• বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে আসছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান আওয়ামী লীগের গর্জনে কাঁপছে সিলেটের রাজপথ বাংলাদেশ সংকটে নেই, ঋণখেলাপিতে যাওয়ার ঝুঁকি কম: আইএমএফ বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ বরখাস্ত
২২০

সিলেটে নৌকার জয়ে বাধা বিদ্রোহীরা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২১  

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে নিদ্রাহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এ উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে ৪৭১ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন। চেয়ারম্যান পদে মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিয়ানীবাজারের ১০টি ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দুটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও অন্য কয়টিতে বিরোধী মতের প্রার্থীদের কাছে রীতিমতো অসহায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা।

উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আহবাবুর রহমান খান শিশুকে বেকায়দায় ফেলেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ (বিএনপি)। ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মামুন টানা দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

চারখাইয়ে নৌকার প্রার্থী মাহমুদ আলীও কঠিন পরীক্ষায় রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উপজেলা পর্যায়ের নেতা হোসেন মুরাদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও মাঠ কাঁপাচ্ছেন। আলীনগরের মতো চারখাইয়েও কঠিন পরিস্থিতির মুখে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী। শেওলায় ভোটাররা মুখ না খুললেও নৌকার প্রার্থী জহুর উদ্দিনের সঙ্গে মূল লড়াইয়ে থাকবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার হোসেন খান জাহেদ (বিএনপি)। এই ইউনিয়নে জেতার পরিসংখ্যানে কেউ এগিয়ে নেই। সমানে-সমানে টক্কর হবে জহুর-আখতারের মধ্যে।

দুবাগে নৌকার প্রার্থী ও টানা দুবারের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামও স্বস্তিতে নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণা ও কৌশলে অস্বস্তিতে তিনি। তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাক আহমদ (জমিয়ত), কমর উদ্দিন চৌধুরী (আল-ইসলাহ) ও জালাল আহমদ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

কুড়ারবাজার ইউনিয়নে এখনও এগিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের (বিএনপি-স্বতন্ত্র)। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তুতিউর রহমান তোতা (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), জাকারিয়া আহমদ (স্বতন্ত্র), নজমুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) ও বাহার উদ্দিনও (নৌকা) ঘর গোছাচ্ছেন। তবে সার্বিক বিবেচনায় কুড়ারবাজারে নৌকার অবস্থা খুব একটা সুবিধাজনক নয়।

মাথিউরায় নৌকার প্রার্থী আমান উদ্দিনের সঙ্গে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন কছির আলী আব্দুর রব (স্বতন্ত্র)। তাদের মধ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া নিয়ে কঠিন হিসাব চলছে। ভোটাররাও দুজনকে নিয়ে মুখ খুলছেন না।

তিলপাড়ায় নৌকার প্রার্থী এমাদ উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান (বিএনপি) বেশ ফুরফুরে অবস্থায়। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিবেকানন্দ দাস পিছিয়ে থাকলেও নৌকাকে ছেড়ে দেবেন না। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে অসহযোগিতা করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। 

সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা নৌকার বিপক্ষে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। মুড়িয়ায় নৌকার প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য চ্যালেঞ্জ স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল ইসলাম ও ফরিদ আল মামুন (জামায়াত)।

মুল্লাপুরে নৌকার প্রার্থী শামীম আহমদের সঙ্গে টেক্কায় পিছিয়ে নেই বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান (বিএনপি-স্বতন্ত্র) ও আব্দুল করিম। লাউতায় নৌকার প্রার্থী এমএ জলিল। তিনিও নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোওয়ার হোসেনের (জামায়াত) কারণে। আসন্ন এ নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন নৌকার প্রার্থী এমএ জলিল।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার