• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
মঙ্গলবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ওসমানীনগরে ২শ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট "প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি" বন্যায় সিলেটে ১২ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হবিগঞ্জে নদীর পানি কমেছে, উন্নতি নেই হাওরাঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যা পর্যবেক্ষণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২০

ওসমানীনগরে আশ্রয়কেন্দ্রে জনপ্রতি ৪দিনে ১টি কলা!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২  

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ হাই স্কুল এন্ড কলেজ। ৫ দিন হয়েছে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বিদ্যালয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই আশ্রয়কেন্দ্র প্রায় ৫৮-৬০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন ৫ দিনে। পশ্চিম বুরুঙ্গা গ্রামের স্বামী হারা টয়া রানী কর এক ছেলে এক মেয়কে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র উঠেছেন ৪ দিন হয়েছে।

গত সোমবার খাওয়ার জন্য তাদের একটি করে কলা দেয়া হয়েছে। একই গ্রামের নরিন্দ্র করও এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে। তিনিও জানান তারা জনপ্রতি একটি করে কলা সহায়তা পেয়েছেন। আর কোন সহায়তা পাননি। সাদিপুর ইউনিয়নের খুসরুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আশ্রয়কেন্দ্রেটিও রয়েছে পানিবন্দি। পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় এই আশ্রয়কেন্দ্রর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও নাজুক। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৬-৮ পরিবারের বন্যাক্রান্তরা। কলাগাছের ভেলায় সড়জমিনে সেই আশ্রয়কেন্দ্র এই প্রতিবেদক গেলে রুপিয়া বেগম নামের একজন দৌড়ে আসেন। তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান ত্রাণের নৌকাটা আর কত দূর। ৪দিন হয়েছেন এখানে উঠেন তার পরিবার। কিন্তু কোন ধরণের সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। স্থানীয় এক প্রবাসীর উদ্যোগে কিছু পরিমান চিড়া পেয়েছেন। উপজেলার বেশ কয়য়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
 
জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমন অবস্থায় জরুরী আশ্রয় কেন্দ্র্রে উঠছেন পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা। তবে বেশির ভাব আশ্রয়কেন্দ্রও রয়েছে পানিবন্দি। শুকনো খাবারের জন্য হাহাকার করছেন পানিবন্দি মানুষ। কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি সহায়তা না পৌঁছায় আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দারা ভুগছেন খাদ্যসংকটে। কয়েকদিন দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষোয় রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। দুই একটি ইউনিয়ন থেকে সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হলেও রান্না করার মতো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে রয়েছেন বন্যার্তরা। 

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই উপজেলায় ত্রাণ সহায়তা পেতেও বিলম্ব হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। 

উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে উসমানপুর ইউনিয়নের ৩০ হাজার, বরুঙ্গা ইউনিয়নের ২০ হাজার, গোয়ালাবাজর ইউনিয়নে ৪০ হাজার, দয়ামীর ইউনিয়নে ২৫ হাজার, উমরপুর ইউনিয়নের ২৫ হাজার, তাজপুর ইউনিয়নের ৩০ হাজার, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে ৩০ হাজার, সাদিপুর ইউনিয়নে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুন) পর্যন্ত এক হাজার ৩১ পরিবারের ৮৪ হাজার ৯শ ৮০ জন মানুষ বন্যাক্রান্ত রয়েছে। তাদের জন্য ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দ ২৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা বিতরণ কার্যক্রম চলমান।  

সরজমিনে উপজেলার একাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখো গেছে, সরকারি কোন ধরণের খাদ্য সহায়তা অনেকের হাতে পৌছায়নি। স্থানীয়দের উদ্যোগে কিছু পরিমাণ শুকনো খাবার পেয়ে দিন পার করেছেন তারা। বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজের এই চিত্র দেখে স্থানীয় এক প্রবাসী এগিয়ে এসেছেন। বুধবার ৮শ মানুষকে এক বেলার খাবার বিতরণ করবেন তিনি। 

বুরঙ্গা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দিপঙ্কর দেব শিবু বলেন, ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষনিক এই আশ্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় বলেন, পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যাক্রান্তদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বন্যাক্রান্তদের সঠিক তথ্য তুলে আনার চেষ্টা করছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলীমা রায়হানা বলেন, বানবাসী মানুষের জন্য ২৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা সরকারি সহায়তা পৌছে দেয়া হচ্ছে। সকল আশ্রয়কেন্দ্রের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।  

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার