• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
মঙ্গলবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ওসমানীনগরে ২শ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট "প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি" বন্যায় সিলেটে ১২ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হবিগঞ্জে নদীর পানি কমেছে, উন্নতি নেই হাওরাঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যা পর্যবেক্ষণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৩৫

সুনামগঞ্জে ৫ দিন অপেক্ষার পর মরদেহ দাফন

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

সুনামগঞ্জে বন্যার পানিতে সবকিছু ডুবে যাওয়ায় আশরাফ আলী নামের এক ব্যক্তির লাশ দাফন করতে পারেননি স্বজনরা। তাই অপেক্ষা করছিলেন কবে পানি কমবে আর লাশ দাফন করবেন। অবশেষে ৫দিন পর শহরতলির সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের কবরস্থানের সামান্য অংশ ভেসে ওঠায় বুধবার দুপুরে তাকে দাফন করা হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা সাজন মিয়ার মরদেহ পাঁচদিন ধরে কফিনবন্দি হয়ে আছে। কবরস্থান থেকে বন্যার পানি নামলে বৃহস্পতিবার তার লাশ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন সাজন মিয়ার স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার উজানের ঢল ও প্রবল বর্ষণে সুনামগঞ্জ শহরসহ প্রায় প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত হয়। শুক্রবার ভোর রাতে পানির উচ্চতা হঠাৎ করে চার থেকে পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি-ঘরসহ জনপদে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। জেলার বিভিন্ন কবরস্থান, শ্মশানেও হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও গলা সমান পানি ছিল। এমন অবস্থায় স্বজনদের লাশ দাফন করতে না পেরে কফিনবন্দি করতে পানি কমার অপেক্ষা করেন। ৪-৫ দিন পর বন্যার পানি নামতে শুরু করায় স্বজনদের লাশ দাফন করেন তারা।

সুনামগঞ্জ শহরতলির ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী জানান, ঘরের চাল সমান পানি হওয়ায় তার বাবাকে নিয়ে ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলায় ওঠেন তারা। সেখানে শুক্রবার রাত পৌঁনে একটায় তার বাবা আশরাফ আলী (৭০) মারা যান। পরেরদিন অনেক চেষ্টা করে একটি কাঠের বাক্স দিয়ে নিজেরাই কফিন তৈরি করেন তারা। পরে দুটি বাঁশ কুপে পানির উপর তার বাবার লাশ বেঁধে রাখেন। ৫ দিন পর বুধবার কবরস্থানে উচুঁ অংশ ভেসে উঠলে বাবার লাশ দাফন করেন তারা।

ইব্রাহিম আলী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে হঠাৎ করে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান।

একই গ্রামের সাজন মিয়া (৬০) বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার সময় বাসে মারা যান। তার মরদেহও একদিন পর কফিনবন্দি করে ইব্রাহিমপুর কবরস্থানে নিয়ে বাঁশ কুপে বেঁধে রাখা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বললেন, পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের মধ্য মরদেহ দাফন করার জন্য কোনো জায়গা ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি সাহায্য করার। পরে তাদেরকে কাঠের বাক্স দিয়ে সহায়তা করে বলেছি, কফিন নিয়ে পানির উপরে ভালো করে বেঁধে রাখো। পানি কমলে দাফন করবে। আজ কবরস্থানের উঁচু একটি অংশের পানি কমেছে, এজন্য একজনের দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর সাজন মিয়াকে কাল দাফন করা হবে।

এদিকে মরদেহ দাফন করতে না পারার খবর পেয়ে বুধবার কোস্টগার্ডের একটি দল সেখানে লাশ উদ্ধার করতে যায়।

এসময় কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা লে. সাব্বির আলম বললেন, বানভাসিদের উদ্ধার ও ত্রাণ প্রদানে কাজ করছে কোস্টগার্ড। বুধবার সকালে আমরা খবর পাই লাশ দাফনের জায়গা না পেয়ে ছয়দিন ধরে লাশ নিয়ে বসে আছে দুটি পরিবার। এ খবর পেয়ে আমরা তাদের সহায়তা করতে যাই। গিয়ে দেখেছি কবরস্থানের একটি উচুঁ অংশ থেকে পানি নেমেছে এবং একজনের লাশও দাফন হচ্ছে। আরেকজনের লাশ দাফনে আমরা সহায়তা করবো।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার