• মঙ্গলবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৮

  • || ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
চুনারুঘাটে ইউপি সদস্যের মৃত্যুতে বিমান প্রতিমন্ত্রীর শোক আদালত কর্তৃক সিলেট প্রেসক্লাবের ভোটার তালিকা ও নির্বাচন স্থগিত শাবিতে ১২তম জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে বসছে ‘এক্সেল লোড কন্ট্রোলার’ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান হবিগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জে ৫ হাজার কৃষক পেলেন সরকারি প্রণোদনা

ইরাকে হামলা চালাতে মিথ্যা গল্প সাজান তিনি

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২১  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কলিন পাওয়েলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে তার মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে পরিবার। তাকে টিকার পূর্ণডোজ দেওয়া হয়েছিল।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অধীন ২০০১ সালে প্রথম আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন তিনি। ইরাকযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে তিনি সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।-খবর আলজাজিরা ও বিবিসির

বার্লিন দেয়ালের ধ্বংস, ১৯৮৯ সালে পানামায় মার্কিন আগ্রাসন, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা, পরবর্তীতে ২০০১ সালে আফগানিস্তান ও ২০০৩ সালে ইরাকযুদ্ধের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন।

কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, জর্জ এইচডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটনের আমলে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন সামরিক প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, যখন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধাচারণ করা হচ্ছিল, তখন ইরাকে আগ্রাসন চালাতে জনমত আদায়ে মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন তিনি। ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক বিতর্কিত উপস্থাপনায় কলিন পাওয়েল বলেন, ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিশ্বের জন্য আসন্ন হুমকিতে পরিণত হয়েছেন। কারণ তিনি ব্যাপক রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্রের মজুদ করেছেন।

আঠারো মাসের মধ্যে সাদ্দাম হোসেনের পতন ঘটে। কলিন পাওয়েল তখন স্বীকার করেন, ইরাকি নেতার হাতে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রসম্ভার থাকার ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য ভুল ছিল।

তিনি আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছিল তখন। কিন্তু কলিন পাওয়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার স্ত্রী আলমা। যে কারণে পরবর্তীতে আর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন না তিনি।

২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বারাক ওবামাকে সমর্থন দিয়ে নিজ দলের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

পাওয়েল মতবাদের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৯০ সালে, যখন উপসাগরীয় যুদ্ধে তিনি তার রণকৌশল প্রথম ব্যবহার করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন কূটনৈতিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তবেই আমেরিকার সামরিক শক্তি ব্যবহার করা উচিত।

তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন ১৯৯৩ সালে এবং তার আত্মজীবনী লেখা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সময় ব্যয় করেন। এ সময় তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ২০০০ সালে জর্জ ডাব্লিউ বুশ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ করেন।

ইরাক যুদ্ধে সমর্থন আদায়ে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাতে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে তাকে। সেই সময় ক্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্য তার জীবনে একটি কালো দাগ হিসাবে থেকে গেছে।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে এবিসি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কলিন পাওয়েল বলেছিলেন, এটা তখনও ছিল কষ্টকর, এটা এখনও আমাকে কষ্ট দেয়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার