• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তাহিরপুরে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে নৌকার একক প্রার্থী সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের হুশিয়ারি! নিখোঁজের দু’দিন পর রোমানার লাশ মিললো নদীতে শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ পরীক্ষার্থীদের হলে পৌঁছে দিচ্ছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ

করোনায় বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ায় মৃত্যু লাখ ছাড়াল

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২১  

ইন্দোনেশিয়ায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হিসাবে করোনাভাইরাসে ১ হাজার ৭৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মুসলিমপ্রধান দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬৩৬।

গত জুনের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়ায় করোনার অতি সংক্রামক ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়। এরপর থেকে করোনার দাপটে ধুঁকছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি। সরকারি হিসাবে ইন্দোনেশিয়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপকভাবে সংক্রমণ বেড়েছে জুলাইয়ের শুরু থেকে। এরপর থেকে মৃত্যু হয়েছে ৩০ হাজার ১০০ জনের। মৃত্যু বাড়ায় দেশটিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে হতাশা বেড়েছে। বিশেষ করে টিকাদানে ধীরগতির কারণে। এ ছাড়া টিকাবিরোধী ও করোনা নিয়ে অপপ্রচারকারীদেরও দুষছেন কেউ কেউ।

রাজধানী জাকার্তার বাসিন্দা রমি স্টেফানাস (৩৯) গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘বেঁচে থাকা ও মৃত্যু জীবনেরই অংশ। কিন্তু আমি মনে করি, এটা (মৃত্যু) কমানো যেত যদি সরকার করোনা মোকাবিলায় আরও দায়িত্বশীল হতো।’

স্টেফানাসের মতে, যেসব এলাকা আক্রান্ত হয়েছে, সেগুলো বাছাই করে ব্যবস্থা নিলে ডেলটা ধরনের বিস্তৃতি ধীরগতির করা যেত। কিন্তু এ বিষয়ে সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার। ফলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

স্টেফানাস বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। কারণ, সরকার এটার (বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন) ক্ষেত্রেও কঠোর নয়। তারা কিছু রাস্তা বন্ধ করেছে, কিছু পুলিশ মোতায়েন করেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে লোকজনকে চলাচল করতে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত লোকজন কর্তৃপক্ষকে বোকা বানাচ্ছে।’

স্টেফানাস করোনা–সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা নিয়েও উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার অনেকে এই ভাইরাসকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন না। তাঁরা মনে করেন, এটাকে বড় করে দেখানো হচ্ছে।

দক্ষিণ সুমাত্রার বাসিন্দা অ্যারি সুশান্তও (৫০) একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, যাঁরা মহামারিকে স্বীকার করতে চাননি, তাঁরাই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাঁদের কারণেই এখন মৃত্যু বাড়ছে।

চিকিৎসাসেবা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে বলেছেন, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। এখন বাড়িতেই শত শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব লিয়া পার্তাকুসুমা বলেছেন, পরিস্থিতি এখন এমন যে রোগীদের এসে সরাসরি আইসিইউ পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেকেই জরুরি বিভাগে অপেক্ষা করতে চান না। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সংকট তীব্র হওয়ার কারণে বাড়িতে অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানো হচ্ছে। ফলে তাঁরা নিজেরাও ঝুঁকিতে পড়ছেন। রোগীর পরিস্থিতি গুরুতর হলেই প্যারামেডিকেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ১ জুলাই থেকে মাসব্যাপী বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করে ইন্দোনেশিয়া সরকার। গত মাসে বিধিনিষেধ জোরদার করার পর জাভা, বালিসহ কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণ কমতে দেখা যায়। তবে সরকার পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে টিকাদান কার্যক্রমও জোরদার করেছে সরকার। এ ছাড়া মেডিকেল অক্সিজেন উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশজুড়ে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের কাজও চলছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

তবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মৃত্যু বাড়তে থাকায় সুশান্তের মতো অনেকের মধ্যেই হতাশা বাড়ছে। সুশান্ত বলেন, ‘প্রতিদিন এত মানুষের মৃত্যুর খবরে আমরা সত্যিই কষ্ট পাচ্ছি এবং হতাশ হয়ে পড়ছি। আমার নিজের এলাকা বান্দার লাম্পাংয়ে প্রায় প্রতিদিন সকালেই গ্রামের মসজিদ থেকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হচ্ছে।’

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার