• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
নেই বৈধ কাগজ, বন্ধ ৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারের খাদ্য সহায়তা পেল সিলেটের ১৩ হাজার পরিবার শাহজালাল মাজারে ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব ১২ ঘণ্টায় ৭ নবজাতকের জন্ম! জাফলং গিলছে বালুখেকোরা, অভিযান-জরিমানা সেমিফাইনালে মাধবপুর বালিকা দল
৩৪

সেন্টমার্টিনে বিনোদন বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ পর্যটকরা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২২  

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপে পর্যটনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম হচ্ছে এখানে। পর্যটক আগমনকে পুঁজি করে সেখানে চলছে পর্যটক হয়রানি। আদায় করা হচ্ছে জিনিসপত্রের অতিরিক্ত দাম। ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক (টমটম) ও ভ্যান গাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে, মাছ, ভাত, খাবারসহ প্রতিটি পণ্যের দাম দ্বিগুন তিনগুন নেওয়া হচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ পর্যটকদের। এতে করে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণে বিমূখ হচ্ছে।

কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের গৌরব বহনকারী সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাবারসহ পণ্য সামগ্রীর দাম অতিরিক্ত আদায় নিয়ে পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পর্যটন স্পট হিসেবে দাম একটু বাড়তি থাকবে এটিই স্বাভাবিক। এছাড়াও সেন্টমার্টিনে মালামাল আনতে ঘাটে ঘাটে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। তাই বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, টেকনাফ থেকে মালামাল কিনে বোটে তুলতে একবার, জেটিতে টেকনাফ পৌরসভাকে আরেক বার টোল দিতে হয়। সেন্টমার্টিন পৌঁছে জেলা পরিষদের জেটি ঘাটে আরেক দফায় মালামালের টোল দিতে হয়।

টেকনাফের দোকান থেকে কিনে গাড়ি ভাড়া, লেবার চার্জ, টেকনাফ জেটিতে টোল, বোট ভাড়া, সেন্টমার্টিন জেটি টোল, আবার গাড়ি ভাড়া ও লেবার চার্জ সবমিলে যে কোন পণ্যের কেনা দাম দ্বিগুন হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন টেকনাফে জেটি ও সেন্টমার্টিন জেটিতে আদায়কৃত টোলের হার কমানো হলে পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে।

সচেতন মহল বলছেন, পর্যটন শিল্প রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের সেন্টমার্টিনমূখী করতে ব্যবসায়ীদের নানা অনিয়ম রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি। তা না হলে একটা সময় এসে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটকরা।

স্থানীয়রা জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপে আড়াইশ ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক (টমটম) ও ৫০টি ভ্যানগাড়ি চলাচলা করছে। এসব যানের কোন লাইন্সেন নেই। এরআগে ভ্যানগাড়ি মালিক ও চালক সমিতির উদ্যোগে ভাড়ার তালিকা টাঙ্গানো হয়ে ছিল। এখন সেই তালিকাও নেই। ফলে পর্যটকদের কাছ থেকে যে যার ইচ্ছে মতো ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাহাজ থেকে নেমে জেটির পরেই ইজিবাইক ও ভ্যান গাড়ির জটলা। সেই গাড়ি নিয়ে যেখানে যাওয়া হবে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, ১০০ টাকা ভাড়ার কমে কোন ইজিবাইক ও ভ্যান গাড়িতে যাতায়ত করা যায় না। খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ, মুদিরদোকান, শুটকির দোকান, ফার্মেসি, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কাচা মাছের দোকান, সবজির দোকান, পানের দোকান, কোমল পানীয়ের দোকান, হোটেল, মোটেল ও কটেজসহ বিভিন্ন স্থানে গলাকাটা বাণিজ্য চলছে। এতে চরমভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।

বিষয়টি স্বীকার করে সেন্টমার্টিনে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সমিতির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে বার বার তাগাদা দিয়েছি, কিন্তু কার কথা কে শুনে। যে যার মতো দাম আদায় করছে।

ব্যবসায়ীদের এসব অনিয়ম, গলাকাটা বাণিজ্য রোধে প্রশাসন কঠোর নজরদারী করা না গেলে, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক আগমন কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান।

আয়াছুর রহমান বলেন, শুধু খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ গুলোতে নয়, মৌসুমে বেশির ভাগ হোটেল ও কটেজে গলাকাটা দাম আদায় করা হয়। এখনই সময় পর্যটনের প্রসারে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

সেন্টমার্টিনে ভ্যানগাড়ি সমিতির সভাপতি ইসহাক চৌধুরী বলেন, দ্বীপের অভ্যন্তরে কোথায় গেলে কত টাকা নেওয়া হবে তার একটি তালিকা আগে টাঙ্গানো ছিল। এখন সেটিও নেই বলে বেপরোয়া ভাড়া নিচ্ছে ভ্যান চালকরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়ার তালিকা আবারো টাঙ্গানো হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান বলেন, কিছুদিন ধরে শুনে আসছি ব্যবসায়ীরা সব কিছুর দাম বাড়তি নিচ্ছে। তবে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি বেশি দিন হয়নি। আমি এব্যাপারে নজর দিচ্ছি। আস্তে আস্তে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়াও সামনে আইনশৃঙ্খলা মিটিং আছে সেখানেই সব সমস্যার কথা আমি তোলে ধরবো।

এদিকে, সেন্টমার্টিনে যেকোনো ধরণের স্থাপনা গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেগুলো উপেক্ষা করেই গড়ে উঠছে একের পর এক রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল।

পর্যটকদের চাহিদা পূরণে দ্বীপের ভূগর্ভস্থ সুপেয় মিঠা পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এ কারণে নলকূপ থেকে লবণাক্ত পানি আসছে।

এছাড়া পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যত্রতত্র প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা, ভারী জেনারেটর, পাম্প পরিচালনা, পাথর তোলা, সৈকতের বালি অপসারণ- এক কথায় পরিবেশ বিধ্বংসী সব ধরণের কাজই হচ্ছে এই দ্বীপটিতে।

এছাড়া সেন্টমার্টিনের কিছু দূরেই ছেঁড়াদিয়া দ্বীপও রয়েছে পরিবেশগত হুমকির মুখে। এ কারণে সরকারি ওই বিজ্ঞপ্তিতে ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে কোন জলযানে যাতায়াত নিষেধ করা হয়েছে।

এই দ্বীপে রাতে থাকা না গেলেও কাঠের নৌকা এবং স্পিডবোটে করে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক সেদিকেও ছুটে যাচ্ছেন এবং পরিবেশ নোংরা করছেন। এ কারণে দ্বীপটিতে এখনও যে কয়টা জীবিত প্রবাল টিকে আছে, সেগুলো ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার