• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সর্বশেষ:
কোরবানির মাংস যেভাবে সংরক্ষণ করবেন সিলেটে রাস্তায় রাস্তায় পশুর হাট সিলেটে ২৪ ঘন্টায় করোনাক্রান্ত ৩৩৯, মৃত্যু ১১ সিলেটে পশুর হাট ‘গরম’, ক্রেতারা বিপাকে সিলেটবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় হামলার শিকার আনসার সদস্য

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২১  

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার রশীদপুর গ্রাম এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীপার ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো রশীদপুর ও আশপাশের এলাকা। এলাকাবাসী ড্রেজার বন্ধ করতে বললে ইউএনও এর অনুমতি আছে বলে চালিয়ে যাচ্ছিলেন ড্রেজারের লোকজন।

আজ শনিবার (১০ জুলাই) ড্রেজারে আপত্তি দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় রশিদপুর গ্রামের আনসার বিডিপির সদস্য নুরুল ইসলাম মামুন। নুরুল ইসলাম মামুন ঘটনাস্থলে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার একটি লাইভও করেন।

এ ব্যাপারে হামলার শিকার নুরুল ইসলাম মামুন বলেন, এখানে অবৈধ বালুখেকোরা দীর্ঘদিন থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে চলছে। এতে আমাদের গ্রাম ও আশপাশের গ্রাম নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। এ ব্যাপারে একাধিকবার বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে লিখিত অভিযোগ দিলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

আজ শনিবার ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলন হচ্ছে দেখে আমি ইউএনও স্যারকে ফোন করে জানাই। তিনি আমাকে বলেন, ড্রেজার চালাবার অনুমতি নাই, তুমি ড্রেজারে গিয়ে ওদের সাথে আমার আলাপ করিয়ে দাও।

নুরুল ইসলাম মামুন গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে ড্রেজারে গিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলতে বললে ড্রেজারে থাকা লোকজন ক্ষেপে গিয়ে তার উপর হামলা চালায়। হামলার শিকার হয়ে তিনি আবারো ইউএনও কে ফোন দিলে তিনি ফোর্স পাঠাচ্ছেন জানান। দীর্ঘক্ষণ পরে বালাগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ মন্ডল ঘটনাস্থলে যান।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ মন্ডল বলেন, বালু উত্তোলনের ঘটনা সঠিক। এখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে৷ তবে, বালু উত্তোলনের জন্য উত্তোলনকারীদের মৌখিক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রজেক্টের প্রয়োজনে এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ৩-৪দিন পরে প্রজেক্ট শেষ হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, প্রজেক্ট শেষে এখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বালু বা মাটি উত্তোলন ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল হক বলেন, বালাগঞ্জে বালু উত্তোলনের ব্যপারে অবগত নন। এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কোন তথ্য নেই।

এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তোলিত বালু ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চাঁন্দপুর এলাকায় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্টক করে বিক্রি করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন থেকে সরকারি অনুমোদন ব্যতিত এভাবে বালি উত্তোলনের ফলে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নদী সড়ক ভাংগন সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বালাগঞ্জ বা ফেঞ্চুগঞ্জ কেউই কোনরূপ অভিযান পরিচালনা করছেন না অজ্ঞাত কারনেই।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার