• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও মাধবপুরের মঈনুল পদ্মাসেতু দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির হিংসা হচ্ছে বড়লেখায় হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে বালি উত্তোলন না করার দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন বিশ্বনাথে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী
৩৭

রেস্টুরেন্টের বিল পুরুষরাই বেশি দেয় কেন?

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২২  

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পরে পুরুষদেরকেই বিল দিতে দেখা যায়। ছোট থেকেই আমরা এমনটা দেখে অভ্যস্ত। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে যখন কোনো জুটি খেতে যায়, খাওয়া শেষে বিলটা পুরুষটিই দিয়ে থাকেন। এমনকি ওয়েটারকেও বিলের কাগজটি পুরুষটির হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।
যদিও এখন অনেক নারীকেই বিল দিতে দেখা যায়। তবে আশেপাশের লোকজন ব্যাপারটি ভালো চোখে দেখেন না। মনে হয় না জানি কি বড় অন্যায় করে বসেছেন ওই নারী। এর মূল কারণ হচ্ছে আমরা সবসময় পুরুষদের বিল দিতে দেখে অভ্যস্ত। তাই নতুনত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে যত কষ্ট। 

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই নিয়ম? যদি পুরুষটি প্রতিষ্ঠিত আর নারীটি শিক্ষার্থী হয়, তবে কারণটা বোঝাই যায়। কিন্তু দুজনেই যদি বেকার বা দুজনেই যদি উপার্জনক্ষম হয়, তবুও ছেলেটি কেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিল দিয়ে থাকে? চলুন জেনে নেয়া যাক এর কিছু সম্ভাব্য কারণ-

স্বভাবসুলভ কর্তৃত্ব

সামাজিক এবং প্রাকৃতিকভাবে পুরুষদের স্বভাবে কর্তৃত্ব দেওয়ার কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। সেই চর্চাই তারা সব জায়গায় ধরে রাখতে চায়। দুজনে খেতে গিয়ে প্রেমিকা বিল দেবে, এতে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখা কঠিন হতে পারে বলে মনে হতে পারে। তাই নিজের আয় থাকুক বা না থাকুক, তারা চায় না যে প্রেমিকা বিল দিক। তবে কিছু পুরুষ থাকে যারা নারীদের টাকা খরচ করতে পছন্দ করে, তারা যে খুব উদারমনা এমনটাও নয়। আসলে তারা কঞ্জুস প্রকৃতির বলে অন্যের টাকায় খেতে ভালোবাসে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী।

নারীদের কম আত্মনির্ভরশীলতা

নারীরা বিল কম দেওয়ার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে তাদের আত্মনির্ভরশীলতা না থাকা বা কম থাকা। এই আত্মনির্ভরশীলতা যে শুধু উপার্জন করলেই সৃষ্টি হয়, তা কিন্তু নয়। অনেক চাকুরিজীবী বা ব্যবসায়ী নারীও বিল দেওয়ার জন্য ওয়ালেট বের করতে অভ্যস্ত নয়। আসলে এই সাহসই তাদের মনে থাকে না। আর এই সাহস না থাকাই হলো আত্মনির্ভরশীলতার অভাব। তারা ধরেই নেয় যে, সঙ্গী পুরুষটি বিল দিতে বাধ্য, তারা নয়।

প্রচলিত ধারণা

পুরুষরাই কেন বিল দেবে, এর আরেকটি কারণ হলো প্রচলিত ধারণা। নারীরা বড় হতে হতে এমনটা দেখে, পুরুষও এমনটাই দেখে বড় হয়। যে কারণে তাদের দুজনের মনেই এই ধারণা জন্মায় যে, এমনটাই হতে হবে। আর সেই ধারণার কারণেই পুরুষরা বিল দিয়ে যায়, নারীরা তা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখে।

ইগো ধরে রাখা

পুরুষরা মনে করে, প্রেমিকার টাকায় বিল দিলে সেটি তার ইগো নষ্ট করতে পারে। নারীরা মনে করে, একজন সুন্দরী নারী পুরুষটিকে সঙ্গ দিচ্ছে এই কি যথেষ্ট নয়? এর সঙ্গে বাড়তি খরচ হিসেবে বিল গুনতে হলে সেটি তারা নিজের অযোগ্যতা বলে মনে করে। তার বান্ধবীদের প্রেমিকও হয়তো একইভাবে বিল দিয়ে থাকে। তারা এমনটাই দেখে এবং শিখে অভ্যস্ত, এর থেকে বাইরে বের হতে পারে না।

অন্যান্য

হতে পারে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা, নিজের ভালোবাসা কতটা খাঁটি তা জানানোর চেষ্টা, হতে পারে আরো নানা কারণ। তবে দুজন মানুষ যখন সম্পর্কে জড়ায়, তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও চমৎকার হওয়া উচিত। পরস্পরের সামর্থ্য বুঝে তবেই প্রত্যাশা করা উচিত। শুধু অর্থ উপার্জনই নয়, মানসিক সামর্থ্যও অনেক বড় বিষয়। যারা এভাবে পরস্পরের জন্য ভাবে, তাদের সম্পর্ক সহজে নষ্ট হয় না।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার