• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
নেই বৈধ কাগজ, বন্ধ ৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারের খাদ্য সহায়তা পেল সিলেটের ১৩ হাজার পরিবার শাহজালাল মাজারে ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব ১২ ঘণ্টায় ৭ নবজাতকের জন্ম! জাফলং গিলছে বালুখেকোরা, অভিযান-জরিমানা সেমিফাইনালে মাধবপুর বালিকা দল
৩০৬

কেনেন পানি, বিক্রি করেন মাছ

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২১  

জীবন বাঁচাতে ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে কেউ করছেন ব্যবসা, কেউ চাকরি, কৃষি, কেউবা খামারসহ ছোট বড় নানা রকমের কাজ। এরমধ্যে কেউ সফল হয়েছেন আবার কেউ হননি কিন্তু তারপরও চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

জীবনকে সুন্দর ও আনন্দময় করে গড়ে তুলতে দেশীয় পদ্ধতিতে হাঁস এবং  মাছ চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন মো. রুবেল আহমেদ। রুবেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বাসিন্দা। হাঁস ও মাছ চাষে বছরে আয় তার ১২ লাখ টাকার উপর। দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে খুব সহজে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তিনি যেন এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছেন।

রুবেল বলেন, ছোট থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। স্বল্প সময়ে তার সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। রুবেল উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। তার এক ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে।

স্বল্প পরিসরে ২০১৮ সালে তিনি হাঁস পালন দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি বড় আকারে গড়ে তুলেন হাঁসের খামার। এলাকায় পানির অভাব থাকায় বর্তমানে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামে এ হাঁসের খামারটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে তার ঐ খামারে রয়েছে বড় আকারের ১৫ শতাধিক হাঁস। দৈনিক ১১শ’এর উপর হাঁস ডিম দিচ্ছে। যা স্থানীয় বাজারে দৈনিক ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। তাছাড়া রয়েছে পৌর শহরে ৪টি পুকুরও। এরমধ্যে দুটি পুকুরে নিজে মাছ চাষ করছেন আর দুটিতে পানি দেখে বিশ্বাসের উপর মাছ কেনে বিক্রি করছেন। প্রথম বছরই হাঁস ও মাছ চাষে তিনি বাজিমাত করেন।

রুবেল আহমেদ  বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে  বড় আকারের ১৫শ  হাঁস ক্রয় করেন। এক একটি হাঁস প্রায় ৪শ টাকা করে ৫ লাখ টাকার উপর খরচ হয়।  কিছু দিন পালন করার পর খামারে থাকা হাঁস ডিম দিতে শুরু করে।  এক একটি হাঁস ৫-৬ মাস পযর্ন্ত ডিম দেয়। ডিম দেওয়া শেষ হলে ঐ হাঁসগুলো আবার বাজারে বিক্রি করা হয়। এক একটি হাঁস আবার আড়াইশ থেকে ৩শ টাকার মতো করে বিক্রি করা হয়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ও যাবতীয় খরচ বাদে প্রতি মাসে ডিম থেকে আয় হচ্ছে  প্রায়  দেড় লাখ টাকা। তাছাড়া পুকুর থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। 

তার হাঁস খামারে নিজে রাত দিন পরিশ্রম করলেও দেখাশোনার জন্য নিয়মিত ৩ জন শ্রমিক কাজ করছেন। খামারে হাঁসের ছোটোখাটো কোনো সমস্যা হলে নিজেই সমাধান করে থাকেন। বড় কোন রোগ বালাই হলে তাৎক্ষণিকভাবে  স্থানীয় পশু সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন বলে জানান। দৈনিক হাঁসের খাবার ওষুধসহ ৪ হাজার টাকার উপর খরচ লাগে।

রুবেল আহমেদ বলেন, আজ থেকে ১৩ বছর আগে পরিবারের অভব অনটন দূর তিনি প্রবাসে চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় দেশে কিছু করার চিন্তা ছিল তার। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে বাড়িতে এসে কিছু করতে চেষ্টা শুরু করেন। প্রথমেই বড় হাঁস পালন দিয়ে শুরু হয় তার এ ব্যবসা। আয় ভালো হওয়ায় তার সাহস ও মনের জোর বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে বিশাল খামার গড়ে তুলেন। পাশাপাশি শুরু করেন মাছ চাষ ও পুকুরের পানি ক্রয় করে মাছ বিক্রি। 

তিনি বলেন, পুকুরের পানি দেখে আর বিশ্বাসের উপর মাছ কেনা হয়। এক একটি পুকুর ৩-৪ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয়। তবে এতে ভালো লাভ হয়। খাল বিল ও জমিতে পানি থাকলে হাঁস পালন করতে ভালো হয়। পানি উঠা জমিগুলো থেকে ঝিনুক, শামুক, ধানসহ বিভিন্ন প্রকারের খাবার খেয়ে থাকে হাঁসগুলো। তাছাড়া গম, কুড়া, ধানসহ বিভিন্ন প্রকার খাবার দেওয়া হয়। পানি না থাকলে স্থান বদল করা হয়।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা  ডা. মো.কামাল বাশার বলেন, এ উপজেলায় অনেকেই খামার করে হাঁসপালনের মাধ্যমে লাভের মুখ দেখছেন। খামারি ও পালনকারীদেরকে রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার