• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৭ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
শ্রীমঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ বাংলার মানুষের কথা ভেবেই দেশে এসেছি, পালাতে নয়: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালিত সিলেটে ভারতীয় চোরাই চিনিসহ কারবারি গ্রেফতার শাবিপ্রবিতে শূন্য আসন পূরণে ফের ডাকা হবে শিক্ষার্থী হবিগঞ্জে দুদকের মামলায় ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে এই সরকারের আমলে মানুষ বিচার পেয়েছে: স্পিকার
২৯

চোখের পানি বোতলে সংরক্ষণ করাই যেন জীবনের সব

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

ঐতিহাসিক কিছু তথ্য অনুসারে, ‘টিয়ার ক্যাচার’ (যে বোতলে চোখের জল রাখা হতো) এর ব্যবহার প্রায় তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো, প্রাচীন রোমেও এটির বেশ প্রচলন ছিল। এই বোতল শোক/ দুঃখের পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হত। যখন সেই বোতলের চোখের পানি বাষ্পীভূত হয়ে একেবারে উড়ে যাবে, এর মানে হলো যে ব্যক্তির দূর্ঘটনা বা মৃত্যুর জন্য শোক করা হচ্ছিল। তাকে নিয়ে শোক/ দুঃখ করার সমাপ্তি হয়েছে।

 

টিয়ার ক্যাচার

টিয়ার ক্যাচার

‘টিয়ার ক্যাচার’ এর ব্যবহার মাঝখানে শতবছর ধরে অপ্রচলিত থাকলে তা ভিক্টোরিয়ান যুগে এসে পুনরায় প্রচলন শুরু হয়। সেসময় বেশিদিন শোক পালনের জন্য অনেকে টিয়ার দীর্ঘ সময়ের জন্য কালো পোশাক পরিধান করতো। মৃত ব্যক্তির জন্য শোক পালন করার সময় তারা সূক্ষ্ণ কাঁচের বোতল ব্যবহার করতো। তারা শোক পালনের সময় মৃত ব্যক্তির জন্য যতটুকু চোখের পানি ফেলতো সেটাকে সেই কাঁচের বোতলে রেখে দিতো। এই বোতলটি সে সময় মানুষজনের কাছে ‘টিয়ার ক্যাচার’ নাম ছাড়াও ‘ল্যাক্রিমেটরি’ নামে বেশ প্রচলিত ছিল।

 

সেসময় বেশিদিন শোক পালনের জন্য অনেকে টিয়ার দীর্ঘ সময়ের জন্য কালো পোশাক পরিধান করতো

সেসময় বেশিদিন শোক পালনের জন্য অনেকে টিয়ার দীর্ঘ সময়ের জন্য কালো পোশাক পরিধান করতো

ভিক্টোরিয়ানরা ছাড়াও, প্রাচীন মিশর এবং রোমের বাসিন্দারাও টিয়ার বোতল ব্যবহার করত। তখন প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, যে ব্যক্তির চোখের পানি বেশি পরিমাণ হবে এর মানে হলো মৃত ব্যক্তি বেঁচে থাকাকালীন তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিছু ‘আমেরিকার গৃহযুদ্ধের’ গল্পেও উল্লেখ করা হয়েছে, যে যুদ্ধে যাওয়া সৈন্যদের কিছু স্ত্রী ‘টিয়ার ক্যাচার’ বোতলে তাদের চোখের পানি জমাতেন যতদিন না তাদের স্বামীরা ঘরে ফিরে আসে। আর যদি স্বামী যুদ্ধে মারা যেত, যখন বিধবা তাদের মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীতে স্বামীর কবরে তার চোখের পানি ছিটিয়ে দিতো।

 

বছরের পর বছর ধরে, কিছু ইতিহাসবিদ কাঁচের বোতলগুলোতে আসলেই অশ্রু ছিল কিনা তা নিয়ে তারা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন

বছরের পর বছর ধরে, কিছু ইতিহাসবিদ কাঁচের বোতলগুলোতে আসলেই অশ্রু ছিল কিনা তা নিয়ে তারা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন

বছরের পর বছর ধরে, কিছু ইতিহাসবিদ কাঁচের বোতলগুলোতে আসলেই অশ্রু ছিল কিনা তা নিয়ে তারা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। অনেকেই এই ব্যাপারগুলো সহজভাবে নিতে পারেন না। সত্যি বলতে ‘টিয়ার ক্যাচার’ আসলেই চোখের পানি রাখার জন্য ব্যবহার হতো কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ অবশ্যই রয়েছে। এই বোতলগুলোতে রাসায়নিক পরীক্ষা করে, কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেছেন যে বোতলগুলোতে সুগন্ধি রয়েছে, যদিও সে সব বিজ্ঞানীরা এই সত্যটি অস্বীকার করেছেন যে সেগুলো চোখের পানি সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

 

এই বোতলগুলো সম্পর্কে সে সময়কার লেখা কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথি পাওয়া যায় না

এই বোতলগুলো সম্পর্কে সে সময়কার লেখা কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথি পাওয়া যায় না

এই বোতলগুলো সম্পর্কে সে সময়কার লেখা কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথি পাওয়া যায় না। বর্তমানে আমরা জানি তা হয়তো অর্ধসত্য বা পুরোপুরি সত্য কিংবা অন্য কিছু। ভিক্টোরিন যুগে ‘টিয়ার ক্যাচার’ এর ব্যবহার সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহের জায়গা থাকলেও, এটি নিয়ে সন্দেহ নেই যে ভিক্টোরিয়ান যুগে বোতলগুলোর বেশ গুরুত্বপূর্ণতা ছিল।


সূত্র:  হিস্ট্রি ডট কম, উইকিপিডিয়া, অ্যানসিয়েন্ট হিস্ট্রি

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার