• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে আসছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান আওয়ামী লীগের গর্জনে কাঁপছে সিলেটের রাজপথ বাংলাদেশ সংকটে নেই, ঋণখেলাপিতে যাওয়ার ঝুঁকি কম: আইএমএফ বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ বরখাস্ত
২৮

আশ্রয়ণ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার মিথ্যাচার

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২২  

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নামে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

বন্যার্ত কয়েকটি পরিবারকে আশ্রয় প্রদান করে ভুঁইফোড় অনলাইন মিডিয়া ডেকে চার শতাধিক লোকজনকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অপপ্রচার চালিয়েছে অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতা। এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহলে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। 

জানা গেছে, অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ওসমানীনগরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ লোকজন বন্যাক্রান্ত হয়ে পড়ে। এসময় উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা হিজলশা গ্রামের আব্দুল হেকিম তার নিজ বাড়ির ২য় তলায় কয়েকটি পরিবারকে আশ্রয় দিয়ে রান্না করা খাবারের আয়োজন করেন।

এ বিষয়ে একাধিক সাংবাদিকরা প্রোপাগান্ডা বানানোর উদ্দেশ্যে তাদের ভুঁইফোড় ফেসবুক পেইজে লাইভে এসে আব্দুল হেকিমকে উমরপুর ইউনিয়নের জনতার চেয়ারম্যান আখ্যা দেয়। তারা বাড়ির মালিক হেকিমসহ আশ্রয় নেয়া একাধিক ব্যাক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

ওই সাক্ষাতকারে দাবি করা হয়- আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান না হয়ে তার বাড়িতে চারশতাধিক লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে তাদের খাবারসহ সার্বিক ব্যায় বহন করছেন অন্যদিকে বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বানভাসি লোকজনকে ত্রাণতো দূরের কথা পানিবন্দিদের ইউনিয়নের ভিতরে আশ্রয় দিতেও রাজি হচ্ছেন না। আশ্রয় নেয়ার জন্য কয়েকটি পরিবার ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ইউনিয়নের চৌকিদার তাদের বের করে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মেইন গেইট তালাবদ্ধ করে রেখেছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের পাশ্ববর্তী আব্দুল হেকিমের বাড়িতে বন্যার্তরা আশ্রয় নেয়ার পর থেকে তিনি আশ্রয়দাতা হিসাবে আশ্রিতদের যাবতীয় ব্যায়ভার তিনি বহন করছেন।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের পর খোঁজ-খবর নিয়ে অনেকেই জানতে পারেন, আব্দুল হেকিমের বাড়িতে চার শতাধিক লোজনকে আশ্রয় দেয়া হয়নি। তার অনুগত কয়েকটি পরিবারকে জায়গা দিয়ে নিজের জনবান্ধবতা বাড়াতে ফেসবুক পেইজের লাইভে উমরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়েছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান চারশতাধিক নয়, ১৫/২০টি পরিবারের ৪০/৫০জন লোক আব্দুল হাকিমের বাড়ির ২য় তলায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং আশ্রয়ের পর থেকে আব্দুল হেকিম নিজ অর্থায়নে তাদের খাবারের ব্যবস্থাসহ যাবতীয় ব্যায়বার বহন করছেন বলে আশ্রিতরা নিশ্চিত করেন।

উমরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম খান ও যুবলীগ নেতা লিমন মিয়াসহ অনেকেই জানান, বিএনপি নেতা আব্দুল হেকিম সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি নিজেকে জনবান্ধব সাজাতে নিজের অনুগত ৩০/৪০জন লোকজনকে জড়ো করে ইউনিয়নের টানা দুইবারের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও ইউনিয়ন পরিষদ তালাবদ্ধ বলে অপপ্রচার চালিয়েছেন। বন্যার্তদের আশ্রয়ের নামে বিএনপি নেতার এমন অপপ্রচারে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ফেসবুক পেইজের লাইভকারীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তারা।

উমরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক আখলুসহ একাধিক সদস্য বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়ার সার্বিক দিক নিদের্শনায় বন্যার শুরু থেকে ইউনিয়ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে সবরকমের সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। যাদের গৃহ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে তাদেরকে নিরাপদে আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রেরণসহ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার প্রদান করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন এলাকায় সরকারিভাবে কয়েকটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ব্যবস্থা করার পরও একটি চক্র সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে পরিকল্পিতভাবে লোকজনকে জড়ো করে আশ্রয়ের নামে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস কক্ষগুলোতে লোকজনের থাকার জায়গা দেয়ার অনৈতিক দাবি তুলে। এসময় সরকার কর্তৃক বিধি-নিষেধ থাকায় দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ তাদের ইউনিয়নের অফিস কক্ষগুলোতে লোকজনকে জায়গা না দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বিএনপি নেতা আব্দুল হেকিমের বাড়িতে জড়ো করে লাইভে এসে জনপ্রতিনিধিসহ ইউনিয়ন পরিষদে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হয়। যা খুবই দুঃখজনক।

তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল হেকিম বলেন, কারো প্রতি আমার কোনো প্রতিহিংসা নেই। সাংবাদিকের দিয়ে এসব প্রচার করাতেও চাইনি এরপরও স্থানীয় অনলাইন মিডিয়া এখানে এসে লাইভ করেছে। সেখানে আমি চেয়ারম্যান-মেম্বারকে জড়িয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি। কারণ চেয়ারম্যান মেম্বাররা উনাদের জায়গা থেকে ইউনিয়নের বানভাসী মানুষের জন্য যা পারেন করছেন। আমিও আমার অবস্থান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছিলাম। বন্যার পানি বৃদ্ধির খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের মাধ্যমে আমি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে পানিবন্দি লোকজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসে তাদের খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে তড়িঘড়ি করে দেশে চলে এসেছি। কিন্তু একটি চক্র প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে বন্যার্তদের আশ্রয়ের নামে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে যা খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও এসব বিষয়ে কারো প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ বা হিংসা নেই। সকলে মিলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সম্মিলিতভাবে ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পাশে দাঁড়াই। 

এসময় ইউনিয়নের বানভাসি মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার