• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
মঙ্গলবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ওসমানীনগরে ২শ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট "প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি" বন্যায় সিলেটে ১২ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হবিগঞ্জে নদীর পানি কমেছে, উন্নতি নেই হাওরাঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যা পর্যবেক্ষণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৪৪

গোলাপগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, নৌকার সংকট 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২২  

গোলাপগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে সুরমা নদী ও কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গোলাপগঞ্জ পৌরসভা সহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলা জুড়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ইউনিয়নের প্রায় ৯০ভাগ গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন ইউনিয়নবাসী। বাঘা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে অবস্থিত বুরহান উদ্দিন সড়ক ইতিমধ্যে প্রায় ৫ ফুট পানির নিচে প্লাবিত হয়েছে। কানাইঘাট, সিলেট সদর ও বাঘা ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী সড়কটি পানির নিচে নিমজ্জিত থাকায় এ সড়ক দিয়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাঘা ইউনিয়ন। 

বন্যার্তদের জন্য উপজেলার বাঘা ইউনিয়নে ৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র, পৌর এলাকায় ২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বাঘা ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো- নলুয়া কান্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণবাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর গোলাপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালানডুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পৌর এলাকার হাজি জছির আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমসি একাডেমি মডেল স্কুল ও কলেজে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে পানিবন্দি এলাকায় দেখা দিয়েছে নৌকার সংকট। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় পানিবন্দি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।

বাঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন এ ইউনিয়নের প্রায় ৯০ভাগ এলাকার মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নেয়া হচ্ছে পানিবন্দি মানুষকে।

অপরদিকে গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সুরমা তীরবর্তী স্বরস্বতী, কান্দিগাওসহ বেশ কিছু এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও গোলাপগঞ্জ বাজারের কাচাবাজার সুরমার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাজারের অন্যতম সড়ক আহমদ খান রোডে পানি উঠেছে। এতে প্বার্শবর্তী বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাজারে চতুর্থবারেরমতো জোয়ার নেমেছে। এতে প্রায় ২ শতাধিক দোকানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের শিংপুর, হিলাপুর গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। শরীফগঞ্জ, বুধবারীবাজার, ঢাকাদক্ষিণ, ভাদেশ্বর ও বাদেপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বানভাসি মানুষের মধ্যে ২৪টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। নৌকার সংকট থাকায় পানিবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার