• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও মাধবপুরের মঈনুল পদ্মাসেতু দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির হিংসা হচ্ছে বড়লেখায় হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে বালি উত্তোলন না করার দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন বিশ্বনাথে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী
২২

গবিতে সেমিস্টার ফি বৃদ্ধি, যা বলছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২২  

দীর্ঘদিনের গুঞ্জন সত্যি করে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ছয়টি বিভাগে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ হলো ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), বায়োকেমিষ্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি), ফার্মেসী, ইংরেজি ও আইন। সর্বোচ্চ ১ লাখ বৃদ্ধি করা হয়েছে ভেটেরিনারিতে এবং সর্বনিম্ন ২৫ হাজার আইন বিভাগে।

ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। বিভাগগুলোতে ল্যাবরেটরি সুবিধা অপ্রতুল। অন্যান্য সুবিধাগুলোও ঠিকঠাক মতো নেই। এমন অবস্থায় ফি বৃদ্ধি অযৌক্তিক।

তবে বর্ধিত ফিও অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক কম, সেটা মানছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে তারা জানান, এটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়। সেজন্য ফি কম। নিম্ন-মধবিত্তের কথা চিন্তা করে সবসময় ফি অন্যদের চেয়ে অনেক কম রাখা হয়েছে। কিন্তু এভাবে বৃদ্ধি করাটা ব্যবসায়িক চিন্তার ইঙ্গিত বহন করে।

ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে, এমন বিভাগগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মেডিক্যাল এবং প্রকৌশল বিষয়ক কয়েকজন বিভাগীয় প্রধান জানান, এখন সময় পাল্টেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক বিষয়গুলো অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। ল্যাবের যন্ত্রপাতি, উপকরণসমূহের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যার কারণে ফি বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। কর্তৃপক্ষ আরও বেশি বৃদ্ধির কথা বলেছিল, তবে আমরা তাতে সায় দেইনি।

ফি বৃদ্ধির বিষয়ে আরেকজন বিভাগীয় প্রধান সহমত প্রকাশ করলেও শিক্ষার মান উন্নয়নের জোর দেন তিনি। তার মতে, ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে। তবে এই বর্ধিত ফি যেন শিক্ষার মান উন্নয়নেই ব্যবহার হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ব্যবহারিক বিষয় এবং ল্যাব সংশ্লিষ্ট কাজ তুলনামূলক অনেক কম থাকার পরও ইংরেজি ও আইন বিভাগের ফি বৃদ্ধিতে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আক্তার-উল-আলম বলেন, 'দুই পক্ষের সম্মতিতেই এটা করা হয়েছে। আমরাও একটা বলেছি, তারাও একটা বলেছেন। বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।'

ঠিক কী কারণে ফি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি শিক্ষক বৃদ্ধি এবং তাদের বেতনের বিষয়টি ছাড়া আর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ এস. তাসাদ্দেক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম থেকেই নিম্ন-মধবিত্তের বিষয়টি মাথায় রেখেই ফি নির্ধারণ করেছে। বর্তমান সবকিছু বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে ফি কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানদের সুপারিশেই এটা করা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের মোট আসন সংখ্যাও তুলনামূলক অনেক কম। এত কম আসন নিয়ে সবকিছু চালানো বেশ কঠিন। তবুও আমরা সাধ্যের মাঝে রাখার চেষ্টা করেছি।' আরও কয়েকটি বিভাগে বাড়ানো যেত। কিন্তু সেখানে ছাত্রই ভর্তি হয় ৮/১০ জন। এভাবে তো চলে না।'

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার