• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে আসছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান আওয়ামী লীগের গর্জনে কাঁপছে সিলেটের রাজপথ বাংলাদেশ সংকটে নেই, ঋণখেলাপিতে যাওয়ার ঝুঁকি কম: আইএমএফ বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ বরখাস্ত
১৮১

ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপন: ৫ বছরেও শেষ হয়নি ভূমি অধিগ্রহণ

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২২  

সিলেটের জাফলংয়ে দেশের প্রথম ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের কাজ ঘোষণার ৫ বছর পরও শেষ হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো মূল্য নির্ধারণ পর্যায়েই রয়েছে। অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হলে কোনোভাবেই মূল কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী সংরক্ষিত এলাকা থেকে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে যাচ্ছে। ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনে সরকারের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষা করা যাবে না।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জাফলংয়ের ডাউকি নদীর তীরে ইউসিন যুগের একমাত্র লাইমস্টোন, কপিলি শেইল’র স্তর এবং বোল্ডার বেড সমৃদ্ধ ঐ অঞ্চলের ২২ দশমিক ৫৯ একর ভূমি এলাকাকে ‘ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। সংরক্ষিত ঐ এলাকায় একটি ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের কথা জানায় বিএমডি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাটির সীমানা নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে গার্ডশেডসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ব্যয় নির্ধারণের খসড়া তৈরি করতে গণপূর্ত অধিদফতরকে অনুরোধ জানানো হয়। গণপূর্ত বিভাগ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরকে ঐ এলাকার একটি ডিজিটাল সার্ভে মানচিত্র প্রদান করতে বলে।

গণপূর্তের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল সার্ভের কাজ সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের একজন ভূতত্ত্ববিদ এবং গোয়াইনঘাটের ইউএনও ২০১৭ সালের মে মাসে সরেজমিনে ঐ এলাকা পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের দুইজন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের একজন সার্ভেয়ার মিলে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত ঐ অঞ্চলের ২২ দশমিক ৫৯ একর ভূমির ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ ও চিহ্নিত করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

জানা গেছে, সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেয়ে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ২২ দশমিক ৫৯ একর জমি অধিগ্রহণের তেত্রিশ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখে। কিন্তু ঐ বছরই ভূমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধন হয়ে অধিগ্রহণ মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভূমির মূল্য বিবেচনা করে পরের অর্থবছরে ২২ দশমিক ৫৯ একরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ চলাকালে ২০২০ সালের আগস্টে ‘মেসার্স জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়ে জাফলংয়ে ইসিএ ও ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকা ১৯৭২ সালে অধিগ্রহণ করেছে বলে দাবি করে। এ সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সংবলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পাথর তোলার প্রস্তুতি নেয় তারা। বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা প্রশাসনকে একটি চিঠি দিয়ে ওই ভূমিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা জানান বিএমডি মহাপরিচালক।

চিঠিতে বলা হয়, জাফলং ইসিএভুক্ত এলাকা ছাড়াও ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় একটি ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপন করা হবে। মেসার্স জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশনসহ আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে ঐ স্থানে পাথর উত্তোলন থেকে বিরত থাকতে হবে। জাফলংয়ের ঐ স্থানে উন্মুক্ত শিলাস্তর, চুনাপাথর সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য জাতীয় স্বার্থে ২৫ দশমিক ৫৯ একর ভূমিকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাদুঘর নির্মাণে এরই মধ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ জাদুঘর দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হবে।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ও সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএমডি আইনিভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিয়েছে। এরপর থেকে সংরক্ষিত এ এলাকায় জাদুঘর স্থাপন প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন।

তবে সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সার্ভেয়ার পাঠিয়ে ফের এলাকাটি জরিপ করা হয়েছে। সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ মূল্য নির্ধারণ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমান বলেন, ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের বিষয়টি খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর দায়িত্বে। জাদুঘর নির্মাণের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিএমডি থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে ‘মেসার্স জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার আগে লাইম স্টোনের জন্য অধিগ্রহণ করেছিল। এখন লাইম স্টোন নেই। ১৯৯০ সালের দিকে এটি বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে এখানে তাদের কোনো অস্থিত্ব নেই।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জাফলংয়ে ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের জন্য এখনো ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষের দিকে। মূল্য নির্ধারণ কাজ চলছে। সম্প্রতি আমাদের সার্ভেয়াররা এলাকাটি আবার জরিপ করেছেন। মূল্য নির্ধারণ হয়ে গেলে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রস্তাবনা পাঠাবো।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ভূতত্ত্ব) আব্দুল বাকি খান মজলিশ বলেন, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না করায় জাদুঘর স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে না। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। জেলা প্রশাসন যত দ্রুত আমাদের সহযোগিতা করবে আমরা তত দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, জাফলংয়ের ২২ দশমিক ৫৯ একর ভূমি এলাকাকে ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করা হয়েছে। জাদুঘর স্থাপনে আমাদের সব জায়গা অধিগ্রহণ করা লাগবে না। তাই প্রাথমিকভাবে ১০ একর জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার