• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু রচিত বই বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন সাকিবকে নোটিশ পাঠাল বিসিবি সিলেটের শ্রেষ্ঠ এএসআই মোহাম্মদ অলিউল হাসান
৩৩

প্রবাসী পরিবারের ট্রাজেডি: জেনারেটরের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২২  

সিলেটের ওসমানীনগরে প্রবাসী পরিবারের ট্র্যাজেডির ঘটনাটি নতুন মোড় নেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে জানা যায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গতকাল বুধবার মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরস্থ স্কুলরোডের ভাড়া বাসায় গিয়ে ওঠেন। তাদের উপস্থিতিতে পুলিশও ট্র্যাজেডিস্থল ওই বাসা পরিদর্শন করেছে। এসময় হোসনে আরা বেগম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে বাসার ভেতর জেনারেটর চলতো। জেনারেটর চালুর পর তার ছেলে মাইকুল ইসলামের শ্বাসকষ্ট হতো। ঘটনার দিন ২৫ জুলাই রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘক্ষণ জেনারেটর চালু ছিল। বিষয়টি জানার পর বাসার জেনারেটর চালু করলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরাও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, সাধারণত বাসা-বাড়িতে জেনারেটর বাইরে থাকে। কিন্তু ওই বাসার ভেতরে জেনারেটর ছিল। পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য বাসার জেনারেটর চালু করা হলে কিছুক্ষণ পর উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার রাতে দীর্ঘক্ষণ জেনারেটর চালু থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। অচেতন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও অপর এক ছেলে ও মেয়ে। তবে এখনো নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। জেনারেটরের ধোঁয়া সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ধোঁয়া থেকে কি ধরণের বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে পরীক্ষার পর ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে তা জানা যাবে।

এই ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ জানতে মারা যাওয়া পিতা-পুত্রের ময়নাতদন্ত ও ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

এদিকে, এদিকে হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলামের সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেলেও এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন মেয়ে সামিরা ইসলাম। গত ২৬ জুলাই ভর্তির পর থেকে একবারের জন্যও সামিরার জ্ঞান ফিরেনি। 

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আবদুল গাফফার জানান, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হোসনে আরা বেগম ও সাদিকুল ইসলামকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তাদেরকে কিছু ঔষধ লিখে দেয়া হয়েছে। আর সামিরার এখনো জ্ঞান ফিরেনি। তার শরীরের কিছু অঙ্গ কাজ করছে না। এখনো শঙ্কার মধ্যে রয়েছে সে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। এরপর ঢাকায় একসপ্তাহ থেকে গত ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন । ২৫ জুলাই সোমবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন দেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানাপুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি তিনজনকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার