধুমাত্র ফেরদৌসি কোন কাজে ঘরের বাইরে গেলে স্বামীকে সাথে নিয়ে যেতেন। ফেরদৌসি স্বামীকে পুনরায় লন্ডন যাওয়ার সুযোগও দিচ্ছিলেন না। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি নজরুলকে রান্না থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজ করতে হতো। কাজে সামান্য ভুল হলেই নজরুলের ভাগ্যে নির্যাতন নেমে আসতো। কয়েকমাস পূর্বে ফেরদৌসি তার শ্বশুর ছইফ উল্যা (৯৫) ও শাশুড়ি সূর্যবান বিবিকে (৮৫) মারপিট করে মূল বসত ঘর থেকে বের করে দেন। আশ্রয় না পেয়ে তারা আলাদা একটা চালা ঘরে আশ্রয় নেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘরের কাজ করা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ফেরদৌসি লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে নজরুল চিৎকার শুরু করেন। চিৎকারে তার মেজো ভাই পিয়ার আলীসহ বাড়ির সবাই এগিয়ে আসেন। এ সুযোগে স্ত্রীর হাত থেকে চাবি নিয়ে ঘরের গ্রীলের তালা খুলে নজরুল পালিয়ে যান। পরদিন ফেরদৌসি তার ভাই খসরু মিয়াকে নিয়ে ঘরে থাকা মূল্যবান সামগ্রীসহ বাবার বাড়িতে চলে যান। পলাতক অবস্থায় নজরুল গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেটে আদালতের মাধ্যমে ফেরদৌসিকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু ডিভোর্সের পরেও শান্তি পাচ্ছেন না তিনি। তাকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পঁচাশি বছরের বৃদ্ধা সূর্যবান বিবি বলেন, নজরুল আমার ছোট সন্তান। ওর বিয়ের পর আমার পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। ফেরদৌসির নির্যাতন থেকে আমি ও আমার স্বামীও রেহাই পাননি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ঘরের বাইরে বের করে দিলে আমরা পূবের ঘরে আশ্রয় নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাই। ওকে আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না।

নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১১ বছর পর প্রবাস থেকে ফিরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ফেরদৌসিকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তুতার উচ্চবিলাসী শখ মেটাতে প্রবাসে উপার্জিত আমার লাখ লাখ টাকা ওর পেছনে খরচ হয়েছে। এমনকি গত চার বছর আমায় গৃহবন্দি করে আমি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ারও সুযোগ পাইনি। ঘরের সব কাজ আমাকেই করতে হতো। ওর বাবার বাড়িতেও নিয়মিত টাকা পাঠাতে হতো। কোন ভুল হলেই ফেরদৌসি আমার উপর নির্যাতন করতো। মান-সম্মানের ভয়ে ফেরদৌসি সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম। অসহ্য হয়ে গত ১৩ ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে ডিভোর্স দেই। ডিভোর্সের খবর পেয়ে ফেরদৌসি আমার পাসপোর্ট, টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। এতকিছুর পরও নানা ভাবে আমাকে হুমকী দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্যা নেওয়া বেগম বলেন, দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যা হয়। কিন্তু এরকম ঘটনা কখনো শুনিনি। এই ফেরদৌসি বেগমের কাণ্ডে আমি নিজেই হতবাক। এসব বিষয় সমাধানে আমি একাধিকবার তাদের বাড়িতে গেছি। কিন্তু ওই মহিলা কাউকেই মানতে চায় না। কোন কিছু বললেই দা নিয়ে তেড়ে আসে। পরে আমি তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ফেরদৌসি বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্যামল বণিক জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু দেখে এসেছি। আসলেই এই পরিবারটি নানা অশান্তিতে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার