• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
নেই বৈধ কাগজ, বন্ধ ৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারের খাদ্য সহায়তা পেল সিলেটের ১৩ হাজার পরিবার শাহজালাল মাজারে ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব ১২ ঘণ্টায় ৭ নবজাতকের জন্ম! জাফলং গিলছে বালুখেকোরা, অভিযান-জরিমানা সেমিফাইনালে মাধবপুর বালিকা দল
২৫

মমতাকে দেখিয়ে বিধানসভায় ভোট টানার চেষ্টা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২২  

দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে মোট সাত দফায় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০ মার্চ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ দিকে নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিপদ বাড়ছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির। একাধিক মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক বিজেপি ছেড়ে গেছেন। সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে যোগী আদিত্যনাথ তার মসনদ ধরে রাখতে পারবেন কি-না তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তরপ্রদেশের এই নির্বাচনে বিজেপিকে হারানো কার্যত স্বাধীনতা পাওয়ার চেয়েও বেশি কিছু হবে বলে মন্তব্য করেছেন পিডিপি নেত্রী ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। আবার বিজেপির বিরোধী শক্তি হিসেবে নির্বাচনি প্রচারে উত্তরপ্রদেশ যাবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

নির্বাচনে বিজেপির জন্য সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি (সপা)। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি লখনৌতে সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে যৌথ ভার্চুয়াল সভা করবেন পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সমাজাবাদী পার্টির নেতা কিরণময় নন্দ জানান, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে কোনো আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না বলে তাকে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব আসনেই সপাকে সমর্থন দেবে তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন দিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি।

কিরণময় নন্দ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নন, শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী নন, বাংলায় ২০২১ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় মুখ হয়ে উঠেছেন। আমরা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে একসঙ্গে হারাতে চাই, মানুষকে এই বার্তা দেওয়াই লক্ষ্য।

উত্তরপ্রদেশে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সমাজবাদী পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলার নির্বাচনে মমতার সাফল্যে বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। তিনি এই রাজ্যে প্রচারে গেলে আমাদের কর্মীরা তো বটেই, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষও উদ্বুদ্ধ হবেন।

মমতার তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই বলে এসেছে, যে রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে যারা শক্তিশালী, তাদেরই সমর্থন করবে তারা।

এ দিকে ভোটের আগে টাইমস নাউ যে সমীক্ষা চালিয়েছে তাতে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টিসহ বাকিদের পেছনে ফেলবে যোগীর দল। সমাজবাদী পার্টির জোট পেতে পারে, ১৩৬ থেকে ১৫১টি আসন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস ভোটে ছয় থেকে ১১টি আসন পেতে পারে।

হাই ভোল্টেজ এই বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদ ঘিরেও হয়েছে সমীক্ষা। টাইমস নাউয়ের ওপিনিয়ন পোল বলছে, যোগী আদিত্যনাথ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তার পক্ষে ভোট গেছে ৫৩.৪ শতাংশ।


স্বাধীনতা পাওয়ার চাইতেও বেশি

পিডিপি নেত্রী ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি মনে করেন, দেশে কোথাও কোনো নির্বাচন এলেই বিজেপির আওরঙ্গজেব, বাবরকে আক্রমণ করার কথা মনে পড়ে। শেষ পাঁচ বছরে উত্তরপ্রদেশে কোনো উন্নয়ন তারা করতে পারেনি। এবারে আমাদের সবার সামনে সুযোগ এসেছে যে, আমরা বিজেপিকে উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারব। আর যদি আমরা এই কাজটা করতে পারি তাহলে তা ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা পাওয়ার চেয়েও বড় আজাদি হবে।

তার মতে, এই পাঁচবছরের উত্তরপ্রদেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য একটা হাসপাতালও বানাতে পারেনি বিজেপি। শুধু বাইরের মানুষদের নিয়ে এসে সেখানে জায়গা ও কাজ দিচ্ছে এবং সেটাকেই উন্নয়ন বলে চালানোর চেষ্টা করছে। আমি ওদের (বিজেপিকে) জিজ্ঞেস করেছি- কোথায় উন্নয়ন হয়েছে দেখাও? সে সব কিছুই করেনি ওরা উল্টো দেশের ভিত্তি যে ধর্মনিরপেক্ষতা সেটাকেই নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। হিন্দু মুসলিম বিভেদ বাড়াচ্ছে। তাই ওদের সরাতে পারলে তা স্বাধীনতার চেয়ে বড় জিনিসই হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার