• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা শমসের বক্স মারা গেছেন সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বড়লেখায় সম্প্রীতি সভা চার মাসেও হাকালুকিতে বৃক্ষ নিধন তদন্তের অগ্রগতি নেই দক্ষিণ সুরমার কলেজছাত্র রাহাত হত্যার ঘটনায় মামলা ‘আঁধার কেটে আলো আসবেই’ স্লােগানে সিলেটে মোমবা‌তি প্রজ্জ্বলন সিলেটের ‘শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের আর বিদেশ যেতে হবে না: সিলেটে মোমেন

হাসপাতালে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১  

হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয় মিডফোর্ড হাসপাতালে। তবে শারীরিক গুরুতর কোন সমস্যা না থাকায় আবারও তাকে থানায় নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ডিউটি অফিসার এএসআই অলিন্দ্র তালুকদার। 

তিনি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে ঢাকা মেডিকেল পরে সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। এসিডিটির চাপ ছাড়া তার শরীরে তেমন কোনো সমস্যা পাননি চিকিৎসকরা। তাই রাতেই তাকে আবারও থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে এখন তিনি ভালো আছেন। 

এর আগে ‍দুপুরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিকে, দুপুর ২ টার দিকে আসামিদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক ওয়াহিদুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এদিকে ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুরনো গ্রাহকদের অল্প পণ্য ফেরত দিয়ে ব্যবসা করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। রাসেল গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাভারে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন নিজের নামে। এমডি ও চেয়ারম্যান আরাম-আয়েশে থাকলেও শেষদিকে কর্মচারীদের ঠিকমতো বেতনও দিত না লোকসানি এ প্রতিষ্ঠান। 

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ব্যবসায়ীক বিক্রি বাড়াতে গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত চাহিদা তৈরি হয় এ ধরনের পণ্যকে বেছে নেয় ইভ্যালি। যেমন- মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোটরবাইক, গাড়ি, গৃহস্থালিপণ্য, প্রসাধনী, প্যাকেজ ট্যুর, হোটেল বুকিং, জুয়েলারি, স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী ও ফার্নিচার ইত্যাদি। এসব পণ্যের মূল্য ছাড়ের ফলে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের বিশাল আকারে সায় (লায়াবেলিটিস) তৈরি হয়। 

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার রাসেল ও তার স্ত্রীর ব্যবসায়িক অপকৌশল ছিল নতুন গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে পুরাতন গ্রাহক ও সরবরাহকারীর দায়ের (লায়াবেলিটিস) অল্প অল্প করে পরিশোধ করা। অর্থাৎ ‘সায় ট্রান্সফার‘ এর মাধ্যমে দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছিল ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হত, দায় (লায়াবেলিটিস) তত বাড়ত। গ্রেপ্তার রাসেল জেনে শুনে এ নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বুধবার  (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান থানায় প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও চেয়ারম্যানকে আসামি করে প্রতারণার মামলা করেন এক গ্রাহক। অভিযোগ আছে, গ্রাহক ও বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানের ৫৪২ কোটি ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮২ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইভ্যালি। 

২০১৬ সালে প্রথমে অনলাইনে ডায়াপার বিক্রি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন রাসেল। ২০১৭ সালে এই ব্যবসা করতে গিয়ে বড় একটি অনলাইন প্লাটফর্মের কথা চিন্তা করেন তিনি। সেই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন দেশীয় ই-কমার্স কোম্পানি ‘ইভ্যালি’। প্রায় ১৭ লাখ নিয়মিত ক্রেতা, ২০ হাজারের বেশি বিক্রেতা নিয়ে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতে স্বল্প সময়ে প্রথম সারিতে উঠে আসে ‘ইভ্যালি’। 

বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের আকর্ষণ দিয়ে ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে সফল হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন গ্রাহক ভোগান্তির শীর্ষে অবস্থান করছে। ক্যাশব্যাক দীর্ঘদিন কোম্পানির হিসাবে পড়ে থাকলেও জটিল নিয়মের কারণে গ্রাহক তা ক্যাশ (নগদায়ন) করাতে পারে না। ক্যাশব্যাক অফারের সঙ্গে আরও টাকা যোগ করে তবেই সে টাকা দিয়ে নতুন করে পণ্য কিনতে হয়। 

মোটরসাইকেল, গাড়ি, মোবাইল, ঘরের সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রের মতো উচ্চমূল্যের পণ্যে লোভনীয় ছাড় দেয় ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠার শুরুতে সাইক্লোন, আর্থকোয়েক ইত্যাদি নামে তারা ক্রেতাদের ১০০ শতাংশ ও ১৫০ শতাংশ ক্যাশব্যাকের মতো অত্যন্ত লোভনীয় অফার দেয়। ইভ্যালির ব্যবসার এ কৌশলের ফলে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি অনেক সমালোচনারও সৃষ্টি হয়। 

বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের আকর্ষণ দিয়ে ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে সফল হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন গ্রাহক ভোগান্তির শীর্ষে। 

মোহাম্মদ রাসেল রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১১ সালে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি নেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন রাসেল। ৬ বছর পর ঢাকা ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার