• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে আসছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান আওয়ামী লীগের গর্জনে কাঁপছে সিলেটের রাজপথ বাংলাদেশ সংকটে নেই, ঋণখেলাপিতে যাওয়ার ঝুঁকি কম: আইএমএফ বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ বরখাস্ত
৮০

গোয়াইনঘাটের নওয়াগাওঁ হচ্ছে মডেল গ্রাম

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২২  

প্রাকৃতিক সম্পদের ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। এ উপজেলায় রয়েছে প্রকৃতি কন্যা জাফলং, জল পাথরের বিছনাকান্দি, জলপ্রপাতের পান্তুমাই, মায়াবতী ঝর্ণা, মায়াবন,হিজল-করচের দামারী,দেশসেরা জলারবন রাতারগুলসহ শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র।

উপজেলাজুড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ আর একটু পরপর সবুজ ছায়াঢাকা গ্রাম। গ্রামের বাড়িগুলো বেশিরভাগই টিনের। ইটের দু-চারটি ঘরের সঙ্গে মাটির ঘরও চোখে পড়ে মাঝেমধ্যে। এমনি এক গ্রাম নওয়াগাওঁ ।


গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাওঁ গ্রাম থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে ৬ একর জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে প্রায় ৭/৮ ফুট উঁচু ৬৫০ বর্গফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০৩ বর্গফুট প্রস্থ একটি বিশাল আয়তনের মাঠ তৈরি করা হয়েছে।

 
ভরাটকৃত এ মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ১০০ টি ঘর। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমি ও গৃহহীন একশতটি পরিবার এইসব ঘর পাবেন। ওইসব ঘরের নামের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের কেউ কেউ এখনো থাকেন অন্যের জায়গায় ঘর তুলে। অনেকে আবার বসবাস করছেন খাসজমিতে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে গৃহহীন ও ভুমিহীন পরিবারগুলো যাবে আপন ঠিকানায়। নিজের জায়গায় নিজের ঘরের সামনে দাঁড়িনোর নতুন স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে তাদের মনে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সেসব কথা তুলে ধরেছেন তারা।

২৫ বছর থেকে দিন মজুরির কাজ করে জীবন কাটাচ্ছেন মানসিক রোগী আব্দুল কাদির। স্ত্রী জয়তেরা বেগমকে নিয়ে খালের পাড়ে খাসজমিতে ছোট ঝুপড়িতে থাকতেন। জীবনের শেষবেলায় এসে নিজের জায়গা হতে চলেছে তার। স্ত্রীকে পাশে নিয়ে নতুন জীবনের গল্প শুরুর আগে অতীতের কথা বললেন তিনি, ‘সারা জীবন মানুষের কাজ করে খেয়েছি। নিজের ঘর হবে, তা কখনো ভাবিনি। তাও আবার পাকাঘর। এটা তো স্বপ্নের চেয়েও বেশি।’

১০০টি ঘরের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই বলেন, অন্যের জায়গায় কোনোরকমে মাথা গুঁজে বেঁচে ছিলেন তারা। অসহায় এ মানুষগুলোর নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে জেনে মহাখুশি । তারা বলেন এখন নিজদের আত্মপরিচয়ে মাথা উঁচু করে নতুন জীবনে যাত্রার স্বপ্ন দেখছেন। এখানে ঘরের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি পাওয়া ফেরুজা বেগমের নিজের বয়স কত মনে নেই। শুধু মনে আছে জন্মের পর থেকেই কষ্ট আর লড়াইয়ের জীবনস্মৃতি। বৃদ্ধ বয়সে এসেও নিজের কোনো জায়গা না থাকার একটা বেদনা ছিল। জীবনেও ভাবেননি সরকার তাকে ঘরের স্বপ্ন দেখাবে।

 
নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস কামরুল হাসান আমিরুল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নন্দীরগাঁও ইউনিয়নে যে ১০০ টি ঘর তৈরী করা হবে আমরা চেষ্টা করেছি সে তালিকায় প্রকৃত গৃহ ও ভূমিহীনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ জানান, মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে মোট ৫৪৩টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। ৩য় পর্যায়ে ৩০০টি গৃহ নির্মাণ কাজ চলমান। এর মধ্যে নন্দিরগাও ইউনিয়নের নওয়াগাওঁ গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০০টি গৃহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি গৃহ নির্মাণে ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ২,৫৯,৫০০/-। উক্ত গৃহ গুলোর কাজ মার্চের মাঝামাঝিতে শুরু করা হবে যা এপ্রিল/মে মাসের মধ্যে শেষ করা হবে।

নওয়াগাওঁ প্রকল্পটিকে মডেল গ্রাম বা সাস্টেইনেবল ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ডিপটিউবওয়েল, ওভার হ্যাড ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ পূর্বক ঘরে ঘরে পানি সাপ্লাই এর ব্যবস্থা সহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩ পাশে খাল খনন করা হয়েছে যা এখানকার মানুষের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি আবাদে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রকল্পের পূর্ব পাশ দিয়ে একটি বড় খাল খননের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যার সরাসরি পার্শ্ববর্তী নদীর সাথে সংযোগ থাকবে। খালের উৎস মুখে সোলার সেচ পাম্প বসানোরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে করে কৃষি আবাদ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন "গ্রাম হবে শহর" বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি ভাল উদাহরণ হওয়া সম্ভব।

 
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষ্যে দেশের সব ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল-ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা, আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও প্রকৃত ভূমিহীন, গৃহহীনদের তালিকা অন্তর্ভুক্তির জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার ভুমি, সহকারী ভুমি কর্মকর্তাগন, উপসহকারী ভুমি কর্মকর্তাগন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একযোগে কাজ করছেন।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার