• সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
সিলেটে নাশকতার মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা সেলিম ১৫টি পাখিসহ মৌলভীবাজারে ২ শিকারি আটক সুনামগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজ শিক্ষকের বিয়ানীবাজার থেকে আরও ৮ মি. ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে জঙ্গি ছিনতাইয়ের মামলায় আসামি ঈদীর আত্মসমর্পণ সচিবদের ১১ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
২৩

দিরাই উপজেলার ৬৭টি মণ্ডপে চলছে দুর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  

করোনা আবহে গৃহবন্দি হয়েছিল গোটা বিশ্ব। টানা দুই বছর ভাটা পড়েছিল উৎসবের মেজাজেও। এখন সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে জীবন। তাই এবার উৎসবের রঙে ফিরছে দুর্গাপূজা।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬৭টি মণ্ডপে চলছে দুর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে হিমসিম খেতে হচ্ছে আয়োজকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষের পথে। মণ্ডপে মৃৎ শিল্পীরা মাটি ও রংয়ের কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এছাড়াও চলছে প্যান্ডেল তৈরি ও সাজ সজ্জার কাজ।

পৌরসভার শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরে কাজে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পী মুরতি আচার্য বলেন, আমি এখানে ৪০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরীর কাজ করছি। একমাস ধরে বিভিন্ন ডিজাইনের প্রতিমা তৈরির কাজ করছে কারিগরা।

তিনি বলেন, এ বছর প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। আমি এখানে ২৫ হাজার টাকা মুজরিতে কাজ করছি। প্রতিমা তৈরিতে আমি শুধু রং এর খরচ দিচ্ছি, বাকি সব উপকরণ মন্দির কর্তৃপক্ষ আমাকে দিচ্ছে।

এবার উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে ৬টি, ভাটিপাড়া ইউনিয়নে ২টি, রাজানগর ইউনিয়নে ৭টি, চরনারচর ইউনিয়নে ১১টি, সরমঙ্গল ইউনিয়নে ১১টি, করিমপুর ইউনিয়নে ৭টি, জগদল ইউনিয়নে ২টি, তাড়ল ইউনিয়নে ৯টি, কুলঞ্জ ইউনিয়নে ৫টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা হরে। এছাড়াও পৌর শহরের শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, মজলিশপুর সার্বজনীন দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদ, হারনপুর সুধন নন্দীর বাড়ীর পূজা মণ্ডপ, আনোয়ারপুর-হারানপুর পূজা মণ্ডপ, শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির পূজা মণ্ডপ, শ্রীশ্রী কালি মন্দির পূজা মণ্ডপ, সরকার বাড়িতে পূজা হবে।

এদিকে প্রশাসনিক ভাবে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা বললেও অধিকাংশ পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়নি।

সার্বজনীন শারদীয় শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা কমিটি চান্দপুর পশ্চিমহাটির সভাপতি মোহনলাল সূত্রধর বলেন, আমাদের চান্দপুর গ্রামে ৬টি পূজা হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ মন্দিরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়নি। কারণ এ খাতে অর্থ ব্যয় করার মত সামর্থ্য আমাদের নাই। তিনি বলেন, আমাদের পূজা ম-পে স্বেচ্ছাসেবকরাই দায়িত্ব পালন করবে। সার্বজনীন শারদীয় শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা কমিটি চান্দপুর পূর্বহাটির সভাপতি হীরন দাস বলেন, পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি জানান, প্রতিটি পূজা মণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা প্রশাসন থেকে বললেও অর্থ সংকটে আমরা সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেরাই সার্বক্ষণিক পূজা মণ্ডপ পাহাড়া দেব।

শ্রীশ্রী কালি মন্দির সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত রায় বলেন, এবার পূজার খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তার পরেও করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে এবার আমরা জমজমাট ভাবে পূজা উদযাপন করতে যাচ্ছি।

দিরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ধনীর রঞ্জন রায় বলেন, দিরাই উপজেলায় এবার ৬৭ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এর মধ্যে ব্যক্তিগত পূজা ২টি।

তিনি বলেন, পৌরসভার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির, কালী মন্দির কমিটি সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছে। আরও অন্যান্য জায়গায়ও করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় পূজা উদযাপনের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, তাই অনেকে টাকার অভাবে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে পারেনি। প্রশাসন সার্বক্ষণিক আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক পূজাম-পের কমিটিকে সিসি ক্যামেরার কথা বলা হয়েছে, যাদের সামর্থ্য আছে তারা ব্যবস্থা করছে। আশা করি সকলের সহযোগীতায় ভালো ভাবে পূজা শেষ হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার