• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও মাধবপুরের মঈনুল পদ্মাসেতু দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির হিংসা হচ্ছে বড়লেখায় হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে বালি উত্তোলন না করার দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন বিশ্বনাথে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী
৩৮৭

সেই দুই ভাইয়ের কাছে মিষ্টি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১ মে ২০২২  

রাজশাহীর বাঘায় পিতার ফুটপাতের সেই মিষ্টির দোকানের দুই ভাইয়ের কাছে মিষ্টি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিতার ফুটপাতের মিষ্টির দোকানে বিসিএস ক্যাডারসহ দুই ভাই শিরোনামে ৩০ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ হয়।


এরপর রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মাধ্যমে সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানার পর ফুটপাতের সেই মিষ্টির দোকানে দুই ভাইয়ের কাছে মিষ্টি চেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে লিখেছেন, আমানুল হক আমান তোমার করা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছি। তিনি আমাকে যা বলেছেন তা হলো, ‘দুই ভাইকে বিশেষ পুরস্কার দেয়া উচিত। কাজের মূল্যায়ন করছে। আমার অভিনন্দন জানাবে। আমার জন্য ওই দোকান থেকে মিষ্টি আনবে।’

তিনি আরও লেখেন- ‘এটা ফেসবুকে দিলাম কারণ, সবাইকে কাজে তার পরিবারকে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করা উচিত। এখন আমার তো কাজ বেড়ে গেল ! তোমারও দায়িত্ব বেড়ে গেল !!! সুন্দর প্রতিবেদনটির জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’


 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আড়ানী পৌর বাজারের চাল হাটায় পিতার ফুটপাতের এই মিষ্টির দোকানে বসে দুই ভাইকে মিষ্টি বিক্রি করতে দেখা গেছে। তারা দুই ভাই আড়ানী উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজে থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর অমিত কুমার পাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

পরে তিনি ৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে সান্তাহার সরকারি কলেজে যোগদান করেন। এই কলেজ থেকে তিনি ১৬৪ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে দেশ সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

এদিকে মৃনাল কুমার পাল মিঠন এমবিবিএস শেষে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছে। তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারের স্বর্গীয় হিতেন কুমার পালের নাতী ও বাবু উত্তম কুমার পাল ও বাসনা রানী পালের ছেলে। তাদের বাবা উত্তম কুমার পাল আড়ানী বাজারের ফুটপাতের ক্ষুদ্র মিষ্টি বিক্রেতা। মা গৃহিণী।

বোন মিতা রানী পাল সম্প্রতি সরকারি একটি অফিসের অফিসার পদে যোগদান করেছেন। তারা দুই ভাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে পিতার ফুটপাতের মিষ্টির দোকানে বসে দোকানদারি করেন।

এ বিষয়ে অমিত কুমার পাল বলেন, আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবা ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করে দুই ভাই ও এক বোনকে মানুষ করেছেন। আমি ৩৫তম বিসিএস শিক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি কলেজে যোগদান করেছি। সেখান থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশ সেরা হয়েছি। আমরা কোনো কিছুকে খাটো করে দেখি না। সুযোগ পেলেই দুই ভাই বাবার ফুটপাতের দোকানে বসে সহযোগিতা করি।

তিনি বলেন, আমাদের এক বড় ভাই আমাদের অজান্তে মিষ্টির দোকানের ছবি তুলে সংবাদ প্রকাশ করেন। তারপর থেকে সংবাদটি যুগান্তরে প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিষয়টি আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানার পর ফুটপাতের সেই মিষ্টি চেয়েছেন। সুযোগ পেলে আমাদের নিজস্বভাবে তৈরি করা মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চায়।

মৃনাল কুমার পাল মিঠন বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে এসেছি। কিন্তু কি আর করা বাবার ব্যবসা ছোট হলেও রমজান উপলক্ষে দোকানে ভিড় বেড়েছে। বাবা একা মানুষ কোন দিকে যাবে! তাই বাবার অন্য ব্যস্ততায় দোকান সামলাতে দুই ভাই সহযোগিতা করছি। সুযোগ পেলেই সহযোগিতা করি। এদিকে আমাদের কাছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিষ্টি চেয়েছে, সৌভাগ্যের ব্যাপার। সুযোগ পেলে বাবার তৈরি করা মিষ্টি নিয়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দিতে চায়।

পিতা বাবু উত্তম কুমার পাল বলেন, আমার ছেলে মেয়েদের কখনো ভালো প্রাইভেট, ভালো পোশাক, খাদ্য, ঘুমানোর ভালো জায়গা দিতে পারেনি। আমার ও আমার স্ত্রী বাসনা রানীর সার্বিক প্রচেষ্টায় আজ ছেলে ভালো জায়গায় এসেছে। ছেলে বলেছে আমাদের মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মিষ্টি চেয়েছেন। আমি খুব গর্বিত, আমি মিষ্টি দিতে চায়।

এদিকে রোববার সকাল ১০টায় পিতার ফুটপাতের সেই মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, এক ভাই দোকানে বসে মিষ্টি বিক্রি করছেন। আরেক ভাই পাশে বসে ৭৫ বছর বয়সের সুনীল কুমার আচার্যকে প্রেসক্রিপশন করে দিচ্ছেন।

এ সময়  সুনীল কুমার আচার্য বলেন, আমি বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু অসুখ সারে না। মিঠন আসলে তার কাছে থেকে প্রেসক্রিপশন করে নিয়ে ওষুধ খেলে অসুখ ভাল হয়ে যায়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার