• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু রচিত বই বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন সাকিবকে নোটিশ পাঠাল বিসিবি সিলেটের শ্রেষ্ঠ এএসআই মোহাম্মদ অলিউল হাসান
৫৭

রাতে ফাস্টফুড খেয়ে ঘুমিয়েছিল ওসমানীনগরের সেই প্রবাসী পরিবার

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২২  

দোকান থেকে বার্গার ও জুস এনেছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। স্ত্রী-সন্তানসহ সেগুলো খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আর ঘুম ভাঙেনি তার। ঘুমের মধ্যে মারা যান রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলাম। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় স্ত্রী হুসনেয়ারা বেগম, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম এবং একমাত্র কন্যা সামিরা ইসলামকে।

কান্না করতে করতে এসব তথ্য জানান নিহত রফিকুলের ৭৫ বছর বয়সী শ্বশুর আনফর আলী।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) আনফর আলীর সাথে আলাপ হলে তিনি এ সব তথ্য জানান। তিনি জানান, সোমবার তাজপুর বাজার থেকে বার্গার জুসসহ বিভিন্ন ফাস্টফুড অন্যান্য খাবার কিনে আনেন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। ঐ রাতে তাজপুরের স্কুল রোডের ভাড়া ভাসায় আর কোনো আত্মীয়স্বজন কিংবা কোনো লোকজন আসেনি। সোমবার রাতে তারা ৫ জন ফাস্টফুডগুলোই খায়। বাসার অন্যান্য আত্মীয়রা বাসার খাবার খেয়ে ঘুমায়। 

তিনি আরো জানান, রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসার পূর্বে শ্বশুরকে ভাড়া বাসা ঠিকানা ও তিনি যে দেশে আসছেন সে বিষয়ে আত্মীয়স্বজনসহ কাউকে জানাতে বারণ করেন। কিন্তু কি কারণে মেয়ে জামাই শ্বশুরকে বারণ করেছে সে ব্যাপারে আর কিছু জানে না বলে আনফর আলী জানান।

এদিকে প্রবাসী পিতা পুত্র নিহত ও পরিবারের অন্য তিন সদস্য বিষক্রিয়া অচেতন অবস্থায় আসপাতালে চিকিৎসাধিন থাকলেও ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হবার পর এখন পর্যন্ত এর কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে নিহত পিতা পুত্রের ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টায় উপজেলার দয়ামীর ইউপির পরকুল মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নাম শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি খতিপুর বড় ধিরারাইয়ের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে যুক্তরাজ্য থেকে নিহতের ছোট দুই ভাই শফিকুল ইসলাম, বিজেকুল ইসলাম, বোন শাহীনা বেগম ও মা জরিনা জব্বার দেশে এসে রফিকুল ও তার ছেরের দাফনকাপন সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রফিকুলের শ্যালক দিলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি অপমৃত্যু (মামলানং-২১) দায়ের করেন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও বড় ছেলের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তার কন্যা সামিরা ইসলামের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, নিহত পিতা পুত্রের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে। তাদের ভিসেরা রিপোর্টসহ উদ্দারকৃত আলামত ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে পাটানো হয়েছে। এগুলোর রিপোর্টসহ নিহতের পরিবারের অন্য তিন সদস্য সুস্থ হলে তাদের নিকট থেকে তথ্য পেলে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার