• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
হোটেল গ্র্যান্ড সিলেটের বাবুর্চির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
৪৬

চুয়েটে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম বিজনেস ইনকিউবেটর 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২২  

আইটি উদ্যোক্তাদের গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম বিজনেস ইনকিউবেটর। যার নামকরণ করা হয়েছে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামাল এর নামে। এই ইনকিউবেটর নির্মাণে ব্যয় করা হয় ১১৭.৭ কোটি টাকা। তত্ত্বাবধান করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। 

এ বিষয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক জানালেন, একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছে। এটি তৈরির উদ্দেশ্য হলো দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে সম্মৃদ্ধ করার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সুযোগ আরো অবারিত করা। সর্বোপরি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় প্রত্যাশিত মাত্রা অর্জন করা।

চুয়েটের উপাচার্য ড. মো. রফিকুল আলম বলেন, চুয়েট শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। আইটি ইনকিউবেটরের প্রধান উদ্দেশ্য তথ্য প্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে গবেষণা, একাডেমিক এবং ইন্ডাস্ট্রি সমন্বয় সাধন করার নিমিত্ত দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা। ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ আইটি ইনকিউবেটর অনেক ভূমিকা পালন করবে এই ইনকিউবেটর। 

একনজরে বিজনেস ইনকিউবেটর:

এটি একটি ১০ তলা ডিম্বাকৃতির ইনকিউবেশন ভবন। এর প্রতি ফ্লোর ৫ হাজার বর্গফুট করে মোট ভবনের আয়তন ৫০ হাজার বর্গফুট। নারীদের জন্য রোজি জামাল ও পুরুষদের জন্য শেখ জামাল নামে দুটি চারতলা বিশিষ্ট ডরমেটরি। একেকটি ডরমেটরিতে রয়েছে ৪০টি করে কক্ষ। 

আরো আছে ছয়তলা মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন যার প্রতি ফ্লোর ৬ হাজার বর্গফুট করে মোট আয়তন ৩৬ হাজার বর্গফুট। এই ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার মাঝে একটা সেতু বন্ধন সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও এই ভবনে উদ্যোক্তা ও গবেষকদের কাজের সুবিধার্থে একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাব, একটি মেশিন লার্নিং ল্যাব, একটি বিগ ডাটা ল্যাব, অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকবোন, একটি সাব-স্টেশন ও সোলার প্যানেল রয়েছে।

ইনকিউবেশন ভবনের মধ্যে আরো রয়েছে স্টার্টআপ জোন, আইডিয়া বা ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক কোলাবোরেশন জোন, ব্রেইনস্ট্রর্মিং জোন, ই-লাইব্রেরি, ডাটা সেন্টার, রিসার্চ ল্যাব, বঙ্গবন্ধু কর্নার, প্রদর্শনী সেন্টার, ভিডিও কনফারেন্সিং কক্ষ এবং সভাকক্ষ।

এর বাইরে ব্যাংক ও আইটি ফার্মের জন্য পৃথক কর্নার, অত্যাধুনিক সাইবার ক্যাফে, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, রিক্রিয়েশন জোন, মেকার স্পেস, ডিসপ্লে জোন, মিডিয়া কাভারেজ জোন, নিজস্ব পার্কিং সুবিধা রয়েছে ইনকিউবেশন ভবনে।

মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবনে ২৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার অডিটোরিয়াম, ৩০ জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক ৮টি কম্পিউটার ল্যাব ও কাম সেমিনার কক্ষ রয়েছে। আর ডরমেটরি ভবনের একটি পুরুষ ও অন্যটি নারীদের জন্য। প্রতিটি ডরমেটরিতে ৪০টি কক্ষ রয়েছে।

এরআগে গত ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর উদ্বোধন করেন। বুধবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থেকে ইনকিউবেটর উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অতঃপর শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর সম্পর্কিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনী শেষে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার