• শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৩ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
দোয়ারাবাজারে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিদর্শনে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার অবশেষে শুরু হচ্ছে সিলেটের সেই দুই সড়কের সংস্কারকাজ করোনা: ফের মৃত্যুর মিছিলে সিলেটে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি ফয়জুল আর নেই

সিলেটে ৭৮ কোটি টাকায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২১  

বাংলাদেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জে। জকিগঞ্জ পৌরসভার আনন্দপুর গ্রামের ফায়ার স্টেশন লাগোয়া একটি কৃষি জমিতে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সম্ভাব্য একটি কূপে অনুসন্ধান চালিয়ে ৭৮ কোটি টাকা খরচ করে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।

কম খরচে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে বাপেক্স। কেননা বিদেশি কোম্পানি দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যয় অনেক বেশি। রাশিয়ার কোম্পানি গাজপ্রমকে দিয়ে দেশে একটি গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন করতে ১৮০ কোটির মতো খরচ হয়!

গত সোমবার (৯ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে জকিগঞ্জের নাম ঘোষণা করেন। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে এ ঘোষণা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নতুন গ্যাসক্ষেত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্সকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ এলাকায় ১০৩ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালানো হয় ২০১৬-১৭ সালে। তখন বাপেক্সের খরচ হয় ৩ কোটি টাকা। ওই জরিপে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় অনুসন্ধান কূপ খননের প্রস্তাব তৈরি করা হয়। প্রস্তাবে ৮৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সে প্রস্তাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সায় দেয়।

তবে এতো টাকা লাগেনি, বাপেক্স আরো কম ৭৫ কোটি টাকা খরচ করেই অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন করে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। সবমিলিয়ে এটা আবিষ্কারে খরচ হয়েছে মাত্র ৭৮ কোটি টাকা।

জকিগঞ্জে গেল ১ মার্চ বাপেক্স খননকাজ শুরু করেছিল। কাজ শেষ হয় ৭ মে। চারটি স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে একটিতে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের গ্যাস পাওয়া যায়। ৬ হাজার ৮০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আছে এই ক্ষেত্রে। ৭০ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন বিবেচনায় উত্তোলন করা যাবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। প্রতিদিন ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করার বিবেচনায় আগামী এক যুগ এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পরিকল্পনা আছে সরকারের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জকিগঞ্জে পাওয়া গ্যাসের মূল্য ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, জকিগঞ্জ ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পাইপলাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের জন্য জ্বালানি বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছে। ৩৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার