• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
মঙ্গলবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ওসমানীনগরে ২শ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট "প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি" বন্যায় সিলেটে ১২ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হবিগঞ্জে নদীর পানি কমেছে, উন্নতি নেই হাওরাঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যা পর্যবেক্ষণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৪১

বন্যায় সংকটে আছে পশু-পাখিরাও, কী হবে তাদের?

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চলে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে। সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিও। বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিদেরও খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সংকট করুণ পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়েছে সড়ক ও বনের পশুপাখিদের। অবস্থা এমন যে প্রকৃতির এই সদস্যদের ক্ষতিটা কতটুকু; তারও হিসাব এখনও করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অঞ্চলের পশু-পাখিরা দূষিত পানি পান করছে, সেই সঙ্গে বাসস্থানের সমস্যা। ফলে এরই মধ্যে অনেক পশু-পাখির নানাধরনের রোগের দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত এ অঞ্চলের পশু-পাখির জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া না গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি দাঁড়াবে।

স্থানীয়ভাবে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসগুলো গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সমস্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নানা সীমাবদ্ধতার মধেই চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। পরামর্শের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন, পেটের সমস্যা ও নিউমোনিয়ার ওষুধ। কোথাও কোথাও ত্রিপল খাঁটিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে পশু-পাখির।

গত রোববারের (১৯ জুন) সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাব অনুযায়ী, সিলেট জেলার সবগুলো উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৭২টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৭৭৪ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। গবাদি খামার, হাঁস-মুরগির খামার, কৃষি ভূমি ও দানাদার খাদ্য, নষ্ট খড় ও ঘাস ও মৃত পশু-পাখি মিলিয়ে মোট ক্ষতি আড়াই কোটি টাকারও বেশি।

বন্যার পানিতে নষ্ট হওয়া খড়ের পরিমাণ ১ হাজার ৯৩৪ টন, যার আনুমানিক মূল্য ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ঘাসের পরিমাণ ২ হাজার ৯৬১ টন, যার দাম প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর মারা গেছে ১১টি গরু, পাঁচটি মহিষ, ২৪টি ছাগল, ১০টি ভেড়া, ২ হাজার ৭১৫টি মুরগি ও হাঁস ৪৯১টি।

স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা কার্যক্রম চললেও এই দুর্যোগ মোকাবেলায় ক্ষেত্রে এখনও কোনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বুধবার (২২ জুন) জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুস্তম আলী বলেন, বন্যায় পশু-পাখির খাদ্য সংকটটা সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান পরিস্থিতি জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কিছু বরাদ্দের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার বলেন, গবাদিপশুর ক্ষেত্রে খাদ্যের সংকট সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি আটকে খড়কুটো ও ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। পানি শুকালে এসব খাদ্য নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সে জন্য বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করছেন।

এদিকে, বন্য পশু-পাখিদের আবাস ও খাবার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিলেও কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কেবল পোষ্য প্রাণিসম্পদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে, সেটি নিরুপণে কাজ করার বিষয়টি জানিয়েছেন তারা। এ নিয়ে পশু-পাখিপ্রেমীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার