• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ছাতকে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল সিলেটে চোখে কালো কাপড় বেঁধে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ‘অনশন’ প্রশাসনের উদ্যাগে জগন্নাথপুরে সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি : প্রধানমন্ত্রী দেশের আকাশসীমা নজরদারিতে অত্যাধুনিক রাডার বসছে বিমানবন্দরে সিলেটে পুলিশের অভিযানে এক রাতেই পলাতক ২০ আসামী গ্রেফতার শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে লড়বেন সৈয়দ মনসুরুল হক বিশ্বনাথে গ্রামীণ সড়কের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেন এমপি মোকাব্বির

কামরান চত্বর: নামকরণে গড়িমসি, এক সভায় বছর পার!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১  

সিলেটের প্রথম নগরপিতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। রাজনীতির ময়দানে যেমনটি জনপ্রিয়, তার চেয়ে নগরীর মানুষের আপনজন ছিলেন বেশি। নগরবাসীর সুখ-দু:খে সারথি ছিলেন তিনি। জীবদ্দশায় কেবল নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। নগর ভবন ও নগরীর মানুষকে নিয়ে ছিল যার ভাবনা। সিলেটের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামে চত্বর স্থাপনে উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়নি বছর পেরিয়েও। ইতোমধ্যে অন্য চত্বরগুলো নামকরণ হলেও কামরান চত্বরে কেবল চিঠি চালাচালি?

সিলেট সিটি করপোরেশন নগর ভবনের সম্মুখে অবস্থিত ‘সিটি পয়েন্ট’ ‘কামরান চত্বর’ করার দাবি তোলেন নগরবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। কামরানের নামে ঝুলানো হয় সাইনবোর্ডও। কিন্তু সেই চত্বরের নাম করতে এতো গড়িমসি নগর কর্তৃপক্ষের। তা শুধু সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

এক বছরের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও নগর চত্বরকে কামরান চত্বরে রূপ দিতে কোনো উদ্যোগ নেননি নগর কর্তৃপক্ষ। কেবল শুরু থেকে সিসিকের একট সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে কামরান চত্বরের ফাইল। 

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ জুলাই পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাতের আঁধারে সিটি পয়েন্টকে ‘নগর চত্বর’ নামকরণ দিয়ে উদ্বোধন করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি) সৌজন্যে বসানো হয় নামফলক।

উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের দানা বাধে। দাবি উঠে এই চত্বরকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নামকরণের। পরদিন ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা ‘নগর চত্বরের’ ফলক সরিয়ে ‌‌‘জনতার কামরান চত্বর’ ফলক লাগিয়ে দেন।

২৮ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনের মাসিক সভা হয়। ওই সভার শুরুতেই নগর চত্বরকে ‘কামরান চত্বর’ রূপান্তরের বিষয় তুলে ধরেন পরিষদের কাউন্সিলররা। তাদের সাথে একইভাবে মত পোষণ করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও। তখন সিদ্ধান্ত হয় নগর চত্বরকে স্থায়ীভাবে ‘কামরান চত্বর’ নামকরণের। কিন্ত ওই সভার পর এক বছরের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও ‘কামরান চত্বর’ নাম করণ হয়নি। এ নিয়ে আর কোনো সভাও হয়নি। এমনকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নামকরণের প্রস্তাব পাঠানোর কথা থাকলেও তা প্রস্তাবনার ফাইলই তৈরি হয়নি একবছরে।

আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীর অভিযোগ, ‘নগর চত্বর’ করতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কোনো অনুমতি প্রয়োজন হয়নি। অনুমতির প্রয়োজন কেবল ‘কামরান চত্বর’ নামকরণে। কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে চত্বরের নামকরণ বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামে হচ্ছে না- এ অভিযোগও তাদের।

এদিকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কামরান চত্বরের নামফলক কে বা কারা সরিয়ে ফেলে। তাতে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবারো ওই স্থানে জনতার কামরান চত্বরের ফলক বসান। কিন্তু এরপর চত্বরটি থেকে ফলক না সরানো হলেও নগর ভবনের সম্মুখের এ চত্বরটির দিকে নজর নেই নগর কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের সম্মুখে অবস্থিত জনতার কামরান চত্বরের চারপাশে রেলিং বাঁকা হয়ে গেছে। ফুলের গাছের নিচে গজিয়ে উঠেছে ঘাস। তবে নগর কর্তৃপক্ষ বলছেন, চত্বরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, গত বছরে জুলাইয়ের মিটিংয়ের পর আর কোনো মিটিং হয়নি। তবে আমি যতটুকু জানি সাবেক মেয়র কামরানের নামের সাথে আরও কিছু নাম সংযুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কথা রয়েছে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, সিলেটের মানুষের ভরসাস্থল ছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তাঁর মৃত্যুর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ আমরা একটি ভার্চুয়াল সভা করি। ওই সভায় কামরান ভাইয়ের নামে একটা চত্বরের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিলেটের আপামর জনতা ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে সাইনবোর্ড বসায়। প্রশাসনিক যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো পালন করা সিসিকের নৈতিক দায়িত্ব। এটা কামান চত্বর হয়েছে, কামরান চত্বর থাকবে বলেই আশা করি।

কামরান চত্বর বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সিসিকের ওই সভায় দীর্ঘ আলোচনা এবং পরিষদের সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে-নগর ভবনের সামনের চত্বরটি কামরান চত্বরই হবে। এ বিষয়ে দ্রæত ফাইল তৈরী করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং অনুমোদন পেলেই এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কামরান চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো ফাইল তৈরী করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে আর কোনো সভাও হয়নি। 

তিনি বলেন, ওই সভার পরপরই বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ সিলেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনার নামকরণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সেই কমিটির প্রধান করা হয়। এরপর আর কামরান চত্বরসহ অন্যান্য স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ নিয়ে কমিটির কোনো বৈঠকই হয়নি।

কমিটির কার্যক্রম আটকে আছে কোন কারণে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে সঠিক জানি না-কেন এই স্থবিরতা।এটা মেয়র মহোদয় ভালো বলতে পারবেন। কেননা, কারো নামে কোনো চত্বর করতে হলে তার একটি ইতিহাস থাকতে হয়। সেই ইতিহাস বইয়ের মতো করে পরিষদে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে অনুমোদন করা হলে পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি যতদ্রুত সম্ভব পরিষদের সবাই আলাপ-আলোচনা করে ফাইল পাঠানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন। 

এব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাই চাই কামরান ভাইয়ের নামে চত্বর হোক। তার নামের চত্বরটি নামকরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, চত্বর দেখভালের বিষয়টি হচ্ছে যারা স্পন্সর করেছে তাদের। আমরা তাদেরকে এব্যাপারে অবগত করব। শিগগিরই কামরান চত্বরের ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

উল্লেখ্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গত বছরের ১৫ জুন করোনাক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান। পরদিন তার মরদেহ সিলেটে এনে মানিক পীর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার